হোম / সালাত অধ্যায় / সানি জামাত: মসজিদে ২য় জামাতের হুকুম

সানি জামাত: মসজিদে ২য় জামাতের হুকুম

প্রশ্ন:

সানি জামাত: মসজিদে ২য় জামাতের হুকুম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি। এটা নিয়ে সমাজে নানান রকম কথা প্রচলিত আছে। উলামায়ে কেরামদের মধ্যেও বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম বলে থাকেন। হুজুরের কাছে এ বিষয়ে সঠিক সমাধান জানতে চাই।

মুহাম্মদুল্লাহ্। মোমেনশাহী

উত্তর :

সানি জামাত: মসজিদে ২য় জামাতের হুকুম

প্রথমত: আমাদের জানা দরকার যে, সানি জামাত বা মসজিদে ২য় জামাত যারা না জায়েয বলছেন তারা কেন সানি জামাত কে না জায়েয বলছে কিংবা মাকরুহ বলছেন? স্বাভাবিক নিয়ম তো হলো, মুসলমান নামাজ জামাতেই পড়বে। জামাতে নামাজ পড়ার গুরুত্বও অনেক বেশি। সাওয়াবও অনেক বেশি। তাহলে সেই জামাতটা যদি সানি জামাত বা ২য় জামাত হয় তাহলে তাতে সমস্যা কোথায়?

কুরআন হাদিসের আলোকে জামাতে নামাজের গুরুত্ব

যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সম্মুখে থাকা অবস্থায়ও জামা‘আতে ছালাত আদায় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। -সূরা নিসা (৪) : ১০২-১০৩।

হাদীছে জামাতে ছালাত আদায় না করা অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া, গাফেল হওয়া ও মুনাফিকদের আলামত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। -সহীহ্ মুসলিম ৮৬৫

জামাতে নামাজের গুরুত্ব জানতে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীর্ঘ হাদসিটি পড়ুন: সহীহ্ বুখারী ৬৮৭। আর জামাতের গুরুত্ব, ফযিলত ও জামাতে নমাজ না পড়ার শাস্তি সম্পর্কে জানতে আবু দাউদ শরীফের ৫৪৭-৫৭৮ নম্বর পর্যন্ত সবগুলো হাদীস মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। তাহলেই বুঝে আসবে জামাতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব কত? এখানে সেগুলো উল্লেখ করলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে।

মহান আল্লাহ বলেন,

وَأَقِيْمُوا الصَّلاَةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوْا مَعَ الرَّاكِعِيْنَ

‘তোমরা ছালাত কায়েম কর ও যাকাত প্রদান কর এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ কর’ (বাক্বারাহ ২/৪৩)।

এখন নামাজ যদি জামাতে না পড়া হয় তাহলে রুকু কারীদের সাথে রুকু হবে কি করে? হযরত মাইয়াম আলাইহাস সালাম কেও আল্লাহ্ তায়ালা জামাতে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। -আলে ইমরান (৩): ৪৩। তাই তো নারীদের জন্য জামাতে নামাজ পড়া শরীয়ত সম্মত অর্থাৎ, তারা জামাতে নামাজ পড়লে নামাজ হয়ে হয়ে যাবে কিন্তু ঘরে একাকি পড়াই তাদের জন্য উত্তম।

সানি জামাত

১ম কথা:

লক্ষ করার বিষয় হলো, জামাতের যে এত এত গুরুত্ব হাদিসে বর্ণিত হয়ে তা মসজিদের সাধারণ ও স্বাভাবিক জামাত সম্পর্কে। প্রথম জামাত বাদ দিয়ে ২য় জামাত করে নামাজ পড়ার জন্য হাদিসে বলা হয়নি। যদি তাই হতো, তাহলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই ২য় জামাত চালু করার ব্যবস্থা করতেন। কিংবা বলতেন, তোমরা যারা পরে আসবে তারা জামাত করে নামাজ পড়বে। হ্যাঁ, হাদিসে যেখানে ২য় জামাতের বর্ণনা পাওয়া যায় সেটা একটা দুইটা ঘটনা, যার বিবরণ সামনে আসছে ইনশাআল্লাহ্।

তাহলে আমরা একথা বলতেই পারি যে, হাদিসে জামাতের যত গুরুত্ব, ফযিলত ও না পড়ার শাস্তির কথা এসেছে, তা মসজিদের স্বাভাবিক জামাতের ব্যাপারে। জামাত শেষ হয়ে আলাদা জামাত করবে তার সম্পর্কে বলা হয়নি। তা নাহলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগুন দিয়ে পোড়ানোর কথা বলতেন না। বরং বলতেন, তাদেরকে বল, এখন যেন তারা ২য় জামাত করে নেয়।

২য় কথা :

হাদীসে স্পষ্টভাবে বড় জামাতে নামাজ পড়লে সাওয়াব বেশি হওয়ার কথা এসেছে। আর জানা কথা যে, বড় জামাত প্রথমটিই হয়, পরেরটি নয়।

عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا الصُّبْحَ فَقَالَ ‏”‏ أَشَاهِدٌ فُلَانٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا لَا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ أَشَاهِدٌ فُلَانٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا لَا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلَاتَيْنِ أَثْقَلُ الصَّلَوَاتِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَيْتُمُوهُمَا وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الرُّكَبِ وَإِنَّ الصَّفَّ الأَوَّلَ عَلَى مِثْلِ صَفِّ الْمَلَائِكَةِ وَلَوْ عَلِمْتُمْ مَا فَضِيلَتُهُ لَابْتَدَرْتُمُوهُ وَإِنَّ صَلَاةَ الرَّجُلِ مَعَ الرَّجُلِ أَزْكَى مِنْ صَلَاتِهِ وَحْدَهُ وَصَلَاتُهُ مَعَ الرَّجُلَيْنِ أَزْكَى مِنْ صَلَاتِهِ مَعَ الرَّجُلِ وَمَا كَثُرَ فَهُوَ أَحَبُّ إِلَى اللهِ تَعَالَى ‏”‏.

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে ফজরের সালাত আদায় করার পর বললেন, অমুক হাযির আছেন কি? সাহাবীগণ বললেনঃ না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ দুই ওয়াক্ত (ফজর ও ’ইশা) সালাতই মুনাফিকদের জন্য বেশি ভারী হয়ে থাকে। তোমরা যদি এই দুই ওয়াক্ত সালাতে কি পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে তা জানতে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তোমরা অবশ্যই এতে শামিল হতে।

জামাতের প্রথম কাতার মালায়িকাহর (ফিরিশতাদের) কাতারের সমতুল্য। তোমরা যদি এর ফাযীলাত সম্পর্কে জানতে, তাহলে অবশ্যই তোমরা এজন্য প্রতিযোগিতা করতে। নিশ্চয় দু’জনের জামাত একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম। তিনজনের জামাত দু’জনের জামাতের চেয়ে উত্তম। জামাতে লোক সংখ্যা যত বেশী হবে মহান আল্লাহর নিকট তা ততই বেশি পছন্দনীয়। -আবু দাউদ ৫৫৪

৩য় কথা :

মসজিদের ১ম জামাত হয়ে গেলে পরের জামাতকে আসলে জামাতই বলা হয় না। যদি এই জামাতও গুরুত্ব, ফযিলত ও সাওয়াবের দিক থেকে ১ম জামাতের মতই হতো, তাহলে সালাফ থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত সকল মসজিদেই ২য় জামাতেরও একটা সময় থাকত এবং সেই জামাতের জন্য একজন ইমাম নির্ধারিত থাকত। যেমনটা আমরা ঈদের নামাজে দেখে থাকি।

৪র্থ কথা :

জামাতের এত এত গুরুত্ব থাকার পরও নবী যুগ থেকে আজ পর্যন্ত কেউ নামাজ না পেলে হুবাহু প্রথম জামাতের মতই আযান-ইকামত দিয়ে মসজিদের ভিতরে ইমাম মেহরাবে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার কথা কেউ বলেছেন পাওয়া যাবে না। তাহলে বুঝা গেল, জামাত আসলে মসজিদের স্বাভাবিক জামাত যেটা সেটাই। পরে যে জামাত করছে, সেও মনে মনে নিজেকে অপরাধিই মনে করছে যে, আমি মসজিদের মূল জামাতে শরীক হতে পারলাম না।

৫ম কথা :

জামাত মানেই তো হলো, সকলে এক সঙ্গে মিলে নামাজ পড়বে। এখন যদি এমন হয়, যার যখন মন চাইল আর আসল এবং দুই চার জন মিলে জামাত করে নামাজ পড়ে নিল, তাহলে আর জামাত থাকল কোথায়?

৬ষ্ঠ কথা :

সবচেয়ে বড় কথা হলো, শরীয়তে মসজিদের জামাত ঐটাকেই বলা হয়েছে, যার আযান হবে এবং একামতও হবে। এখন যারা পরে এসে জামাতে নামাজ পড়ছে তারা অবশ্যই একামত দিলেও আযান দিচ্ছে না। আর না তাদের জন্য প্রথমবারের মত আযান দেয়ার সুযোগ আছে। তাহলে সেটা আগেরটার মত জামাত হবে কিভাবে?

অতএব, আমরা বুঝতে পারলাম যে, মসজিদে নামাজের জামাত বলতে আযান-একামত সহ নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করাই হলো জামাতের নামাজ। তাহলে পরবর্তীতে কারো জন্য কি আর জামাত করে নামাজ পড়া জায়েয হবে না? পরের আলোচনায় বিস্তারিত আসেছ।  

একই মসজিদে দুই জামাত

কোন মসজিদে এই নিয়ম করে নেওয়া যে, এই মসজিদের ১ম জামাত এতটার সময়, ২য় জামাত এতটার সময় তৃতীয় জামাত……। এই ভাবে একাধিক জামাতের সময় নির্ধারণ করে নেওয়া এবং সেভাবে নামাজের জামাত করা সকলের ঐক্যমতে হারাম। কারণ, এটা দ্বীন-শরীয়তের মধ্যে নতুন বিধান চালু করার নামান্তর, যা নবীজী, সাহাবা ও সালাফ থেকে চলে আসা এ পর্যন্ত কেউ করার সাহস করেননি।

