ইসকন; এখনই সতর্ক হোন! প্রবন্ধটি বর্তমানের জন্য খুবই যুগোপযোগী একটি কলাম। যে বিষয়ে আমাদের অস্পষ্ট থাকা কোনভাবেই কাম্য নয়। তাই দ্বীনী দায়িত্ববোধ লেখাটির অবতারনা। আশা করি পাঠক পড়ে উপকৃত হবেন।
ইসকন; এখনই সতর্ক হোন!
ভূমিকা
বর্তমানে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন একটি ব্যাপক আলোচিত। দিন দিন তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। সাংগঠনিকভাবে এবং অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী একটি দল হিসেবে মানুষের কাছে ব্যাপক প্রসিদ্ধ। উগ্রতার সাথে সাথে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে তারা নাম লিখিয়েছে বহু আগেই। বাংলাদেশেও তাদের উগ্রতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ব্যাপক ও বিস্তৃত।
বক্ষমাণ প্রবন্ধে ইসকনের পরিচয়, ইতিহাস, প্রতিষ্ঠা, কার্যক্রম ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরার চেষ্টা করব। সবশেষে আমাদের করণীয় কী তা নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ্।
ইসকনের ফুল মিনিং
ইসকন (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস) বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের যাত্রা শুরু হয় ৫৮ বছর আগে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় শতাধিক দেশে ইসকনের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে কিছু দেশে সংগঠনটি নিষিদ্ধ।
প্রতিষ্ঠা
ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ১৯৬৬ সালের ১৩ জুলাই এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। ইসকন মূলত বৈষ্ণব ধর্মের একটি অংশ এবং ভগবান কৃষ্ণকে কেন্দ্র করে তাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ভক্তিযোগ বা কৃষ্ণভাবনামৃত সংস্কৃতি হাজার বছর ধরে শুধুমাত্র ভারতবর্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের বহু দেশে সম্প্রসারণ ঘটেছে সংগঠনটির।
ইসকনের কাজ কি
ইসকনের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মন্দির নির্মাণ, ধর্মীয় উপদেশ দেওয়া, শ্রীমদ্ভগবদগীতা প্রচার, ভক্তি কার্যক্রম এবং দাতব্য সংস্থা পরিচালনা। মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলনও করে থাকে ইসকন। সংস্কৃতি চর্চার অংশ হিসেবে যোগব্যায়াম এবং জীবনযাত্রার উপর শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম করে থাকে সংগঠনটি। অভাবীদের বিনামূল্যে নিরামিষ খাবারও বিতরণ করে থাকে ইসকন।
যেসব দেশে নিষিদ্ধ
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে ইসকনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ইসকন রাশিয়া এবং অন্যান্য প্রাক্তন সোভিয়েত রাজ্যে কাজ করতে সক্ষম হয়। চীনে ইসকনের কার্যক্রমের অনুমতি নেই। ইসকনসহ বিদেশি ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলিকে প্রকাশ্যে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয় না দেশটিতে।
মালয়েশিয়ায়ও নিষিদ্ধ ইসকন। দেশটিতে ইসকনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ আছে। শিয়াশাসিত ইরানে ইসকনের ক্রিয়াকলাপের অনুমতি নেই। এ ছাড়া সৌদি আরব ও আফগানিস্তানে ইসকনের কর্মকাণ্ডের অনুমতি নেই।
কিছু দেশে আংশিক নিষিদ্ধ
ইন্দোনেশিয়ায় আংশিক নিষিদ্ধ ইসকন। কিছু শর্ত মেনে দেশটিতে কার্যক্রম চালাতে পারে সংগঠনটি। এ ছাড়াও তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানে ইসকনের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি জারি রয়েছে।
যেসব দেশে সক্রিয় ইসকন
ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রাজিল, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া, উগান্ডা, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই ও ইসরাইলে ব্যাপক সক্রিয় ইসকন। এ ছাড়াও মেক্সিকো, কানাডা, জাপান, থাইল্যান্ড, মরিশাস, ফিজি, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়ায় ইসকনের কর্মসূচি রয়েছে।
