হোম / আধুনিক মাসায়েল / এস পি সি হালাল নাকি হারাম?

এস পি সি হালাল নাকি হারাম?

এস পি সি হালাল নাকি হারাম? বিষয়টি সম্পর্কে জানার আগে আমাদের জানা দরকার যে, কোন বিষয়ে শরীয়াভিত্তিক মতামত প্রদানের জন্য আগে সে বিষয়ে পূর্ণ অনুসন্ধান একটি জরুরী বিষয়। তা না হলে সমাধান বা মতামত ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। তাই  SPC World Express সম্পর্কে প্রচুর জানা শোনার পরই শরয়ী এই সিদ্ধান্ত প্রদান করা হচ্ছে। তবে দিন দিন spc দ্রুত অগ্রসরমান এবং ব্যাপক আকার ধারণ করছে।

সে ক্ষেত্রে নীতিমালাতে পরিবর্তন আসাটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। অতএব, সামনে আরো পরিবর্তন হলে সেগুলো নাজায়েয বা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণও ভিন্ন হতে পারে। এখনকার সিদ্ধান্ত বর্তমান নীতিমালার আলোকে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যদি তারা শরীয়াভিত্তিক কারবার শুরু করে দেয় তখন তা জায়েয হওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে। কিন্তু তা কোনভাবেই সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। কারণ, এর আগেও তারা বিভিন্ন নামে এই কারবার চালু করেছিল। উলামায়ে কেরাম যখন তাদের সামনে শরয়ী দিক তুলে ধরেছেন তখন তারা তা কোন অবস্থাতেই মানতে রাযি হয়নি।

এস পি সি হালাল নাকি হারাম?

এসম্পর্কে কথা বলার আগে আমাদের জানতে হবে যে, আমরা কিভাবে এসপিসি সম্পর্কে তত্থ সংগ্রহ করেছি। তাহলে এসপিসি সম্পর্কে আমাদের ধারণা আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্।

এস পি সি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ :

প্রথমত: তাদের লেনদেন বিষয়ে কোন ডকুমেন্ট পাওয়া যায় না। তাদের নীতিমালাগুলো সদস্যদেরকে মুখে মুখে শেখানো হয়। বলতে গেলে এখানে তারা চতুরতার আশ্রয় নিয়েছে। কারণ, যে কেউ কোন ব্যবসা চালু করলে তার প্রস্পেক্টাস বা পরিচয় পত্র থাকে। যাতে তার কারবারের আদ্যপান্ত লেখা থাকে। আর এখানে সব কারবার চলে এ্যাপের মাধ্যমে। তাই অনেক খোঁজা খুজির পরও এ বিষয়ে এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস কতৃপক্ষের বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত কোন ডকুমেন্ট পাওয়া যায়নি। তাই এক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহে অনেক বেগ পেতে হয়েছে।

এস পি সি হালাল নাকি হারাম? এ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে যেভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে :

১. এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস এর এমডি আলামীন প্রধান সাহেবের ভিডিও লাইভ।

. পত্রপত্রিকা, সোশাল মিডিয়া ও ইউটিউবে থাকা বিভিন্ন তথ্যাদি থেকে।

. লেনদেন করে বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একাধিক ব্যক্তি থেকে।

. বিভিন্ন সদস্য, রয়েল মেম্ববার, ওয়ান স্টার পদে থাকা একাধিক ব্যক্তি থেকে।

. এসপিসির অ্যাপের ভেতরে থাকা বিভিন্ন তথ্য থেকে।

নিম্নের শিরোনামে আমরা এই প্রবন্ধে আলোচনা করব:

  1. এস পি সি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস কী? what is spc world express?
  2. spc login বা spc একাউন্ট খোলার নিয়ম
  3. spc থেকে ইনকাম
  4. spc থেকে ইনকাম করে ক্যাশ আউট করার পদ্ধতি
  5. শরীয়তের দৃষ্টিতে এসপিসি

এস পি সি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস কী? what is spc world express?

এস পি সি হালাল নাকি হারাম? এটা জানার আগে আমাদের এসপিসি সম্পর্কে আগে পরিচয় জানতে হবে। spc world express ltd শব্দের মূল হচ্ছে ‘সুপার পাওয়ার কমিউনিটি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস লি.’। এর অর্থ হচ্ছে, গতিময় বিশ্বে মহাশক্তির সম্প্রদায়। এতে বুঝাই যাচ্ছে, তাদের মূল লক্ষই হলো, সারা বিশ্বে অতি দ্রুত অগ্রসর হওয়া। কাজেই এর জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ যাতে জন সাধারণ খুব দ্রুত এতে জয়েন করে। হয়েছেও তাই।

বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য মতে বর্তমানে বাংলাদেশে spc world express ltd এর ইউজারের সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি। এটি মূলত: বহু স্তর থেকে আয় করার একটি প্লাটফর্ম। যা কি না নিষিদ্ধ এমএলএম এর প্রধান বৈশিষ্ট। মানবজমিন, বাংলা ট্রিবিউন, সময় নিউজ, যুগান্তর সহ অসংখ্য পত্রিকায় এটিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমএলএম ব্যবসা আখ্যায়িত করা হয়েছে।

মূল বিষয়টাই হচ্ছে, বহু স্তর থেকে আয় করা

তাছাড়া তাদের কারবারের ধরণ থেকেও এটা স্পষ্ট যে, মূল বিষয়টাই হচ্ছে, বহু স্তর থেকে আয় করা। তাদের এই কারবারটি চলে একটি এ্যাপের মাধ্যমে। যা গুগল প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে হয়। এই এ্যাপটি spc world express নামেই পাওয়া যায়। এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস লি. ই-কমার্সের লাইসেন্স নিয়ে ১লা জানুয়ারি ২০২০ এ যাত্রা শুরু করে।

প্রথমে এর তেমন কোন ইউজার ছিল না। কিন্তু এমএলএম পদ্ধতিতে কাজ করায় ৫ মাসের মাথায় তাদের ইউজারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ হাজার। যুগান্তর ৪/১১/২০২০ এর রিপোর্ট অনুযায়ী মাত্র ১০ মাসে ২২ লাখ ছাব্বিশ হাজার ৬৬৮ সদস্যের আইডি থেকে ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

তাদের ব্যবসা পদ্ধতি অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় বাংলাদেশের বাইরেও ১৭টি দেশের বাংলাদেশি প্রবাসী ও বিদেশী ৫ লাখ সদস্য রয়েছে। একই প্রতিবেদন করা হয়েছে সময় নিউজ, বাংলা ট্রিবিউন সহ অসংখ্য পত্রিকায়। আর মানবজমিন ৮/৬/২০২১ ইং রোজ মঙ্গলবার এর রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে এর ইউজারের সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি। ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা ঝুলিতে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম দিকে তথ্য গোপন করে জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফিকে শুভেচ্ছা দূত বানিয়ে ছিল এই কোম্পানি। পরে মাশরাফি কোম্পানির কাজের ধরন জানতে পেরে নিজ থেকেই শুভেচ্ছা দূতের পদ থেকে সরে যান।