এমনিভাবে কয়েকজন মিলে যদি এই নিয়ম চালু করে যে, আমরা সব সময় মসজিদের জামাত শেষ হওয়ার পর জামাত করে নামাজ পড়ব, তাহলে এটাও না জায়েয হবে। কারণ, একে তো তারা নামাজের আসল জামাত কে অবজ্ঞা করল। দ্বিতীয়ত: তারা দ্বীনের মধ্যে আলাদা করে নিজেদের জন্য একটা বিধান তৈরী করে নিল। এসকল অবস্থায় সকলের ঐক্যমতেই ২য় জামাত করা না জায়েয ও হারাম।

শায়েখ সালেহ আল-উসাইমিন রহ. বলেন,

قال الشيخ ابن عثيمين رحمه الله وهو يذكر صور إقامة الجماعة الثانية في المسجد : ” فأما الصورة الأولى ، بأن يكون في المسجد جماعتان دائما ، الجماعة الأولى والجماعة الثانية ، فهذا لا شك أنه مكروه إن لم نقل : إنه محرم ؛ لأنه بدعة ؛ لم يكن معروفا في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه

ومن ذلك ما كان معروفا في المسجد الحرام سابقا قبل أن تتولى الحكومة السعودية عليه ، كان فيه أربع جماعات ، كل جماعة لها إمام : إمام الحنابلة يصلي بالحنابلة ، وإمام الشافعية يصلي بالشافعية ، وإمام المالكية يصلي بالمالكية ، وإمام الأحناف يصلي بالأحناف

ويسمونه : هذا مقام الشافعي ، وهذا مقام المالكي ، وهذا مقام الحنفي ، وهذا مقام الحنبلي ، لكن الملك عبد العزيز جزاه الله خيرا لما دخل مكة ، قال : هذا تفريق للأمة ، أي : أن الأمة الإسلامية متفرقة في مسجد واحد ، وهذا لا يجوز ، فجمعهم على إمام واحد

وهذه من مناقبه وفضائله رحمه الله تعالى .فهذا الذي أشار إليه أحد المحاذير ، وهو تفريق الأمة .وأيضا : أنه دعوة للكسل ؛ لأن الناس يقولون : ما دام فيه جماعة ثانية ننتظر حتى تأتي الجماعة الثانية ، فيتوانى الناس عن حضور الجماعة مع الإمام الراتب الأول. – انتهى من “الشرح الممتع” (4/227- 231(.

جاء في “مواهب الجليل” للحطاب رحمه الله تعالى:

” فأما إقامة صلاة واحدة بإمامين راتبين، يحضر كل واحد من الإمامين فيتقدم أحدهما، وهو الذي رُتب ليصلي أولا، وتجلس الجماعة الأخرى وإمامهم عكوفا حتى يفرغ الأول، ثم يقيمون صلاتهم: فهذا مما لم يقل به أحد؛ ولا يمكن أحدا أن يحكي مثل هذا القول عن أحد من الفقهاء، لا فعلا ولا قولا .فكيف بإمامين يقيمان الصلاة في وقت واحد، يقول كل واحد منهما حي على الصلاة، ويكبر كل واحد منهما

وأهل القدوة مختلطون، ويسمع كل واحد قراءة الآخر؛ فهؤلاء زادوا على الخلاف الذي لسلف الأمة وخلفها، ومخالفة قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: ( لا يجهر بعضكم على بعض بالقرآن )…” انتهى من “مواهب الجليل” (2/380(.

পক্ষান্তরে মসজিদ যদি চলাচলের রাস্তায়, যানবাহনের স্টপিজ রেল স্টেশন ইত্যাদিতে হয়, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে এসকল মসজিদে ২য় জামাত করে নামাজ পড়া জায়েয। কারণ, এখানে মুসাফির, কিংবা দ্রুত স্থানান্তর হতে হবে এমন যাত্রীগণ থাকেন, তাই এসব স্থানে দ্বিতীয় জামাত হওয়াতে কোন সমস্যা নেই।

শায়েখ সালেহ আল-উসাইমিন রহ. বলেন,

الصورة الثالثة : أن يكون المسجد مسجد سوق، أو مسجد طريق سيارات، أو ما أشبه ذلك، فإذا كان مسجد سوق يتردد أهل السوق إليه فيأتي الرجلان والثلاثة والعشرة يصلون ثم يخرجون، كما يوجد في المساجد التي في بعض الأسواق، فلا تكره إعادة الجماعة فيه، قال بعض العلماء : قولا واحدا، ولا خلاف في ذلك؛ لأن هذا المسجد من أصله معد لجماعات متفرقة ؛ ليس له إمام راتب يجتمع الناس عليه ” انتهى من “الشرح الممتع” (4/227- 231(.