বাংলাদেশে ইসকনের অস্তিত্ব
বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাপকভাবে সক্রিয় ইসকন। দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি মন্দির পরিচালনা করে তারা। সত্তরের দশকের শুরুতে এ দেশে সংঘটির কার্যক্রম শুরু হয়। রাজধানী ঢাকার স্বামীবাগ মন্দির, যা বর্তমানে ইসকনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এটি সংগঠনটির প্রথম কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ইসকনের বাংলাদেশ শাখা তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যেমন ধর্মপ্রচার, মন্দির পরিচালনা এবং বার্ষিক রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন। স্বামীবাগ মন্দিরে ভক্তরা নিয়মিত কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেন এবং ভগবানের সেবা করে থাকেন।
সৌরভ গাঙ্গুলির স্পর্ধা দেখুন
দাদাগিরির দাদা সৌরভ গাঙ্গুলি কে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। সে বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ করতে চায়। সে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বলে, চট্টগ্রাম ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তারপর দর্শকদের কে নকশা করে বুঝিয়ে বলে ভারতের নৌপথের জন্য সবচাইতে ভালো স্পেস হলো চট্টগ্রাম। সে বুঝাতে চাইছে, চট্টগ্রাম কে যে কোন মূল্যে আমাদের দখলে আনতে হবে। এই দাদাগিরি দাদাকে জুতার মালা দিয়ে আমাদের চট্টগ্রামে স্বাগত জানানো উচিৎ।
মনে রাখবেন, এটা ভারতের একটা কঠিন ষড়যন্ত্র। চট্টগ্রাম কে তারা তাদের দখলেই নিতে চায়। তারা চায় পূর্ব তিমুর এর মত এটি কে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীন করতে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র পূর্ব তিমুর। ইন্দোনেশিয়ার তিমুর দ্বীপের পূর্বাঞ্চলীয় এই অংশটি ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল। সে সময় এর নাম ছিল পর্তুগিজ তিমুর। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
তবে এর ৯ দিনের মধ্যেই ইন্দোনেশিয়া পূর্ব তিমুর দখল করে নেয়। ইন্দোনেশিয়ার ২৭তম প্রদেশ ঘোষণা করা হয় একে। এরপর কয়েক দশক ধরে ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে পূর্ব তিমুরের বিচ্ছিন্নতাবাদী কয়েকটি গ্রুপের লড়াই চলে।
২০০২ সালের ২০ মে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পূর্ব তিমুর। মূলত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানেই স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। পূর্ব তিমুরে অবস্থান করছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী।
এশিয়ার দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি পূর্ব তিমুর। বিদেশি সহায়তার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। খরাপ্রবণ দেশটির অবকাঠামো খুব একটা উন্নত নয়। উপকূল থেকে কিছুটা দূরে তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
মুশরিক ও হিন্দুত্ববাদীরা সবসময়ই মুসলিমদের বিরুদ্ধে ছিল
মহান রব্বুল আলামীন সূরা মায়িদার ৮২ নং আয়াতে বলেন-
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةَ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا
অর্থ: হে নবী! আপনি মুসলমানদের প্রতি কঠোরভাবে শত্রুতাপোষনকারী হিসাবে ইহুদী এবং (হিন্দু) মুশরিকদেরকেই পাবেন। -সূরা মায়েদা ৮২
ইতিহাস সাক্ষী, ইসলামের শুরুকাল থেকে যুগে যুগে মুশরিকরা ইসলাম এবং মুসলমানদের বিপক্ষেই ছিল। ছোট্ট কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরছি-
১. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যামানার ঘটনা:- মক্কার মুশরিকদের সর্বাত্মক জুলুমে যখন মুসলিমদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন বহু মুসলিম হাবশায় হিজরত করে চলে যায় এবং বাদশাহ নাজাশীর আশ্রয় গ্রহণ করে। নাজাশী তো বটেই, হাবশার জনগণও তখন তাদের সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করেছিল।