মাশরাফি তার স্ট্যাটাসে লেখেন,

‘গত এপ্রিলে আমি এসপিসি ওয়ার্ল্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ছিলাম……….। কিন্তু সম্প্রতি আমি জানতে পেরেছি, তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আমাকে যে ধারণা দেয়া হয়েছিল তাদের ব্যবসার ধরন তা নয়। দুই বছরের চুক্তি থাকলেও দুই মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্কে জানার পরই, আমি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যেই আমি তাদেরকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আমার নাম বা ছবি দেখে বিভ্রান্ত হয়ে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে না জড়াতে’।

এসপিসির আলামীন প্রধান

এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস এর এমডি ও প্রধান হিসেবে রয়েছেন আলামীন প্রধান। তিনি মূলত: ডেসটিনি ২০০০ এর একজন উচ্চ পর্যায়রে টিম লিডার ও প্রশিক্ষক ছিলেন। এমএলএম ব্যবসা ও প্রতারণার দায়ে গত বছরের ৩রা নভেম্বর গ্রেপ্তার হন আলামীন প্রধানসহ ৬ জন। ওই দিন ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত- সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার একে এম হাফিজ আক্তার জানিয়ে ছিলেন, ১১ মাসে ২২ লাখ ২৫ হাজার ব্যক্তিকে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এসপিসি।

ঐ ঘটনায় মামলা হয় এবং আলামীনসহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু দুই মাসের ব্যবধানে জামিনে বের হয়ে আবারো এসপিসির কার্যক্রম শুরু করে দেয়। এসপিসির বাস্তবে কোন ব্যবসা নেই। মূলত: প্রতিদিন ১২০০ টাকা করে দিয়ে যে হাজার হাজার মানুষকে আইডি খোলানো হয় সেই টাকাই ভাগ বাটোয়ারা হয়।

এই হলো মানবজমিন পত্রিকার সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট। আপনি চাইলে এ বিষয়ে এই একই রকম বক্তব্য ও তথ্য খুজে পাবেন অসংখ্য পত্রিকায়। আমাদের অনুসন্ধানও উক্ত কারবার সম্পর্কে পত্রিকাগুলোর রিপোর্টের সাথে হুবাহু মিলে যায়। যার পূর্ণ বিবরণ সামনে আসছে। কিছু দিন আগে অসুস্থার ভান করে দেশ ছাড়ার উদ্যোগ নেয়ার কথাও ছাপানো হয় ১০ জুলাই ২০২১ এর সময় নিউজ পত্রিকায়।

সারকথা হলো :

এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস এর মূল লক্ষই হচ্ছে, খুব দ্রুত মানুষের মধ্যে এর ব্যাপক প্রচলন, অল্প সময়েই সর্বত্র কারবারটি ছড়িয়ে দেয়া। এতে তারা তাদের আগেকার পথেই হেটেছে। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর টোপটিই তারা এবার নতুন নাম দিয়ে চালু করেছে। ই-কমার্সের নামে মূলত: তারা বহু স্তর বিশিষ্ট লাভের লালসায় ফেলে জন সাধারণকে ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

অসংখ্য পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী এটি এমএলএম ব্যবসারই ডিজিটাল সিস্টেম। প্রতিষ্ঠানের প্রধানও নিষিদ্ধ এমএলএম ব্যবসার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এটি এমএলএম কোম্পানির স্বভাবজাত ধর্ম। একটা বন্ধ হলে তারা ভিন্ন নামে আরেকটা চালু করে। আগের লোকেরাই নতুন নামে চালু করে। জাতীয় দলের ক্রিকেটার এ থেকে সরে এসেছেন এবং জনগণকে তাতে অংশগ্রহণ না করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস এর নামে প্রতারণার দায়ে আলামীন প্রধানসহ ৬জন গ্রেপ্তার হন। তারা বিভিন্ন ব্যবসার দাবি করলেও এসপিসির বাস্তবে কোন ব্যবসা নেই। বরং ইউজারদের থেকে ১২০০ টাকা করে যা নেওয়া হয় তাই মূলত: ভাগ বাটোয়ারা হয়, কমিশন দেয়া হয়। এসবই বিভিন্ন পত্রপত্রিকার দেয়া রিপোর্ট।

spc login বা spc একাউন্ট খোলার নিয়ম :

যদি কেউ তাদের সাথে যুক্ত হতে চায় তাহলে spc world express এ্যাপটি ডাউনলোড করে একজন রেফারকারি খুজে বের করতে হয় যে কি না আগে থেকেই তাদের সদস্য হয়ে আছে। এখন তার মাধ্যমে সদস্য হওয়ার পদ্ধতি দুইটি :

এক. বিনামূল্যে সদস্যতা গ্রহণ :

অর্থাৎ, রেফারকারীর মাধ্যমে আইডি ক্রিয়েট করে সে এ্যাপস থেকে কেনাকাটা করতে পারবে। কেনাকাটার পদ্ধতিও স্বাভাবিক লেনদেন থেকে ভিন্ন। পৃথিবীর সকল লেনদেনই সরাসরি নিজে নিজে করা যায়, কোন মাধ্যম ধরতে হয় না। কিন্তু এখানে মাধ্যম ছাড়া কেনাই যায় না। প্রথম তো সরাসরি একাউন্ট ক্রিয়েট করা যায় না কোন মাধ্যম ছাড়া।

অত:পর বিনামূল্যে সদস্যতা নিলে কেনাকাটা করা যায় না রেফারকারী ছাড়া। এখানে এই পদ্ধতিতে কেনাকাটা করার নিয়ম হলো, একাউন্ট ক্রিয়েট করে সে এবার কোন কিছু কিনতে চাইলে রেফারকারীকে নগদ টাকা দিয়ে বলবে তার একাউন্টে ভার্চুয়াল ইউনিট দিতে। অর্থাৎ তাকে প্রথমে ইউনিট কিনতে হবে। এসব ইউনিট দিয়ে সে এবার ক্রয় করতে পারবে। ক্রয়ের ক্ষেত্রে তারা আবার ক্রেতাকে কিছু ইউনিট ফেরৎ দেয় তাদের ভাষায় এটিকে ডিসকাউন্ট বা মূল্য ছাড় বলা হয়।

ই-কমার্স ব্যবসা থেকে ভিন্ন হওয়ার আরেকটি মৌলিক দিক হলো, এখানে প্রথমে ইউনিট কেনা ছাড়া কোন কিছু ক্রয় করা যায় না। অথচ সকল অনলাইন ব্যবসার স্বাভাবিক নীতি হলো টাকা পেমেন্ট করে পণ্য বুঝে নিবে। সেখানে এ জাতীয় কোন ইউনিট কেনার ধারণা নেই। ব্যবসার রীতিনীতিও তাই বলে। আমি টাকা দিলে পণ্য পাবো। সেখানে ইউনিট কেনা বাধ্যতামূলক কেন হেবে?