অর্থাৎ, মসজিদ যদি বাজারের মসজিদ হয় কিংবা রাস্তার মসজিদ যাতে লোকজন দুই, তিন, চার, দশ জন করে আসতে থাকে আর নামাজ পড়ে বের হয়ে যায় তাহলে সকলের ঐক্যমতে এমন মসজিদে একাধিক জামাত করতে কোন সমস্যা নেই। কারণ, এজাতীয় মসজিদগুলো তৈরীই হয়েছে এই হিসেবে যে, তাতে একাধিক জামাত হবে। -শরহুল মুমতি‘ ৪/২২৭-২৩১

এমনিভাবে যে সকল মসজিদে ইমাম নির্ধারিত নেই সেখানেও একাধিক জামাত করাতে কোন সমস্যা নেই। কারণ, এসকল মসজিদে ইমাম নির্ধারিত না থাকার অর্থই হলো, এই মসজিদগুলো তৈরীই হয়েছে অনির্ধারিতভাবে যে যখন আসবে নামাজ পড়ে যাবে এবং ইমাম নির্ধারিত নেই মানে এই মসজিদের ১ম জামাত বলতে কিছুই নেই। অতএব, তাতে জামাত ২য় বা ৩য় হওয়ারও কোন প্রসঙ্গ নেই।

قال النووي رحمه الله تعالى: في مذاهب العلماء في إقامة الجماعة في مسجد أقيمت فيه جماعة قبلها :أما ‌إذا ‌لم ‌يكن ‌له ‌إمام ‌راتب فلا كراهة في الجماعة الثانية والثالثة وأكثر بالإجماع. انتهى من “المجموع” (4/222)

সালে আল-উসাইমিন রহ. এর পূর্ণ ফাতাওয়াটি এখানে পড়তে পারেনলিংক ১  লিংক ২

সানি জামাত: যে পদ্ধতিতে মতানৈক্য রয়েছে

স্থানীয় মসজিদ বা মহল্লার মসজিদ অর্থাৎ, এমন মসজিদ যাতে ইমাম, মুআযযিন, মুসল্লি এবং জামাতের সময় নির্ধারিত। এক শব্দে বললে, যেই মসজিদের ইমাম নির্ধারিত আছে। কারণ, ইমাম নির্ধারিত থাকলে ঐ মসজিদের মুসল্লি ও জামাতের সময়ও নির্ধারিত থাকবে।

তো যাইহোক! এসকল মসজিদে ইমাম সাহেব নির্ধারিত সময়ে মুসল্লিদেরকে নিয়ে জামাত করে ফেলেছেন। এখন কিছু লোক উক্ত জামাতে কোন কারণে শরীক হতে না পারায় তাদের জন্য কি ২য় জামাত করে নামাজ পড়া জায়েয হবে?

ইমাম আহমদ বিন হাম্বল ও হাম্বলী মাযহাবের অনুসারীগণ এ অবস্থায় তাদের জন্য ২য় জামাত করে নামাজ পড়াকে জায়েয বরং মুস্তাহাব বলেন।

সানি জামাত জায়েয বা মুস্তাহাব হওয়ার দলীল

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,

وَإِنَّ صَلَاةَ الرَّجُلِ مَعَ الرَّجُلِ أَزْكَى مِنْ صَلَاتِهِ وَحْدَهُ وَصَلَاتُهُ مَعَ الرَّجُلَيْنِ أَزْكَى مِنْ صَلَاتِهِ مَعَ الرَّجُلِ وَمَا كَثُرَ فَهُوَ أَحَبُّ إِلَى اللهِ تَعَالَى ‏”‏.

নিশ্চয় দু’জনের জামাত একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম। তিনজনের জামাত দু’জনের জামাতের চেয়ে উত্তম। জামাতে লোক সংখ্যা যত বেশী হবে মহান আল্লাহর নিকট তা ততই বেশি পছন্দনীয়। -আবু দাউদ ৫৫৪

এই হাদীসে বলা হয়েছে, একাকী সালাত আদায়ে চাইতে দু‘জনের জামাত উত্তম। তিনজনের জামা’আত দু’জনের জামা’আতের চেয়ে উত্তম। তাহলে মসজিদে এসে জামাত না পেলে একাকি না পড়ে দুই জন মিলে জামাত করে পড়বে এটাই এই হাদীসের দাবি।

عن أبي سعيد قال جاء رجل وقد صلى رسول الله صلى الله عليه و سلم فقال أيكم يَتَّجِرُ على هذا ؟ فقام رجل فصلى معه  

হযরত আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি এসে দেখে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়ে ফেলেছেন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছো, যে তার সঙ্গে নামাজ পড়ে আখেরাতে সাওয়াব এর ব্যবসা করতে চাও? অত:পর একজন দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে নামাজ পড়ল। -তিরমিযী ২২০

সহীহ্ বুখারীতে তা‘লীকান (সনদবিহীন) একটি বর্ণানা এসেছে,

باب فضل صلاة الجماعة وكان الأسود إذا فاتته الجماعة ذهب إلى مسجد آخر وجاء أنس إلى مسجد قد صلي فيه فأذن وأقام وصلى جماعة