মক্কার মুশরিকগণ নাজাশীর কাছে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছিল, তিনি যেন তাঁর দেশ থেকে মুসলিম শরণার্থীদেরকে বের করে দেন ও তাদেরকে মক্কা মুকাররমায় ফেরত পাঠান, যাতে মুশরিকগণ তাদের উপর আরও নির্যাতন চালাতে পারে।
নাজাশী তখন মুসলিমদেরকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনলেন। তাতে তাঁর কাছে ইসলামের সত্যতা পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে তিনি যে মুশরিকদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তাই নয়; বরং তারা যে উপহার-উপঢৌকন পেশ করেছিল, তাও ফেরত দিলেন। (তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন: সূরা মায়িদা- আয়াত নং ৮২)
২. আরাকানের মুশরিক সরকার যখন রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে নির্যাতনের ষ্টীমরোলার চালিয়ে মায়ানমার থেকে বের করে দেয়, তখন তাদেরকে বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় দেয়। অতঃপর এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে গত ১৮ নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখে রোহিঙ্গা সংকটের জরুরি সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে বিপুল ভোটে চতুর্থবারের মতো প্রস্তাব গৃহীত হয়।
রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি শীর্ষক প্রস্তাবটিতে ভোটাভোটির দিক দিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। রাশিয়া, চীনসহ ৯ দেশের বিরোধীতার মুখে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত রেজুলেশন গ্রহণ করা হয়। ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে রেজুলেশনটি উত্থাপন করে, যাতে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় ১০৪টি দেশ।
রেজুলেশনটির পক্ষে ভোট দেয় ১৩২টি দেশ, বিপক্ষে ভোট দেয় ৯টি। আর ভোট দানে বিরত থাকে ৩১টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দেয়া দেশ হচ্ছে মিয়ানমার, চীন, রাশিয়া, বেলারুশ, কম্বোডিয়া ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, জিম্বাবুয়ে ও লাওস। ভোট না দেয়া দেশ হচ্ছে প্রতিবেশী ভারত, সার্কভুক্ত নেপাল, শ্রীলঙ্কা; জাপান সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভেনেজুয়েলাসহ আরও বেশ কয়েকটি।
উপরিউক্ত ঘটনার দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন, যারা আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরোধিতা করেছে বা চুপ ছিল এরা সবাই মুশরিক, হিন্দু, মূর্তিপূজারী ।
৩. প্রিয়া সাহা, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। গত ১৬ জুলাই ২০১৯ ইং সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতা বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে কথা বলেন।
এতে বাংলাদেশি পরিচয়ে প্রিয়া সাহা উপস্থিত হয়ে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এরপর তিনি বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে।
আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি। এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীলতা স্বরূপ এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান। এ সময় ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, ‘কারা জমি দখল করেছে, কারা বাড়ি-ঘর দখল করেছে?’ ট্রাম্পের প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘তারা মুসলিম মৌলবাদি গ্রুপ এবং তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সব সময়ই পায়।’
ইসকনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম; কিছু নমুনা
এখানে বাংলাদেশের আলোচনাও খুব গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে। এখান থেকে বাংলাদেশে তাদের অপতৎপরতার একটি চিত্র আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