তো যাইহোক! এই ১ম পদ্ধতিতে ই-কমার্স ব্যবসার সাথে তাদের দূরতম কোন সম্পর্কও নেই। যদিও তারা ই-কমার্স লাইসেন্স নিয়ে এটিকে ই-কমার্স ব্যবসার নামে পরিচালনা করছে। এখানে এটা জানা থাকা দরকার যে, বিনামূল্যে সদস্যতা গ্রহণে শুধু কেনাকাটা ছাড়া একাউন্ট থেকে বিজ্ঞাপন ক্লিক করে কোন আয় করার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে এটিকে অকার্যকর একাউন্ট বলা হয়।

দুই. টাকা দিয়ে একাউন্ট করা :

অর্থাৎ, আগের মতই একজন রেফারকারীর মাধ্যমে ১২০০ টাকা দিয়ে একাউন্ট ক্রিয়েট করতে হবে। তারা এটিকে অ্যাক্টিভ সদস্য হওয়ার জন্য ইউনিট ক্রয় হিসেবে ব্যক্ত করে। অর্থাৎ, একাউন্ট ক্রিয়েট করার জন্য ১২০০ টাকা দিতে হবে, যা দ্বারা ১২০০ ইউনিট ক্রয় করা হবে। অত:পর এই ১২০০ ইউনিট যা ১২০০ টাকায় কেনা হয়েছে তা সদস্য ফি বাবদ কেটে রাখা হয়।

রেফারকারীকে ১২০০ টাকা দিয়ে ১২০০ ইউনিট কেনার পর তার একাউন্ট একটিভ হবে। এখন সে এখান থেকে এ্যাপ লগিন করে বিজ্ঞাপন ক্লিকের মাধ্যমে আয় করা সহ অন্যান্য কার্যক্রমেও অংশ গ্রহণ করতে পারবে। তবে বিনামূল্যে ১ম সদস্যতা গ্রহণ করে বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করে ছাড় হিসেবে পাওয়া ডিসকাউন্ট যদি ১২০০ ইউনিট হয়ে যায়, তাহলে অটো একাউন্ট একটিভ হয়ে বিজ্ঞাপন দেখাবে। এরপর সেও বিজ্ঞাপন ক্লিক সহ যাবতীয় কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করতে পারবে।

এখানে অতি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণীয় একটি বিষয় হচ্ছে, এসপিসি তে নিজে নিজে একাউন্ট করা যায় না। বরং রেফারকারী বা কোন এজেন্টের মাধ্যম গ্রহণ করতে হয়, যা কি না পুরা বিশ্বের ই-কমার্স ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও আলাদা। তাই এটিকে কোনভাবেই ই-কমার্স হিসেবে অবিহিত করা যায় না। বরং এটিকে ব্যবসা বলাই মুশকিল।

spc থেকে ইনকাম

spc থেকে ইনকাম করার কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। যথা :

১. এ্যাড দেখে আয় :

অর্থাৎ, কারো একাউন্ট যদি একটি হয় তাহলে ৫ সেকেন্ড করে দৈনিক ৫টি বিজ্ঞাপন দেখা যাবে। প্রতি এ্যাডে ক্লিকের মাধ্যমে দুই টাকা করে দেওয়া হয়। এ হিসেবে একাউন্ট একটি হলে প্রতি দিন আয় হবে ১০ টাকা। টাকাটা একাউন্টে জমা হবে। কেউ একাধিক একাউন্ট ক্রিয়েট করে বিজ্ঞাপন ক্লিকের আয় বাড়াতেও পারে।

২. রেফারাল বোনাস থেকে আয় :

আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, এমএলএম এর সাথে এটি অনেকাংশেই মিলে যায়, বরং এটি এমএলএম এরই ভিন্ন নাম। রেফারাল থেকে আয়ের পদ্ধতি হলো, আপনি যদি কাউকে রেফার করে জয়েন করাতে পারেন তাহলে এখানে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথম যাকে আপনি জয়েন করাবেন সে হবে ১ম জেনারেশন। সে আপনার অধিনে প্রথম ধাপে থাকার কারণে ১ম জেনারেশন বোনাস হিসেবে আপনি পাবেন ৪০০ টাকা আর প্লেসমেন্ট হিসেবে পাবেন আরও ১০০ টাকা। এই একজন থেকে মোট ৫০০ টাকা পাবেন।

দৈনিক মানবজমিনের দেয়া তথ্য মতে (এবং এটিই বাস্তব) এই ৪০০ টাকা রেফারকারীকে দেওয়া হয় ১ম জেনারেশনে থাকা ব্যক্তির ১২০০ টাকা দিয়ে একাউন্ট করা থেকে। অর্থাৎ, প্রথম জেনারেশনে কাউকে অ্যাড করাতে পারলেই তার ১২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পাবে আর এটি ১ম জেনারেশন হওয়ায় আরও ১০০ টাকা পাবে। এভাবে জন প্রতি এই জেনারেশনে ৫০০ টাকা করে পাওয়া যাবে।

এরপর এই ফার্স্ট জেনারেশন ব্যক্তি যদি একই নিয়মে আরেকজনকে রেফার করে সে হবে আপনার সেকেন্ড জেনারেশন। আপনি এই সেকেন্ড জেনারেশন থেকেও বোনাস পাবেন আর তার পরিমাণ হচ্ছে জন প্রতি ৫০ টাকা। এই সেকেন্ড জেনারেশন যদি কাউকে যুক্ত করে সে হবে আপনার ৩য় জেনারেশন।

তার থেকে আপনি পাবেন ১০ টাকা। এভাবে ২০ তম জেনারেশন পর্যন্ত আপনি ১০ টাকা করে পেতে থাকবেন। অবশ্য অনেকে এভাবে অন্য কাউকে যুক্ত না করে একাউন্টধারী নিজেই ১২০০ টাকা করে বিভিন্ন নামে একাধিক একাউন্ট খুলে আয় করারও সুযোগ রয়েছে।

তাই কেউ যদি রেফার না করেই রয়েল মেম্বার হতে চায় তাহলে ১২০০ টাকা করে দিয়ে সর্বমোট ১৩টি একাউন্ট করলেই রয়েল মেম্বার হতে পারবে। এক্ষেত্রে মেম্বারশীপদের বিভিন্ন স্তর, নাম ও র‌্যাংকিং ব্যবস্থা রয়েছে। নিচে আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরছি।

মেম্বারশীপদের নাম, স্তর ও বোনাস সমূহ :

১. ক্লাব মেম্বার :

কারো অধিনে নিজের আইডি সহ মোট ৪টি আইডি থাকলে সে হবে ক্লাব মেম্বার। অর্থাৎ, নিজের আইডির অধিনে a b c নামে ৩টি আইডি সহ মোট ৪টি আইডি।

২. রয়েল ক্লাব মেম্বার :