একবার হযরত আনাস রা. মসজিদে এসে দেখলেন, নামাজ হয়ে গেছে। তখন তিনি আযান দিয়ে জামাত করে নামাজ পড়লেন। -বুখারী, ফযলু সালাতিল জামাআ‘।

সানি জামাত মাকরুহ

পক্ষান্তরে ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও ইমাম আবু হানীফা রহ. এ অবস্থায় ২য় জামাত করে নামাজ পড়াকে মাকরুহ (তাহরীমী) বলেন।

قال النووي رحمه الله: “وأما إذا كان له إمام راتب وليس المسجد مطروقا: فمذهبنا كراهة الجماعة الثانية بغير إذنه وبه قال عثمان البتي والأوزاعي ومالك والليث والثوري وأبو حنيفة. وقال أحمد واسحق وداود وابن المنذر لا يكره” انتهى من “المجموع” (4/222).

وقال الإمام أبو بكر بن المنذر رحمه الله تعالى:  باب الرخصة في الصلاة جماعة في المسجد الذي قد صلى فيه الإمام بأصحابه. قال أبو بكر: روينا أن رجلاً دخل المسجد وقد صلى النبي- صلى الله عليه وسلم فقال: (ألا رجل يتصدق على هذا فيصلى معه) . وقد اختُلف في هذا: ثبت عن أنس أنه صلى جماعة بعد صلاة الإمام، وروي ذلك عن ابن مسعود، وبه قال عطاء، والنخعي، والحسن البصرى، وقتادة، وأحمد، وإسحاق

واحتج أحمد بقول النبي صلى الله عليه وسلم: (صلاة الجمع تزيد على صلاة الفذ بسبع وعشرين درجة). وقالت طائفة: لا يجمع في المسجد مرتين، هذا قول سالم بن عبد الله، وبه قال أبو قلابة، وابن عون، وأيوب، وعثمان البتي، ومالك، والليث بن سعد، وسفيان الثوري، والأوزاعي، والشافعي، وأصحاب الرأي…

قال أبو بكر بن المنذر: بالقول الأول أقو” انتهى من “الإشراف على مذاهب العلماء” (2/ 146 — 147)

قال بدر الدين العيني الحنفي رحمه الله تعالى: “يكره عندنا ‌تكرار ‌الجماعة في مسجد واحد” انتهى من “البناية” (2/580)

وقال يحيى بن يحيى الليثي: “وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ مُؤَذِّنٍ أَذَّنَ لِقَوْمٍ، ثُمَّ انْتَظَرَ هَلْ يَأْتِيهِ أَحَدٌ؟ فَلَمْ يَأْتِهِ أَحَدٌ، فَأَقَامَ الصَّلَاةَ، وَصَلَّى وَحْدَهُ، ثُمَّ جَاءَ النَّاسُ بَعْدَ أَنْ فَرَغَ، أَيُعِيدُ الصَّلَاةَ مَعَهُمْ؟ قَالَ: لَا يُعِيدُ الصَّلَاةَ. ‌وَمَنْ ‌جَاءَ ‌بَعْدَ ‌انْصِرَافِهِ، ‌فَلْيُصَلِّ ‌لِنَفْسِهِ ‌وَحْدَهُ ” انتهى من “موطأ مالك، رواية يحيى” (1/ 72).

وقال الشافعي رحمه الله تعالى: “إذا كان للمسجد إمام راتب ففاتت رجلا أو رجالا فيه الصلاة، صلوا فرادى، ‌ولا ‌أحب ‌أن ‌يصلوا ‌فيه ‌جماعة، فإن فعلوا أجزأتهم الجماعة فيه، وإنما كرهت ذلك لهم؛ لأنه ليس مما فعل السلف قبلنا، بل قد عابه بعضهم ” انتهى من “الأم” (2/292).

سنن الترمذي: 220

قال أبو عيسى: و حديث أبي سعيد حديث حسن وهو قول غير واحد من أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم وغيرهم من التابعين قالوا لابأس أن يصلي القوم الجماعة في مسجد قد صلى فيه جماعة وبه يقول أحمد و إسحق وقال آخرون من أهل العلم يصلون فرادى وبه يقول سفيان و ابن المبارك و مالك و الشافعي يختارون الصلاة فرادى.