নরেন্দ্র মোদির গুজরাটে গণহত্যা
২০০২ সালে মোদি যখন ভারতের গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন সেখানে দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলমান। এই ঘটনায় মোদিকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছিল। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১০ সালে মোদিকে মামলা থেকে খালাস দেন।
ওই দাঙ্গার পর প্রায় ১ দশক মোদির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। -দ্যা ডেইলি স্টার ২৭ নভেম্বর ২০২৪; বিবিসি বাংলা ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪
ভারতের গুজরাট রাজ্যের গোধরায় ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু তীর্থযাত্রী। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভারতের ইতিহাসের সবচাইতে গুরুতর সাম্পদ্রায়িক দাঙ্গা শুরু হয়েছিল, যাতে ১ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়- যারা প্রধানত মুসলিম।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সবরমতী এক্সপ্রেস নামের ওই ট্রেনটি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে অযোধ্যা থেকে ফেরার সময় একদল মুসলিম তার ওপর আক্রমণ চালায় এবং ট্রেনটি জোর করে থামিয়ে একটি বগিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু পরে রাজ্য সরকারের একটি তদন্ত কমিশন ২০০৮ সালে এক রিপোর্টে বলে যে, ট্রেনে আগুন লাগানোর ঘটনা ছিল একটি ষড়যন্ত্র।
সরকারি একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ট্রেনের ভেতরের একটি দুর্ঘটনা থেকেই হয়তো আগুনের সূচনা হয়েছিল। ২০১৭ সালে আগুন লাগানোর মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১১ জন মুসলিম ব্যক্তির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে ভারতের একটি আদালত।
ওই আদালত অন্য আরো ২০ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা বহাল রেখেছে এবং অন্য ৬৩ জনকে খালাস দেয়ার রায় চ্যালেঞ্জ করে করা একটি আপিল খারিজ করে দিয়েছে। যাদেরকে ২০১১ সালে আদালত খালাস দিয়েছিল, তার মধ্যে চার ব্যক্তিকে ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত বলে বলা হয়। আদালত এ ছাড়াও গুজরাট রাজ্য সরকারকে গোধরা ট্রেন অগ্নিকান্ডের শিকার প্রতি পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেবার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, রাজ্য এবং রেল কর্তৃপক্ষ আইন-শৃংখলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
যে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়, সে সময় গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং হিন্দু দাঙ্গাকারীদের পরোক্ষভাবে উস্কানি দিয়েছিলেন। যদিও কমিশন এসব অভিযোগ খারিজ করে দেয়।
এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল অভিযোগ করেছেন, গুজরাট দাঙ্গার সময় প্রশাসন সেনা নামাতে চব্বিশ ঘন্টারও বেশি দেরি করেছিল- যেটা না-হলে হয়তো বহু প্রাণহানি ঠেকানো যেত। সেনাবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান জমিরউদ্দিন শাহ গুজরাট দাঙ্গার মোকাবিলায় মোতায়েন করা সেনাদের নেতৃত্বে ছিলেন, তিনি তার সদ্যপ্রকাশিত বইতে দাঙ্গা ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন, যা ১৪ অক্টোবর ২০১৮ বিবিসির এক রিপোর্টে ওঠে এসেছে।
‘দ্য সরকারি মুসলমান’ নামে তার ওই বইটি প্রকাশ করতে গিয়ে ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিও দাঙ্গার সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওই ভয়াবহ দাঙ্গার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ভারতের এখনকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০০২ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় গুজরাটে দুহাজারেরও বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন মুসলিম।