নিজ আইডির অধিনে আরো ১২টি আইডি হলে তিনি হবেন রয়েল ক্লাব মেম্বার। আর তা এভাবে যে, প্রথমে নিজ আইডির অধিনে a b c এভাবে তিনটি একাউন্ট খুলতে হবে। অত:পর এই তিনটি আইডির প্রত্যেকটি থেকে আবার তিনটি আইডি হবে। এভাবে মোট ১২টি আর একেবারে প্রথমে থাকা ১টি এই মোট ১৩টি আইডি হবে।

এটা আরেকভাবেও বুঝা যেতে পারে। আর তা হচ্ছে, ১২০০ টাকা দিয়ে আইডি খোলার পর তার অধিনে আরো তিন জনের আইডি খোলাতে পারলে তিনি হবেন ক্লাব মেম্বার। আর ওই তিন জনের অধিনে আরো তিন জন করে জয়েন করাতে পারলে তিনি ক্লাব মেম্বার থেকে হয়ে যাবেন রয়েল মেম্বার। এই রয়েল মেম্বারদের সকলকেই কোম্পানির লাভের ২০% বন্টন করে দেয়া হয়। যা কখনো ২টাকা থেকে ৪ টাকা আবার কখনো ১০-২৫ টাকা হয়ে থাকে। আর এটি একটি সহজ হিসাব যে, দিন যত যাবে এভাবে রয়েল মেম্বার বাড়তে থাকবে আর টাকার হারও কমতে থাকবে। এক সময় তা পয়সাতেও রুপ নিতে বাধ্য।

অপর দিকে ক্লাব মেম্বারগণ একাধারে মোট ৪টি আইডি করেও এই বোনাস থেকে ewÂZ থেকে যাচ্ছে। তার মানে হলো, কেউ যদি তার নিজস্ব আইডি সহ মোট ১২টি আইডি তৈরি করতে পারে তবুও সে এই বোনাস থেকে ewÂZ থাকবে। তাহলে এতগুলো আইডি খুলে তার শ্রম কেবল ব্যর্থই হলো।

অথচ দুনিয়ার স্বাভাবিক নিয়মেও বলে, সে কাজ যেটুকু করেছে অন্তত সেটুকুর বিনিময় তো পেতে পারে। কিন্তু না, এখানে নিয়ম ভিন্ন। বরং সাধারণ একটি আইডিধারী ব্যক্তি যেমন, সে ১২টি আইডি ক্রিয়েট করেও তারই মত থেকে গেল।

এখন চিন্তা করুন, এরকম এক লাখ মানুষ যদি ১৩টি আইডি খোলাতে না পারে তাহলে তারা ১২টি পর্যন্ত আইডি খুলেও তাদের লাভ শুধু বিজ্ঞপ্তি থেকে আয়, যা খুবই নগণ্য- দিনে প্রত্যেক আইডি প্রতি ১০ টাকা। এতগুলো লোক যোগার করতে শ্রম দিয়েও তাদের সব শ্রম সম্পূর্ণ ব্যর্থ পরিগণিত হচ্ছে। আর এই ফাকে কোম্পানি নিয়ে যাচ্ছে শত শত কোটি টাকা।

কারণ, সাধারণ মাথায় চিন্তা করলেও বুঝে আসে, একাউন্টধারীর তুলনায় রয়েল মেম্বারদের সংখ্যা অনেক কম। তাহলে রয়েল মেম্বার ছাড়া বাকীদের সব টাকা কোম্পানির শুধুই আয়। এখানে কোম্পানি তাদেরকে কোন কমিশন বা বোনাস দিতে হচ্ছে না। আবার রয়েল মেম্বার যতই হোক না কেন বোনাস দেওয়া হবে সেই ২০% থেকেই। এজন্যই পত্র পত্রিকায় বলা হয়েছে তাদের কোন ব্যবসা নেই। বরং, একাউন্ট ক্রিয়েটের টাকা থেকেই সব হয়।

৩. স্টার মেম্বার :

নিজ আইডির অধিনে ৩টি আইডি করার পর যদি তিন লাইনে ১০০ করে ৩০০ আইডি খোলাতে পারে তাহলে সে হবে ১ স্টার রয়েল। ১ স্টার রয়েল হলে কোম্পানির লাভের সাড়ে ১৭.৫% প্রোফিট পাবে আর সাথে আছে ইন্ডিয়া সিকিম ট্যুর। আর যদি তিন লাইনে ৬০০ করে মোট ১৮০০ আইডি খোলাতে পারে তাহলে সে হবে ২স্টার রয়েল। তাদের জন্য রয়েছে ১৫% প্রোফিট ও নেপাল ট্যুর। যদি তিন লাইনে ১০০০ করে মোট ৩০০০ হাজার আইডি খোলাতে পারে তাহলে সে হবে ৩ষ্টার রয়েল। তাদের জন্য রয়েছে ১২.৫% প্রোফিট ও থাইল্যান্ড ট্যুর।

যদি তিন লাইনে ৩০০০ করে মোট ৯০০০ আইডি খোলাতে পারে তাহলে সে হবে ৪স্টার রয়েল। তাদের জন্য রয়েছে ১০% প্রোফিট ও মালৈশিয়া ট্যুর। যদি তিন লাইনে ৫০০০ করে মোট ১৫০০০ আইডি খোলাতে পারে তাহলে সে হবে ৫স্টার রয়েল। তাদের জন্য রয়েছে ৭.৫% প্রোফিট ও ১লক্ষ টাকা সম মূল্যের একটি আই পেড।

যদি তিন লাইনে ১০,০০০ করে মোট ৩০,০০০ আইডি খোলাতে পারে তাহলে সে হবে ৬স্টার রয়েল। তাদের জন্য রয়েছে ৫% প্রোফিট ও আড়াই লক্ষ টাকার একটি বাইক। একই ভাবে সর্বোচ্চ প্রতি লাইনে ১৫,০০০ করে মোট ৪৫,০০০ আইডি খোলাতে পারলে সে হবে ৭স্টার। তাদের জন্য রয়েছে কোম্পানির ২.৫% প্রোফিট ও নগদ ২৫ লাখ টাকা। (ইউটিউব থেকে সংগৃহিত)

একজনের অধিনে এভাবে বিপুল পরিমাণে আইডি খোলানোর নিয়ম মূলত: এমএলএম ব্যবসারই একটি রূপ। ইতো:পূর্বে যা আমরা বলে এসেছি এবং পত্রপত্রিকার রিপোর্টও তাই বলে। সুতরাং এটি ডেসটিনি বা এমএলএম হওয়াতে আর কোন সন্দেহ থাকতে পারে না।

spc থেকে ইনকাম করে ক্যাশ আউট করার পদ্ধতি :

বিকাশ, রকেট বা নগদ ইত্যাদি ব্যবহার করে ক্যাশ আউট করা যাবে। তবে তার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। সাধারণ একাউন্টধারী হলে টাকা উত্তোলন করার জন্য সর্বনিম্ন একাউন্টে ৫০০ টাকা হতে হবে। এর কম হলে কোন অবস্থাতেই ক্যাশ আউট করা যাবে না।

