হোম / কিতাবুল হাযরি ওয়াল ইবাহা / মুহাজির ও আনসার শব্দ তাবলীগে ব্যববহার কি জায়েয?

মুহাজির ও আনসার শব্দ তাবলীগে ব্যববহার কি জায়েয?

প্রশ্ন : 

আসসালামু আলাইকুম,

মুহাজির ও আনসার শব্দ তাবলীগে ব্যববহার কি জায়েয? আমি গোলাম অহিব। আমার ঠিকানা: রায়গড় ভটেরপাড়া, গোলাপগঞ্জ, সিলেট, সিলেট, বাংলাদেশ। তারিখ: 2024-09-02

হুজুর তাবলীগ এ প্রায় সময় শুনি সাথিরা বলেন, আনসার (যারা তাব্লিগে যায়) মুহাজির (যারা সাহায্য করে)। এটা ত হিজরত করলে হবে। এভাবে কি বলা উচিত? ধন্যবাদ।

গোলাম অহিব
01302494261

মুহাজির ও আনসার শব্দ তাবলীগে ব্যববহার কি জায়েয? 

মুহাজির ও আনসার শব্দ তাবলীগে ব্যববহার কি জায়েয? এ প্রসঙ্গে প্রথমে সংক্ষেপে আয়াত-হাদীস পেশ করছি :

وَ مَنۡ یُّهَاجِرۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ یَجِدۡ فِی الۡاَرۡضِ مُرٰغَمًا كَثِیۡرًا وَّ سَعَۃً ؕ وَ مَنۡ یَّخۡرُجۡ مِنۡۢ بَیۡتِهٖ مُهَاجِرًا اِلَی اللّٰهِ وَ رَسُوۡلِهٖ ثُمَّ یُدۡرِكۡهُ الۡمَوۡتُ فَقَدۡ وَقَعَ اَجۡرُهٗ عَلَی اللّٰهِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ﴿۱۰۰﴾

আর কেউ আল্লাহর পথে হিজরত করলে সে দুনিয়ায় বহু আশ্রয়স্থল এবং প্রাচুর্য লাভ করবে। আর কেউ আল্লাহ ও রাসূলের উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে মুহাজির হয়ে বের হবার পর তার মৃত্যু ঘটলে তার পুরস্কারের ভার আল্লাহ্‌র উপর; আর আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -সূরা নিসা ১০০

عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ عَنْ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَلِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ.

’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কর্মসমূহ সংকল্পের সাথে সম্পৃক্ত এবং প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য তার সংকল্প অনুযায়ী। কাজেই যার হিজরত হবে আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের উদ্দেশে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের উদ্দেশে হয়েছে বলেই ধরা হবে। আর যার হিজরত হয় দুনিয়া অর্জনের জন্য বা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশে, তার হিজরত সে উদ্দেশেই হবে যে উদ্দেশে সে হিজরত করেছে। -সহীহ্ বুখারী ৫৪

ইসলামে মুহাজির ও আনসার শব্দের ব্যবহার

কুরআন ও হাদীসের অসংখ্য আয়াত-হাদীস এ কথার সাক্ষ্য করে যে, মুহাজির হচ্ছে, যারা আল্লাহ্ ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য এক কথায় দ্বীনের জন্য মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছে। আর আনসার হলো মদীনাবাসী সাহাবী, যারা মুহাজির সাহাবীদের জন্য আপন ভাই হয়ে সাহায্যের সর্বোচ্চ হাত তাদের দিকে সম্প্রসারিত করেছে। তাহলে মুহাজির হলো, হিজরতকারী। আর আনসার মানে হলো, সাহায্যকারী।

শব্দের প্রকৃত উদ্দেশ্য তাই, যা আমরা উল্লেখ করেছি। কাজেই যার হিজরত হবে আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের উদ্দেশে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের উদ্দেশে হয়েছে বলেই ধরা হবে। মেনটি আমরা পূর্বোক্ত হাদীসে দেখেছি। আমরা দেখেছি, মযানমার থেকে যে সকল মুসলিম ভাই আমাদের দেশে হিজরত করেছিলেন, আমরা তাদেরকে মুহাজিরই বলেছি। সেহিসেবে তখন আমরা তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম বলে আমরা কিছুটা হলেও আনসারের পরিচয় দিয়েছি।

আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, মুহাজির তিনিই হন, যিনি নিজ দেশে দ্বীন পালন করতে পারছেন না এবং ভিন্ন মদতাদর্শী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হন। এমনিই দ্বীনী কোন কাজে ঘর থেকে বের হলে, কুরআন-সুন্নাহ্ সেটাকে হিজরত বলে না। তাই তার উপর মুহাজির শব্দের প্রয়োগও হবে না। কারণ, সাহাবায়ে কেরামও এমন হাজারো দ্বীনী কাজে বের হয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেটাকে কখনোই হিজরত নাম দেননি।

অতএব, মুহাজির ও আনসার শব্দের কুরআন-হাদীসের পারিভাষিক অর্থ হিসেবে দাওয়াত ও তাবলীগে এর ব্যবহার কোন ভাবেই সহীহ্ নয়। এতে করে আমরা আমাদের অজান্তেই কুরআন-হাদীসে তাহরীফ বা বিকৃত করে ফেলছি। তাই এমন শব্দ পরিহার করা কর্তব্য।

তবে মুহাজির ও আনসার শব্দের শাব্দিক অর্থ হিসেবে উক্ত শব্দদ্বয়ের ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। কারণ, একটি হাদেীসে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللهُ عَنْهُ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সে-ই মুসলিম, যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে। -সহীহ্ বুখারী 10

এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির’ বলে মন্তব্য করেছেন। মুফতী তাকী উসমানী দা. বা. বলেন, তার অর্থ হলো, নবীজী বুঝিয়েছেন, শুধু হিজরত করলেই যথেষ্ট বিষয়টি এমন নয়। বরং তার সাথে সাথে জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম কে নিরাপদ রাখতে হবে। -ইনআমুল বারী ২/৩৭১

যাইহোক! হাদীস থেকে বুঝা যায়, শাব্দিক অর্থ হিসেবে মুহাজির শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে লক্ষণীয় যে, যেখানে শাব্দিক অর্থ ব্যবহার করার ফলে শব্দের শরয়ী এবং হাকীকী অর্থ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে এবং মানুষও ভুল বুঝা ও ধোকা খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে শাব্দিক অর্থেও তার ব্যবহার জায়েয নয়।

তাই আমাদের কর্তব্য হলো, দাওয়াত ও তাবলগের মধ্যে এই শব্দ দুইটির ব্যবহার পরিহার করা। আল্লাহ্ আমাদের সহায় হোন। আশা করি আপনার উত্তর পেয়েছেন।

আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিসের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য জাযাকাল্লাহ্।

Check Also

রোযা ও তারাবীর মাসায়েল

রোযা ও তারাবীর মাসায়েল জানা আমাদের সবার জন্যই জরুরী।  যাতে করে আমাদের সকলের রোযাগুলো সহীহ্ …

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন?

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন? প্রবন্ধটি তালাকের ক্ষেত্রে একটি সহজ সরল উপস্থাপন। এতে একজন স্বামী তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!