‘দ্য সরকারি মুসলমান’ নামে তার বইতে সাবেক লে: জেনারেল শাহ বর্ণনা করেছেন কীভাবে দাঙ্গাবিধ্বস্ত গুজরাটে পৌঁছানোর পরও তার বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গুজরাটে দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর পরই আমি যোধপুরে তখনকার সেনাপ্রধান পদ্মনাভনের ফোন পেলাম। একটু অবাকই হয়েছিলাম, কারণ সেনাপ্রধান সরাসরি ডিভিশন কমান্ডারকে ফোন করে নির্দেশ দিতেন না।
কিন্তু পাঞ্জাবে একসঙ্গে কাজ করার পুরনো পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি আমাকে ভাল করে চিনতেন, ডাকতেন ‘জুম’ বলে। আর্মি চিফ আমাকে বললেন, জুম- তোমার ট্রুপস নিয়ে এক্ষুনি গুজরাটে চলে যাও, দাঙ্গা ঠেকাও। আকাশপথে একটার পর একটা সর্টি দিয়ে ২০০২-র ২৮ শে ফেব্রুয়ারি আর ১লা মার্চের মধ্যবর্তী রাতেই যোধপুর থেকে গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদে পৌঁছে গিয়েছিল বিশাল সংখ্যক সেনা।
কিন্তু সেই বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা জমিরউদ্দিন শাহ জানাচ্ছেন পুরো রাজ্য জুড়ে তখন চলছে ভয়াবহ দাঙ্গা, কিন্তু তাদের পুরো একটা দিনেরও বেশি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছিল। মধ্যরাতের পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে দেখা করতে গিয়েছিলেন- সেখানে তখন ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজও। কিন্তু তার পরেও সেনারা দাঙ্গা ঠেকানোর জন্য রাস্তায় নামতে পারেনি চব্বিশ ঘন্টারও বেশি সময়।
সাবেক লে: জেনারেল জমিরউদ্দিন শাহ আরও জানাচ্ছেন, আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল গুজরাটে পৌঁছানোর পর বাহিনীকে গাড়ি, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ এসকর্ট, কমিউনিকেশন সিস্টেম আর শহরের নকশা দেওয়া হবে। কিন্তু পৌঁছে দেখলাম ওসব কিছুই নেই।
একজন ব্রিগেডিয়ার শুধু এসেছিলেন দেখা করতে, তারও কোনও ধারণা ছিল না কেন কিছুই নেই। শুনলাম রাজ্যের মুখ্য সচিব বিদেশে। যিনি দায়িত্বে ছিলেন তাকে যোগাযোগ করার বহু চেষ্টা করলাম – তিনি ফোনই ধরলেন না। এভাবে মূল্যবান সময়ের অপচয়ে সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকতে বাধ্য হয়েছিল- আর তাতেই দাঙ্গায় প্রাণহানি অনেক বেড়ে যায় বলে বইতে লিখেছেন জমিরউদ্দিন শাহ।
সেই রিপোর্টকেও সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন মি শাহ, জানিয়েছেন তদন্তকারী দল তার সঙ্গে কোনও কথাই বলেনি। দিল্লিতে বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠানে আরও আক্রমণাত্মক ছিলেন ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি। জনাব আনসারি সেখানে বইটি থেকে একের পর এক দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, দাঙ্গার সময় কীভাবে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে প্রশাসন।
তার কথায়, কারফিউ জারির নির্দেশ দিয়েও তা বলবৎ করা হয়নি, কোথাও শান্তি কমিটি গড়ার কোনও উদ্যোগ ছিল না। পুলিশ ছিল পক্ষপাতপূর্ণ, তাদের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক মতে বিশ্বাসী। বিএসএফ ও আধাসামরিক বাহিনীর বহু কোম্পানিকে সেভাবে কাজেই লাগানো হয়নি, এমন কী হিংসায় উসকানি দিতে মহিলাদেরও দাঙ্গায় সামিল করা হয়েছিল, বলেন মি আনসারি।
সাবেক উপরাষ্ট্রপতি আরও বলেছেন, ভারতের কোনও রাজ্যে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হলে কেন্দ্রের উচিত সংবিধানের ৩৫৫ ধারা প্রয়োগ করা, কিন্তু গুজরাটে সেটাও করা হয়নি। -ইনকেলাব ২৭ নভেম্বর ২০২৪
খোদ হিন্দুদের উপর আক্রমণ
২০২১ এর মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে ইসকন চট্টগ্রামের সনাতনী হিন্দু প্রতিষ্ঠান প্রবর্তক সংঘের উপর আকস্মিক হামলা চালায়। এতে ১২ জন গুরুতর আহত হয়।
এদিকে ইসকনকে ‘সাধুবেশে সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে নামছে সনাতনী সংগঠনের নেতারা। গতকাল এ তথ্য জানান প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, তারা প্রবর্তকের কর্মীদের ওপর যে হামলা করেছে তা ‘সাধুবেশে সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম ছাড়া আর কিছু নয়।