এখানেও দেখুন দুনিয়ার সাধারণ নিয়ম থেকে কতটা ভিন্ন। ব্যবসা হলে আমি যত টাকাই আয় করি না কেন সেটা আমার। এটা আমি চাইলে উত্তোলন করব, নয়তো কোন পণ্য কিনব এটা আমার একচ্ছত্র অধিকার। অথচ এসপিসি তে তা নয়। তারা দাবি করছে এটি একটি ব্যবসা। আবার বলছে ৫০০ টাকার কম হলে উত্তোলন করা যাবে না।

প্রশ্ন হলো, কেন? এই টাকা তো বিজ্ঞাপন দেখে আমি অর্জন করেছি। এখানে আবার সীমাবদ্ধতা কেন? আর রয়েল একাউন্ট হলে টাকা তোলার জন্য কমপক্ষে ১০০ ইউনিটের পণ্য কেনা শর্ত। এখানেও তাদের নীতি বড়ই হাস্যকর। সেটা হলো, এই ক্রয় বাবদ যে টাকাটা ব্যবহার হবে তাহলো একাউন্টে যোগ হওয়া ২০% থেকে প্রাপ্য বোনাসের টাকা। এই বোনাস ক্যাশ আউট করা যায় না। বরং তা পণ্য বাবদ ব্যয় করতে হয়।

এস পি সি কি আসলেই কোন ব্যবসা?

আমরা পেছনে বারবার দেখিয়েছি সাধারণ ব্যবসার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এখানে ব্যবসা শুধু নামে রয়েছে। বাস্তবে এখানে চলছে বহু স্তর থেকে আয় করার ডিজিটাল পদ্ধতি। সাধারণ ব্যবসা থেকে এটি যে কারণে ভিন্ন তাহলো :

১. পত্র পত্রিকার তথ্য মতে তাদের কোন পণ্য নেই :

এসপিসির বেশ কয়েকটি কোম্পানির নিবন্ধন (যথা : এসপিসি রাইড লি., এসপিসি কুরিয়ার অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট লি., এসপিসি প্রোপার্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপার্স লি., এসপিসি কসমেটিক্স অ্যান্ড ক্যামিক্যালস লি., এসপিসি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস লি., ইত্যাদী) পাওয়া গেলেও দৈনিক মানবজমিনের তথ্য মতে তারা এসবের বাস্তবে কোন অস্তিত্ব খুজে পায়নি। এসপিসি বরং একাউন্টধারীর ১২০০ টাকা থেকেই লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। এখানে শুধুমাত্র টাকার খেলা। বাস্তবে পন্যের কোন কারবার নেই। যদি থেকেও থাকে ধরে নেই তাহলে ব্যয়ের ২% হতে পারে। একটি উধাহরণ দিলে বিষয়টি সহজে বুঝে আসবে।

দৈনিক মানবজমিনের দেয়া তথ্য মতে এবং প্লে-স্টোরে তাদের এ্যাপ থেকে এটা স্পষ্ট যে, বর্তমানে তাদের ইউজার সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি। তো ধরে নিলাম ৫০ লাখ। প্রত্যেককে বিজ্ঞাপন দেখা বাবদ যদি প্রতি দিন ১০ টাকা করে দিতে হয় তাহলে মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় ১৫০ কোটি টাকা। এখন মাসে এ পরিমাণ ব্যয় করতে হলে অবশ্যই তাদের এর চাইতে অধিক পরিমাণে আয় করতে হবে।

অথচ মে মাসে তাদের আয় ছিল মাত্র ৪ কোটি টাকা। আচ্ছা বলুন তো, ৪ কোটি টাকা লাভে তারা কিভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে? এটি শুধু হাস্যকরই নয় বরং পাগলের প্রলাপ মাত্র। তাই বুঝাই যাচ্ছে, এখানে তারা টাকার গেম খেলছে। বাস্তবে পণ্যের কোন ব্যবসা নেই। থাকলেও তা একেবারেই কম। বরং তারা যা লাভ দিচ্ছে সবটাই একাউন্ট খোলা বাবদ নেওয়া ১২০০ টাকা থেকে। এজন্য বলেছি, এখানে তারা ব্যবসার নাম দিলেও বাস্তবে এটি কোন ব্যবসা নয়।

২. পেছনে আমরা দেখিয়েছি :

বিনামূল্যে একাউন্ট করলে একাউন্টটি একটিভ করতে হলে আগে ইউনিট কিনতে হয় এরপর সেটা দিয়ে আবার পণ্য কিনে যা ফেরৎ পাওয়া যায় তা দিয়ে একাউন্টটি অটো একটিভ হয়ে যায়। এটিও সাধারণ ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, এখানে একাউন্ট ক্রিয়েটের জন্য পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তাছাড়া একাউন্ট ক্রিয়েটের ২য় পদ্ধতিও আপত্তিকর। কারণ, এখানে ১২০০ টাকা দিয়ে ১২০০ ইউনিট কেনা হচ্ছে। অথচ বিশ্বের সকল ই-কমার্স সাইটে এমন কেনা কাটা করে একাউন্ট ক্রিয়েট করতে হয় না। বরং যে কেউ এ্যাপ ডাউনলোড করে লেন-দেন করতে পারে।

৩. এসপিসিতে মধ্যস্থতা ছাড়া একাউন্ট করা যায় না :

এটিও বিশ্বের সকল ই-কমার্স সাইট থেকে ভিন্ন। তাদের এই থিউরি থেকে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, এখানে ব্যবসার বিষয়টি একেবারেই গৌণ। মূল হচ্ছে, মধ্যস্থতা সৃষ্টি করে আয় করা। এই একটি মাত্র কারণই যথেষ্ঠ যা সকল ব্যবসা থেকে এসপিসি কে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়। এখানে গোড়াতেই বলে দেয়া হচ্ছে, যে যত বেশি মধ্যস্থতা সৃষ্টি করতে পারবে তার আয় তত বেশি। অথচ বিশ্বের সকল ব্যবসা মধ্যস্থা ছাড়াই করার সুযোগ রয়েছে। আর এখানে মাধ্যম ছাড়া ব্যববসার শুরুটাই হচ্ছে না। একজন সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে এটি ব্যবসার নামে সম্পূর্ণ জালিয়াতি ছাড়া আর কিছু নয়।

এখানে এটিকে আরেকভাবে দেখলে দেখবেন বিষয়টি এমএলএম এর সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়:

কারণ, এমএলএম এর নিয়ম ছিল যেমন ধরুন আপনি দশ হাজার টাকা দিয়ে ১২টি গাছ ক্রয় করলেন। এখানে আপনি একটি কিনলেন পণ্য। আরেকটি হলো, ডিস্ট্রিবিউটরশীপ বা উক্ত কোম্পানি থেকে কমিশন লাভের যোগ্যতা। আপনি আরো লোক যোগার করে দিতে পারলে কমিশন পাবেন। এটিকে নেটওয়ার্ক সিস্টেমও বলা হয়। তাহলে আপনি কোম্পানিকে যে অর্থ দিয়ে তার সাথে জড়িত হলেন এর বিনিময়ে আপনি পাচ্ছেন দুইটি বিষয়। এক. পণ্য যা সাধারণত কল্পিতই হতো। দুই. এটি থাকবে বাকি। যার নাম পরিবেশক হয়ে কমিশন প্রাপ্তি।

এতে বুঝা গেল, বিক্রয়টা এক স্তরে শেষ হয় না। বরং আপনার মাধ্যমে এবং আপনার পরবর্তী লোকদের মাধ্যমে বহু স্তরে বিস্তৃত হয়। ঠিক একই সিস্টেম এখনকার এসপিসিতেও। প্রথমে ১২০০ টাকা দিতে হয়। এর মাধ্যমেও দুইটি বিষয় আর্জিত হয়। একটি হলো, ১২০০ ইউনিট। আর ২য় টি হচ্ছে পরিবেশক হওয়ার যোগ্যতা।

অর্থাৎ, যত মানুষকে এতে ভিড়ানো যাবে কমিশন পাওয়া যাবে। (যদিও কমিশনের হারে তারতম্য হবে এবং ৩য় জেনারেশনের ২০ তম জেনারেশনে গিয়ে এটির সমাপ্তি ঘটবে।) তাহলে বুঝা গেল, সাধারণ ব্যবসা থেকে এসপিসি সম্পূর্ণই আলাদা। কারণ, সাধারণ ব্যবসাতে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ই মূখ্য থাকে। আর এসপিসি তে মূল লক্ষই থাকে সদস্য বানানো।

এমনিভাবে সাধারণ ব্যবসাতে ক্রেতার আসল উদ্দেশ্য থাকে পণ্য। তাই পণ্যের গুণগত মান ও মূল্যের বিষয়টি মুখ্য থাকে। অন্য দিকে এসপিসি তে ইউনিট ক্রেতাগণের মূল লক্ষই থাকে পরিবেশক হয়ে কমিশন ও বোনাস অর্জন। কারণ, এখানে ইউনিট কেনাটা একেবারেই গৌণ এবং নামে মাত্র কেনা। বাস্তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, পরিবেশক যোগ্যতা অর্জন এবং এর মাধ্যমে লোক বৃদ্ধি করে কমিশন বা বোনাস গ্রহণ।

আরেকটি বিষয় হলো,

এটা খুব স্বাভাবিক যে, এসপিসি তে এমএলএম এর মত ডাউন লেভেলে যারা থাকবে তারা ক্ষতি গ্রস্থ হতে বাধ্য। কিন্তু সাধারণ কেনা-বেচায় এটি চিন্তাও করা যায় না। এবং একটি পর্যায়ে গিয়ে এই কোম্পনি বা নির্দিষ্ট প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য। কারণ, যদি ১জন পরিবেশক গড়ে ১০ জন করে লোক কোম্পানিতে যুক্ত করায় এবং পুরো দেশের ১০০ কোটি মানুষও এর সাথে যুক্ত হয় (যা অসম্ভব) তবুও দশম স্তরে গিয়ে কারবারটি বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য। বিষয়টি এভাবে বুঝা যেতে পারে :

প্রথম জন ১০ জনকে, তারা প্রত্যেকে ১০ জন করে ১০০ জন, এরা সকলেই ১০ জন করে ১০০০ হাজার জন। এভাবে দশম স্তরে গিয়ে হয়ে যাবে ১০০ কোটি। আর যদি প্রত্যেকের ২ জন করে হিসাব করা হয় তাহলে ২৭ তম স্তরে গিয়ে ১৩ কোটির একটি দেশের সকল জন সংখ্যাও যদি তার পরিবেশক হয়ে যায় তবুও কারবারটি বন্ধ হয়ে যাবে।

এ পর্যন্ত এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস লিমিটেড এর সংক্ষিপ্ত একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এবার আমরা এসপিসি সম্পর্কে শরয়ী বিশ্লেষণ ও হুকুম এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে এসপিসি নিয়ে পর্যালোচনা করব ইনশাআল্লাহ্।

শরীয়তের দৃষ্টিতে এসপিসি 

১. এসপিসি থেকে আয়ের একটি পদ্ধতি হলো :

রেফার এবং এ্যাড ক্লিকের মাধ্যমে আয়। এটি একটি কাজ। অর্থাৎ, এখানে কাজের (তথা রেফার করা বা এ্যাড দেখার) বিনিময়ে আয় করার সুযোগ। কিন্তু এর জন্য শর্তারোপ করা হয়েছে, ১২০০ টাকা ফি প্রদান বা ইউনিট ‍ফি প্রদান। অর্থাৎ, ১২০০ টাকা ফি দিলে এই কাজগুলো করে আয় করা যাবে। আর এটি মুল কাজের উপর অতিরিক্ত অর্থ আদায়।

যেমন : ধরুন আপনি কাউকে বললেন যে, আমার বাড়ীতে কাজ করলে তোমাকে এই পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে। তবে শর্ত হলো, আগে আমাকে একটা ফি দিতে হবে। এটি সম্পূর্ণ ঘুষ। বর্তমানে এর সহজ উদাহরণ হচ্ছে, চাকরি নিতে ঘুষ প্রদান করা। অর্থাৎ, তুমি চাকরি করে মাসে এত টাকা পাবে তবে শর্ত হলো আগে এই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। মূল কাজের উপর এই অতিরিক্ত ফি বিনিময়হীন হওয়ায় সুস্পষ্ট ঘুষ। যা সম্পূর্ণ হারাম। হযরত মুফতী শফী রহ. লেখেন, (মাআরেফুল কুরআন ৩/১৫১)

رشوت کی تعریف شرعی یہ ہے کہ جس کا معاوضہ لینا شرعاً درست نہ ہو اس کا معاو لیا جائے ، مثلاً جو کام کسی شخص کے فرائض میں داخل ہو اور اس کا پورا کرنا اس کے ذمہ لازم ہو اس پر کسی فریق سے معاوضہ لینا جیسے حکومت کے افسر اور کلرک سرکاری ملازمت کی رُو سے اپنے فرائض ادا کرنے کے ذمہ دار ہیں، وہ صاحب معاملہ سے کچھ لیں تو یہ رشوت ہو، یا لڑکی کے ماں باپ اس کی شادی کرنے کے ذمہ دار ہمیں کسی سے اس کا معاوضہ نہیں لے سکتے وہ جس کو رشتہ دیں اس سے کچھ معاوضہ لیں تو وہ رشوت ہے، یا صوم وصلوٰۃ