درس ترمذي: 1/483-485 مذاهب كا مفصل بحث

দলীল হলো,

باب فيمن جاء إلى المسجد فوجد الناس قد صلوا:

2177 – عن أبي بكرة أن رسول الله صلى الله عليه و سلم أقبل من نواحي المدينة يريد الصلاة فوجد الناس قد صلوا فمال إلى منزله فجمع أهله فصلى بهم . رواه الطبراني في الكبير الأوسط، ورجاله ثقات

একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার কোন এলাকা থেকে নামাজের উদ্দেশ্যে এসে দেখলেন, নামাজ হয়ে গেছে। তখন তিনি ঘরে গেলেন এবং পরিবারের লোকদেরকে নিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন।  -মাজমাউয যাওয়ায়েদ ২১৭৭

অথচ মসজিদে নববিতে জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়া এক হাজার নামাজের চাইতে শ্রেষ্ঠ (আহমদ ১৫২৭১)। এতদসত্বেও তিনি মসজিদে জামাত করেননি। যদি ২য় জামাতে নামাজ পড়া সাওয়াব ও মুস্তাহাব হতো, তাহলে অবশ্যই তিনি তা করতেন। এছাড়াও পেছনে আমরা ৬টি কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলোর প্রতি আরেকবার নযর বুলানো যেতে পারে।

সানি জামাত কখন মাকরুহ

ইমাম, মুআযযিন, জামাতের সময়, নির্দিষ্ট মুসল্লি বিশিষ্ট মসজিদে ১ম জামাত হওয়ার পর পুনরায় আবার আযান-ইকামত দিয়ে প্রথম বারের মত মসজিদের ভিতরে ইমাম মেহরাব কিংবা মেহরাবের বরাবর দাঁড়িয়ে ২য় জামাত করা মাকরুহে তাহরিমী।

عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا الصُّبْحَ فَقَالَ ‏”‏ أَشَاهِدٌ فُلَانٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا لَا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ أَشَاهِدٌ فُلَانٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا لَا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلَاتَيْنِ أَثْقَلُ الصَّلَوَاتِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَيْتُمُوهُمَا وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الرُّكَبِ وَإِنَّ الصَّفَّ الأَوَّلَ عَلَى مِثْلِ صَفِّ الْمَلَائِكَةِ وَلَوْ عَلِمْتُمْ مَا فَضِيلَتُهُ لَابْتَدَرْتُمُوهُ وَإِنَّ صَلَاةَ الرَّجُلِ مَعَ الرَّجُلِ أَزْكَى مِنْ صَلَاتِهِ وَحْدَهُ وَصَلَاتُهُ مَعَ الرَّجُلَيْنِ أَزْكَى مِنْ صَلَاتِهِ مَعَ الرَّجُلِ وَمَا كَثُرَ فَهُوَ أَحَبُّ إِلَى اللهِ تَعَالَى ‏”‏.

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে ফজরের সালাত আদায় করার পর বললেনঃ অমুক হাযির আছেন কি? সাহাবীগণ বললেনঃ না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ দুই ওয়াক্ত (ফজর ও ’ইশা) সালাতই মুনাফিকদের জন্য বেশি ভারী হয়ে থাকে। তোমরা যদি এই দুই ওয়াক্ত সালাতে কি পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে তা জানতে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তোমরা অবশ্যই এতে শামিল হতে।

জামা’আতের প্রথম কাতার মালায়িকাহর (ফিরিশতাদের) কাতারের সমতুল্য। তোমরা যদি এর ফাযীলাত সম্পর্কে জানতে, তাহলে অবশ্যই তোমরা এজন্য প্রতিযোগিতা করতে। নিশ্চয় দু’জনের জামা’আত একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম। তিনজনের জামা’আত দু’জনের জামা’আতের চেয়ে উত্তম। জামা’আতে লোক সংখ্যা যত বেশী হবে মহান আল্লাহর নিকট তা ততই বেশি পছন্দনীয়। -আবু দাউদ ৫৫৪

যেহেতু প্রথম জামাতটাই মসজিদের আসল জামাত, দ্বিতীয় জামাত করতে গেলে ১ম জামাতটা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে যেকারণে ১ম জামাতের লোক সংখ্যাও কমে যাবে -আর হাদীসে জামাতের লোক সংখ্যা বেশি হওয়া আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় বলা হয়েছে- তাই এ অবস্থায় ২য় জামাত করা মাকরুহ হবে।

অবশ্য মসজিদের ভিতরেই যদি ইমাম মেহরাব কিংবা মেহরাব বরাবর না দাঁড়িয়ে ২য় জামাত করা হয় তাহলে তা মাকরুহে তানজিহী হবে।

এখানে মেহরাব বা মসজিদের ভিতরে হওয়ার কারণে মাকরুহ হওয়ার কারণ এটাই যে, এভাবে জামাত করলে ২য় জামাতটা হুবাহু ১ম জামাতের মত হয়ে যাচ্ছে। এতে এটাও ১ম জামাতের মত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বুঝায়। তাই এখানে মেহরাব বা মসজিদের ভিতর এর কথা বলা হচ্ছে।

সানি জামাত যে সকল পদ্ধতিতে জায়েয

১. যে মসজিদে মহল্লার লোকেরা আযান বা আযানের এ‘লান করা ব্যতিত জামাত করেছে। আযানের এ‘লান করার অর্থ হলো, অনুচ্চস্বরে আযান দিয়ে তা এ‘লান করা। যদি আযান ব্যতিত কিংবা অনুচ্চস্বরে আযান দিয়ে এ‘লান করা ব্যতিত মহল্লার লোকেরা জামাত করে ফেলে তাহলে এখন অন্যান্য লোকদের জন্য ২য় জামাত করা জায়েয।