শুধু সনাতনীরা কেন কোন ধর্মের মানুষে এমন উগ্রবাদী কর্মকান্ড সমর্থন করতে পারে না। আমরা এর বিরুদ্ধে গণসংযোগ করবো। আগামী ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের সনাতনী সব সংগঠনের নেতাদের সাথে একটি মতবিনিময় সভা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। ইসকনের হামলার ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।
প্রবর্তক সংঘের কর্মকর্তারা জানান, ইসকনকে মন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়া জমির বাইরে তারা স্থাপনা তৈরি করে। প্রবর্তকের স্বার্থে ওই স্থাপনা সরিয়ে কাজ করতে গেলে গত ১৪ মার্চ কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ইসকনের লোকজন। হামলা থেকে রেহাই পাননি প্রবর্তকের শিক্ষক, সত্তরোর্ধ কর্মচারী এবং মহিলারাও। আহতদের অভিযোগ, হামলার পর তারা সিসিটিভি ফুটেজসহ অনেক আলামত সরিয়ে নেয়।
পুলিশ তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করলে এসব আলামত সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকতো না বলেও জানান তারা। আহতদের একজন বলেন, এই বয়সে এসে নিজ ধর্মের মানুষের হাতে রক্তাক্ত হলাম। এটা খুবই লজ্জার। কখন আবার হামলার শিকার হন এই ভয়ে অনেকে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। -ইনকেলাব ২৩ শে মার্চ ২০২১
আইনজীবী আলিফ হত্যা
মঙ্গলবার (২৬/১১/২৪) রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান তার অনুসারীরা। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে চিন্ময় দাসের অনুসারীরা আদালত ভবনের নীচ থেকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে তুলে নিয়ে রঙ্গম কনভেনশন হলের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে ফেলে চলে যায়। -যুগান্তর ২৭ নভেম্বর ২০২৪
মধুখালীতে দুই সহোদর মুসলিম হত্যা
ফরিদপুর মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী এলাকায় গত ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুজন মুসলিম নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করেছে স্থানীয় হিন্দু যুবক-জনতা ও জনপ্রতিনিধিরা। ঘটনার পরদিন কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর ওই এলাকার কৃষ্ণনগর গ্রামের একটি মন্দিরের ভেতরে মূর্তির গায়ে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়।
এটা প্রথমে দেখতে পায়, ওই মন্দিরের পূজারী মহিলা তপতী রানী মণ্ডল এবং তার চিৎকারেই অন্যরা জানতে পারে। এরপর কৃষ্ণনগরসহ গোটা পঞ্চপল্লীর হাজারো লোকজন, যাদের প্রায় সবাই হিন্দু, সেখানে জমায়েত হয়ে যায়।
মন্দিরের পাশে একটি স্কুলে সরকারি কাজের অংশ হিসেবে নির্ধারিত ঠিকাদারের অধীনে কর্মরত মুসলিম শ্রমিকদের হাত-পা বেঁধে স্কুলের ভেতরে আটকে রেখে মারধর শুরু করা হয়, শুধুই সন্দেহবশত। ওইসময় মারধরের ঘটনায় নেতৃত্ব দেয় ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) অজিৎ কুমার সরকার, ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) লিংকন বিশ্বাস, প্রভাষ কুমার ও বিনয় সাহা-সহ স্থানীয় হিন্দু লোকজন। ঘটনার শুরুর দিকেই ফোনে ডেকে আনা হয় ডুমাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান তপনকে।
মারমুখী হিন্দুদের মধ্যেই চেয়ারম্যান নিজে নির্মাণ-শ্রমিক দুই মুসলিম সহোদর আশরাফুল ইসলাম ও আরশাদুল ইসলামকে পেটানো শুরু করে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে মেম্বার অজিৎকুমারও প্রহার করতে থাকে। প্রহারকারীদের হাতে ছিল নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য আনা রড, বাঁশ ও লাঠি। এরপর পরিস্থিতি আরো উত্তেজনা-মুখর হয়ে ওঠে। স্কুল কক্ষের ভেতরে-বাইরে অবস্থানরত হিন্দু জনতা কক্ষের ভেতর ঢুকে মুসলিম শ্রমিকদের মারতে থাকে।