আর যদি ১২০০ টাকা দেওয়ার উদ্দেশ্য এই ধরা হয় যে, গ্রাহক এর মাধ্যমে পরিবেশক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা, তবুও তা অবৈধ। কারণ, পরিবেশক হওয়ার চুক্তিটা শরীয়তের পরিভাষায় ইজারা বা জুআ‘লা চুক্তি। অর্থাৎ, এসপিসি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সাথে এ মর্মে চুক্তি করল যে, কাউকে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করাতে পারলে তুমি পরিবেশক হিসেবে কমিশন পাবে। তো এটা ইজারা বা জুআ‘লা চুক্তি। শরীয়তে এর জন্য কোন ফি গ্রহণ করা বৈধ নয়। সুতরাং এই হিসেবেও এই ১২০০ টাকা ফি গ্রহণ জায়েয হবে না। বিধায় কারবারটি অবৈধ বা না জায়েয হয়ে যাবে।

. শরীয়তের ব্যবসায়িক নীতির একটি মূলনীতি হলো :

কেনা-বেচা হবে সরাসরি। বিক্রেতা ও ভোক্তার মাঝে বিভিন্ন স্তর ও মাধ্যম সৃষ্টি করা শরীয়ত পছন্দ করে না। বরং ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে অযাচিত মধ্যস্বত্ত্বভোগী প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। (দেখুন- তিরমিযী শরীফ : ১২২১, সহীহ্ মুসলিম : ৩৭৯২, ৩৭৯৭।)

অথচ, এসপিসি মধ্যস্বত্ত্বভোগীর অভাব নেই। অসংখ্য মধ্যস্বত্ত্বভোগী তাতে বিদ্যমান। প্রথমত: একাউন্ট ক্রিয়েট, ইউনিট কেনা কোন মধ্যস্থতাকারী ছাড়া হয় না। দ্বিতীয়ত একটি আইডির অধীনে ১ম জেনারেশন, ২য় জেনারেশন এবং ৩য় জেনারেশনে ২০ তম জেনারেশন পর্যন্ত ডাউন লেভেলে কী পরিমাণ মধ্যস্থতাকারী রয়েছে যাদের প্রত্যেক থেকে আপ লেভেলে থাকা সকলেই এবং এদের সকল থেকে ১ম আইডিধারী ব্যক্তি কমিশন পাচ্ছে।

শরীয়ত যেখানে ক্রেতাকে সরাসরি বাজারে ঢোকার অনুমোদন দিয়েছে এখানে বরং সম্পূর্ণ তার উল্টা। মাধ্যম ছাড়া এখানকার বাজারে কেউই টুকতে পারবে না। এই জায়গাটাতেই শরীয়তের মূল আপত্তি। যা শরীয়তের মধ্যস্বত্ত্বভোগীর নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে যায়, বিধায় তা না জায়েয।

. শরীয়তের ২য় আরেকটি মূলনীতি হলো :

বাতিল পন্থায় অন্যের সম্পদ গ্রহণ করা হারাম। কুরআনুল কারীমে এটিকে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে। (সুরা নিসা : ২৯ নং আয়াত।) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, বিনিময়হীন উপার্জন হলো, বাতিল পন্থার উপার্জন। (আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১৭২) এসপিসি তে এই নিষিদ্ধ উপার্জনের উপস্থিতি রয়েছে। কারণ, ১ম স্তরের সরাসরি জোগাড় করা ব্যক্তিরা ছাড়া ২য় স্তর থেকে পরবর্তী স্তরগুলোতে যারা যুক্ত হয় তারা কোম্পানিতে যুক্ত হয়েছে অন্যান্য লোকজন কর্তৃক। এখানে আপার লেভেলের লোকজনের কোন কাজ নেই। কাজ যা করেছে ডাউনলেভেলের লোকজন। সুতরাং যে কমিশন বা পারিশ্রমিক নিম্নস্তর থেকে আপার লেভেলের লোক পাচ্ছে তা বিনিময়হীন আসছে। এটাই হলো, অন্যের সম্পদ বাতিল পন্থায় আহরণ। যা সম্পূর্ণ হারাম।

. শরীয়তের তৃতীয় মূলনীতি হলো :

‘আল-গারার’ তথা লেন-দেন প্রতারণামুক্ত হতে হবে। ‘গারার’ হচ্ছে, যার পরিণাম অজানা। -(আল-মাবসূত ১২/১৯৪।) এসপিসি তে এই নিষিদ্ধ প্রতারণার উপস্থিতি রয়েছে। কারণ, পরিবেশক কোম্পানির সাথে এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, সে তার ডাউন লেভেল থেকে কমিশন গ্রহণ করতে থাকবে। অথচ তার ক্ষেত্রে ডাউন লেভেল তৈরী হবে কি না, হলে তা কত দিন চলবে তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত যা শরীয়তের নিষিদ্ধ প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। এই প্রতারণাও শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম, বিধায় কারবারটি হারাম হয়ে যায়।

এসপিসি তে বিজ্ঞাপন দেখে আয় করাও,

একটি প্রতারণা এবং বাতিল পন্থায় বিনিময় গ্রহণের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, এ থেকে আয় খুবই সীমিত এবং নগণ্য। এই এ্যাড দেখে আয় করার কথা বলে মূলত: একাউন্ট ক্রিয়েট করে মধ্যস্থতা বাড়িয়ে নেওয়াই আসল উদ্দেশ্য। একজন গ্রাহক যখন দেখবে আমার আয় খুবই নগণ্য। তখন সে বাধ্য হয়েই ডাউন লেভেলে লোক বাড়ানোর চিন্তা করবে। তাই বিজ্ঞাপন দেখে আয় করার নামে বাস্তবে এখানে রয়েছে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতারণা।

তাছাড়া বিজ্ঞাপন দেখা কোন বিনিময়যোগ্য কাজ নয়। এই এ্যাডে ক্লিক করার মাধ্যমে কোনই ফায়দা নেই। সাধারণত এখান থেকে কেউ পণ্যও কেনে না। আর যারাও বা এখান থেকে পণ্য খরিদ করে তারা ক্যাশ আউট করার প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে পণ্য খরীদ করে। বরং কিছু টাকা আয়ের জন্য কোন প্রয়োজন না থাকলেও একজন গ্রাহককে শুধু শুধু বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখতে হয়। তাই টাকার জন্য বাধ্য হয়েই এ্যাডে ক্লিক করতে হয়। উপরন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণামূলকভাবে বিজ্ঞাপন বা পেইজের ভিউয়ারও বাড়ানো হতে পারে।

গ্রাহক তো এর সত্যতা যাচাই করবে না। কারণ, তার আয় করতে হবে। এজন্য সে বাধ্য হয়েই টাকার জন্য এ্যাডে ক্লিক করবে। তাছাড়া অধিকাংশ বিজ্ঞাপনই তাদের পণ্যের, যা থেকে তাদের কোনই আয় নেই। এবং অনেকের দাবি এটি গুগল এ্যাডসেন্সেরও এ্যাড নয়। মোট কথা, এটি একটি প্রতারণা এবং গ্রাহককে ধোকা দেওয়ার একটি কৌশল মাত্র।