২. মসজিদে এক জামাতে মুসল্লিদের সংকুলান না হলে সেখানেও ২য় জামাত করা জায়েয।

৩. যে মসজিদে অন্য মহল্লার লোকজন কিংবা কোন মুসাফিরের জামাত মসজিদের জামাতের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই জামাত করেছে তাতেও ২য় জামাত করা জায়েয।

৪. যে সকল মসজিদের বারান্দা মসজিদের অন্তর্ভুক্ত নয় তাতে আযান ব্যতিত ২য় জামাত করা জায়েয হবে।

৫. মুসাফিরের জন্য পথ চলা অবস্থায় যে কোন মসজিদে ২য় জামাত করা জায়েয। কেননা, এতে ১ম জামাতের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।

৬. যে মসজিদে ইমাম, মুআযযিন এবং জামাতের সময় নির্দিষ্ট কিন্তু মুসল্লি নির্দিষ্ট নেই। যেমন: রাস্তার মসজিদ, যানবাহনের স্টপিজ, রেল স্টেশন তাহলেও ২য় জামাত করে নামাজ পড়া জায়েয। কারণ, এখানে মুসাফির, কিংবা দ্রুত স্থানান্তর হতে হবে এমন যাত্রীগণ থাকেন, তাই এসব স্থানে দ্বিতীয় জামাত হওয়াতে কোন সমস্যা নেই।

৭. এমনিভাবে যে সকল মসজিদে ইমাম নির্ধারিত নেই সেখানেও একাধিক জামাত করাতে কোন সমস্যা নেই। কারণ, এসকল মসজিদে ইমাম নির্ধারিত না থাকার অর্থই হলো, এই মসজিদগুলো তৈরীই হয়েছে অনির্ধারিতভাবে যে যখন আসবে নামাজ পড়ে যাবে এবং ইমাম নির্ধারিত নেই মানে এই মসজিদের ১ম জামাত বলতে কিছুই নেই। অতএব, তাতে জামাত ২য় বা ৩য় হওয়ারও কোন প্রসঙ্গ নেই।

সহীহ্ মুসলিম ৬৫১; বুখারী ৬৪৪; এ‘লাউস সুনান ৩/১৩৪২, ১৩৪৮; আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা ১/১৪৮ (দারুল হাদীস); বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৭৯; বাযযাযিয়া ৪/৫৬; তাতারখানিয়া ২/১৫৫; হিন্দিয়া ১/৮৩; গুনয়াতুল মুসল্লি পৃ. ৫৩০; আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৩২২; ফাতাওয়ান নাওয়াযেল ৪/৫০১; কিফায়াতুল মুফতী ৩/১৩৯; ইমদাদুল আহাকম ১/৪৯৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩৬২, ৩৭৪ টীকা।

তথ্যসূত্র

وَ اِذَا کُنۡتَ فِیۡهِمۡ فَاَقَمۡتَ لَهُمُ الصَّلٰوۃَ فَلۡتَقُمۡ طَآئِفَۃٌ مِّنۡهُمۡ مَّعَکَ وَ لۡیَاۡخُذُوۡۤا اَسۡلِحَتَهُمۡ ۟ فَاِذَا سَجَدُوۡا فَلۡیَکُوۡنُوۡا مِنۡ وَّرَآئِکُمۡ ۪ وَ لۡتَاۡتِ طَآئِفَۃٌ اُخۡرٰی لَمۡ یُصَلُّوۡا فَلۡیُصَلُّوۡا مَعَکَ وَ لۡیَاۡخُذُوۡا حِذۡرَهُمۡ وَ اَسۡلِحَتَهُمۡ ۚ وَدَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡ تَغۡفُلُوۡنَ عَنۡ اَسۡلِحَتِکُمۡ وَ اَمۡتِعَتِکُمۡ فَیَمِیۡلُوۡنَ عَلَیۡکُمۡ مَّیۡلَۃً وَّاحِدَۃً ؕ وَ لَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ اِنۡ کَانَ بِکُمۡ اَذًی مِّنۡ مَّطَرٍ اَوۡ کُنۡتُمۡ مَّرۡضٰۤی اَنۡ تَضَعُوۡۤا اَسۡلِحَتَکُمۡ ۚ وَ خُذُوۡا حِذۡرَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ اَعَدَّ لِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابًا مُّهِیۡنًا ﴿۱۰۲﴾ فَاِذَا قَضَیۡتُمُ الصَّلٰوۃَ فَاذۡکُرُوا اللّٰهَ قِیٰمًا وَّ قُعُوۡدًا وَّ عَلٰی جُنُوۡبِکُمۡ ۚ فَاِذَا اطۡمَاۡنَنۡتُمۡ فَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ ۚ اِنَّ الصَّلٰوۃَ کَانَتۡ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ کِتٰبًا مَّوۡقُوۡتًا ﴿۱۰۳﴾

جاء في الأصل ۱ : ۱۱۳ باب الأذان (ط. الاحرار) : قال : قلت : أرأيت قوما فاتتهم الصلوة في جماعة فدخلوا المسجد وقد أقيم في ذالك المسجد وصلي فيه فأراد القوم أن يصلوا فيه جماعة بأذان وإقامة ؟ قال : أكره لهم ذالك ولكن عليهم أن يصلوا وحدانا بغير أذان ولا إقامة ، لأن أذان أهل المسجد وإقامتهم تجزيهم، قلت: فإن أذنوا وأقاموا وصلوا جماعة ؟ قال : صلوة صلوتهم تامة وأحب إلي أن لا يفعلوا . انتهى .