এসপিসির আরেকটি কার্যক্রম হলো,

ক্যাশ আউট (যদি প্রাপ্ত আয় হালালও ধরা হয়) করতে হলে পণ্য ক্রয় করা শর্ত। অথচ, তার একাউন্টে যে টাকা জমা হয়েছে এটা তার পাওনা। এখন এটা উত্তালনের জন্য পণ্য ক্রয় করে মূল্য শোধ করা একটি অবৈধ শর্ত। কারণ, এটা তার উপর সুস্পষ্ট জুলুম এবং বাস্তবে পাওনা কমিয়ে দেওয়ায় তা প্রতারণারও অন্তর্ভুক্ত।

. শরীয়তের ৪র্থ মূলনীতি হলো :

একই চুক্তির সাথে অন্য আরেকটি চুক্তি যুক্ত করা নিষেধ। অথচ এসপিসি তে তা রয়েছে। কারণ, এটি এমন একটি ইজারা বা পরিবেশক চুক্তি যাতে বেচা-কেনার শর্ত যুক্ত রয়েছে। আর তা হচ্ছে টাকা উত্তোলনের জন্য কোম্পানি থেকে পণ্য কিনতে হয়। তাহলে পরিবেশক হওয়ার চুক্তির সাথে পণ্য কেনার চুক্তিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে যা শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষেধ হওয়ায় কারবারটি না জায়েয হয়ে যায়।

আবার এ্যাড দেখে আয় করার ক্ষেত্রে কোম্পানির সাথে একাউন্টধারীর চুক্তি হয়েছে শ্রমিকের। অর্থাৎ, এ্যাড দেখে কাজ (যদিও আমরা পূর্বে বলে এসেছি এটি বিনিময়যোগ্য কোন কাজ নয়) করে পারিশ্রমিক পাবে প্রতি এ্যাডে ২টাকা। তো এই চুক্তির সাথে পরিবেশক হওয়ার চুক্তিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এ হিসেবেও এটি একই চুক্তির সাথে আরেকটি চুক্তি যুক্ত করার অন্তর্ভুক্ত। যা সম্পূর্ণ না জায়েয হওয়ায় এসপিসির কারবারটি হারাম হয়ে যায়।

. ইসলামী শরীয়তের ইজারা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো :

শ্রমের সাথে সাথে পারিশ্রমিক বা বিনিময় সুস্পষ্ট থাকা। কোথাও যদি শ্রম পাওয়া গেলে পারিশ্রমিক পাওয়া না যায় কিংবা শ্রম পাওয়া গেলো না কিন্তু পারিশ্রমিক পাওয়া গেল তাহলে কারবারটি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। এসপিসি তে এই নিষিদ্ধ বিষয়ের উপস্থিতি থাকায় কারবারটি না জায়েয হবে।

কারণ, তাদের আরেকটি নিয়ম হলো, ৫০০ টাকার কম হলে তা ক্যাশ আউট করা যায় না। তাহলে সে ৫০০ টাকার কম পর্যন্ত যে শ্রম দিয়েছে সে শ্রমের কোন বিনিময় সে পাচ্ছে না। এই হিসেবেও এসপিসি কারবার না জায়েয।

এসপিসির আরেক নিয়ম হলো,

ডাউন লেভেল থেকে আপার লেভেলে থাকা লোকজন কমিশন পায়। অথচ এটিতে আপার লেভেলের কোন শ্রম নেই। নিম্নস্তরের লোকেরাই শ্রম দিয়ে আরেকজনকে জয়েন করিয়েছে অথচ কমিশন পাচ্ছে আপার লেভেলের লোকজন, যাতে তাদের কোনই শ্রম নেই। তাহলে এখানে শ্রমহীন বিনিময় পাওয়া গেল। এটিও আমাদের উল্লেখকৃত মূলনীতির কারণে এসপিসির কারবারটিকে না জায়েয বানিয়ে দেয়।

. ইসলামে রিবা তথা সূদ হারাম :

এসপিসি তে একজন গ্রাহক ১২০০ টাকা দিয়েছে কিন্তু কোন পণ্য পায়নি। এতে একাউন্ট একটিভ হয়েছে মাত্র। তাহলে এখানে মূলে শুধু টাকা দেয়া হলো। এবার একাউন্ট একটিভ হওয়ার পর বিজ্ঞাপন থেকে যা আয় হয় তা প্রদেয় অর্থের অধিক হচ্ছে। এ হিসেবে টাকার বিনিময়ে অধিক টাকার লেন-দেন হওয়ার কারণে তা সূদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে হারাম হবে।

এমনিভাবে নিজের জন্যই বিভিন্ন নামে একাধিক আইডি তৈরী করে আয় করলেও সেই টাকা প্রদেয় অর্থের বেশি হওয়ায় সূদের অন্তর্ভূক্ত হবে। আর যদি বাস্তবেই কাউকে রেফার করে এসপিসির সাথে যুক্ত করা হয় তাহলে তাতে ‘শুবহাতুর রিবা’ থাকায় কারবারটি না জায়েয হয়ে যাবে।

সারকথা হলো :

spc world express ltd এর লেনদেন ইসলামী শরীয়ার সম্পূর্ণ পরিপন্থি ও সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা অবৈধ কার্যক্রম। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হওয়া না জায়েয ও হারাম। পেছনে না জায়েয হওয়ার ৭টি কারণ আমরা দেখিয়েছি। কোন কারবার অবৈধ হওয়ার জন্য এর যে কোন একটি কারণ পাওয়া যাওয়াই যথেষ্ঠ। অথচ এখানে পাওয়া গেছে অবৈধতার একাধিক কারণ। তাই এই কারবার কোন অবস্থাতেই জায়েয হতে পারে না।

ইতোমধ্যে যারা এটিতে জড়িয়ে পড়েছেন তাদের কর্তব্য হলো, এখনই তওবা করে বেরিয়ে আসা। আর হ্যাঁ, একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো, নামায, রোযা, পবিত্রতা অর্জন বিষয়ক যেমন গুরুত্ত্বের সাথে উলামায়ে কেরাম থেকে জানা হয় ঠিক তেমনি গুরুত্বের সাথে লেন-দেন বিষয়ক মাসআলা-মাসায়েলও জেনে নেওয়া জরুরি। রোজগারের পেছনে পড়ে যেন হারাম গেযা শরীরে ঢুকে না যায় সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। আল্লাহ্ সহায় হোন। আমিন।

Check Also

রোযা ও তারাবীর মাসায়েল

রোযা ও তারাবীর মাসায়েল জানা আমাদের সবার জন্যই জরুরী।  যাতে করে আমাদের সকলের রোযাগুলো সহীহ্ …

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন?

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন? প্রবন্ধটি তালাকের ক্ষেত্রে একটি সহজ সরল উপস্থাপন। এতে একজন স্বামী তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!