وفي” الفتاوى السراجية” من ٩٧ كتاب الصلوة (ط. مكتبة الاتحاد): قال: لا بأس بتكرار الجماعة في مسجد على قوارع الطريق ليس له إمام ومؤذن معين . انتهى.وفي “الهندية” : ١٤٠/١ كتاب الصلوة (ط. زكريا ديوبند): قال: المسجد إذا كان له إمام معلوم وجماعة معلومة في محله فصلى أهله فيه بالجماعة لا يباح تكرارها فيه بأذان ثان، أما إذا صلوا بغير أذان يباح إجماعا وكذا في مسجد قارعة الطريق. انتهى .

وفي الدر المختار مع رد المحتار ۲: ۷۹ كتاب الصلوة (ط – الأزهر) : قال : وتكرار الجماعة إلا في مسجد على طريق فلا بأس بذالك .

قال ابن عابدين رح تحت هذه المسألة… يكره تحريما لقول الكافي لايجوز، والمجمع لايباح وشرح الجامع الصغير إنه بدعة……، ويكره تكرار الجماعة في مسجد محله بأذان وإقامة إلا إذا صلى بهما فيه غير أهله أو أهله لكن بمخافتة الأذان، ولو كرر أهله بدونهما أو كان مسجد طريق جاز إجماعا، كما في مسجد ليس له إمام ولا مؤذن ويصلي الناس فيه فوجا فوجا ،فإن الأفضل أن يصلي كل فريق بأذان وإقامة على حدة .انتهى

وفي “كفاية المفتى ١٤٨/٣: مسجد محلہ میں تکرار جماعت کا حکم (ط. ذکر یا د یوبند): قال :

حنفیہ کے نزدیک ایسی مسجد میں جس میں پنج وقت منظم طریقہ پر جماعت سے نماز ہوتی ہے پہلی جماعت ہو جانے کے بعد دوسری جماعت مکروہ ہے اگر دوسری جماعت اذان و اقامت کے اعادہ کے ساتھ ہو تو ہمارے آئمہ ثلاثہ کر اہت تحریمہ پر متفق ہیں لیکن اگر اذان واقامت کا اعادہ نہ ہو اور محراب سے بھی عدول کر لیا جائے تو اسکو امام ابو یوسف جائز فرماتے ہیں امام ابو حنیفہ ” کے نزدیک وہ بھی مکروہ ہے لیکن کراہت تحریمی نہیں تنزیہی ہے ہاں انفرادی طور پر (جماعت اول کے بعد) نماز پڑھنا اسی مسجدیں جائز ہے ۔ انتھی.

وفي القطوف الدانية مع جواهر الفقه ۲: )زکریا دیوبند) مکروہ تحریمی سے کم پر کبھی لفظ جائزہ کا اطلاق کرتے ہیں پس خزائن کے “جاز اجماعا سے یہی کراہت تنزیہی مراد ہے۔ انتھی

ويراجع أيضا الدر المختار مع رد المحتار ٧٩:٢ ، وبدائع الصنائع ١: ٣٧٨، والفقه الإسلامي وأدلته ١٥٣:٢ ، وامداد الفتاوى ۱ : ۳۶۲ ، وامد او الأحكام ۱۱۱:۲ ، وفتاوى محمودية ۴۱۳:۰۹ و امداد المفتين  ۳۰۸:۱. انتهى.

وَيُكْرَهُ تَكْرَارُ الْجَمَاعَةِ بِأَذَانٍ وَإِقَامَةٍ فِي مَسْجِدِ مَحَلَّةٍ لَا فِي مَسْجِدِ طَرِيقٍ أَوْ مَسْجِدٍ لَا إمَامَ لَهُ وَلَا مُؤَذِّنَ، وَأَمَّا مَسْجِدُ الشَّارِعِ فَالنَّاسُ فِيهِ سَوَاءٌ لَا اخْتِصَاصَ لَهُ بِفَرِيقٍ دُونَ فَرِيقٍ اهـ( رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الامامة-2/

আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিসের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য জাযাকাল্লাহ্

Check Also

রোযা ও তারাবীর মাসায়েল

রোযা ও তারাবীর মাসায়েল জানা আমাদের সবার জন্যই জরুরী।  যাতে করে আমাদের সকলের রোযাগুলো সহীহ্ …

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন?

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন? প্রবন্ধটি তালাকের ক্ষেত্রে একটি সহজ সরল উপস্থাপন। এতে একজন স্বামী তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!