হিন্দু জনতার আক্রোশ ও ক্ষুব্ধতার সামনে নিজেকে অনিরাপদ মনে করে চেয়ারম্যান তখন বেরিয়ে যায় এবং পরে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে আসে। ততক্ষণে দুজন মুসলিম সহোদর শ্রমিক নিহত হয় এবং দুজন মারাত্মক আহত হয়।
ঘটনার ৪ দিন পর ২১ এপ্রিল সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত দুটি ভিডিও ক্লিপে স্পষ্ট দেখা যায়, হত্যাপর্ব শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে স্কুলঘরে বেঁধে রাখা হয়েছে মুসলিম নির্মাণ শ্রমিকদেরকে।
তাদের চোখে-মুখে আতঙ্ক এবং অসহায়ত্ব। তাদের সামনে চেয়ারম্যান, হিন্দু মেম্বার ও নেতারা জিজ্ঞাসাবাদ করছে, কথাবার্তা বলছে। এরপর শুরু হয়েছে রড দিয়ে প্রহার। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে হত্যাপর্ব শুরু হয়েছে। উপস্থিত হিন্দু জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছে এর পরে। এটা পথে-ঘাটে সংঘটিত আকস্মিক কোনো গণপিটুনির ঘটনা ছিল না।
ঘটনার ৯ দিন পর ২৬ এপ্রিল ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক তার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দিতে গিয়ে এই দুটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন, ২১ এপ্রিল এ দুটি ক্লিপ প্রকাশের আগে আমাদের জানা ছিল না, ঘটনার সূচনা কীভাবে হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল।
আসামী চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ও মেম্বার অজিৎকুমার পালিয়ে গেছে দাবি করে তিনি তাদের সন্ধান দেওয়ার জন্য দেশের মানুষ ও সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা চান। এ থেকেও বোঝা যায়, এই হত্যাকাণ্ড আকস্মিক কোনো গণপিটুনির ঘটনা ছিল না।
ঘটনার ৫ দিন পর ২২ এপ্রিল মানবজমিন পত্রিকা একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে অন্য অনেক বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি একথাটিও তুলে ধরা হয় যে, মর্মান্তিক এ ঘটনার পেছনে স্কুলের ঠিকাদারি কাজে হিন্দু মেম্বার অজিৎকুমারের চাঁদাবাজির একটা পূর্বসূত্র ও জেদ সক্রিয় ছিল। ওই প্রতিবেদনে দুজন গ্রাম পুলিশের ভাষ্য এভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে :
‘১ নং ওয়ার্ড গ্রাম পুলিশ সদস্য অমৃত কুমার বসু বলেন, বিনয় সাহা মূল হোতা। সে এখানে কেন আসল? তার চরিত্রই ভালো না। সে ধর্মীয় উসকানিমূলক কাজকর্ম করে। সে ঘটনার সময় নেতৃত্ব দিয়েছে।
২ নং ওয়ার্ড গ্রাম পুলিশ সদস্য সুজিত অধিকারী বলেন, ঘটনার সময় অসিম বিশ্বাসের হাতে গোড়ালি ছিল। সে খুব উত্তেজিত ছিল। গোবিন্দ নামের ছেলেটি মধুখালী থানার ওসির সঙ্গে অনেক বাকবিতণ্ডা করেছে। গোবিন্দ এলাকার তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব দেয়।’
সংবাদপত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মধুখালী উপজেলায় একসঙ্গে পাঁচটি গ্রাম এমন, যে সেখানে সব বাসিন্দাই হিন্দু/সনাতন ধর্মাবলম্বী, কোনো মুসলিম বাসিন্দা নেই। গ্রামগুলো হচ্ছে, কৃষ্ণনগর, জিনিসনগর, জাননগর, সীধলাজুড়ি ও তারাপুর; এই পাঁচগ্রামকেই একসঙ্গে বলা হয় পঞ্চপল্লী। হামলার দিন ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় এই পাঁচ গ্রামের অন্তত ২ হাজার লোক কৃষ্ণনগরে জামায়েত হয়ে হামলায় অংশ নেয়।
ঘটনার এই সংখ্যা ও বর্ণনাটি পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মন্দিরের ভেতরে মূর্তির গায়ে আগুন লাগানোর সন্দেহে ভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা মুসলিম নির্মাণ শ্রমিকদের পিটিয়ে হত্যা করার এই পর্বটিতে এত এত উৎসাহী হিন্দু অংশ নিল।
কিন্তু ওই পাঁচপল্লীর হিন্দুদের কোনো নেতা বা কণ্ঠ এ বীভৎস হত্যাকাণ্ডে বাঁধা দিয়েছে বলে কোনো গণমাধ্যম কোনো খবর দিতে পারল না। দেখা গেল, স্থানীয় হিন্দুদের মধ্য থেকে কিছু লোক উদ্যোগী হয়ে ওইদিন হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছে, কিছু লোক হত্যাকারীদের পাশে পাশে থেকে বর্বরতায় সহযোগিতা করেছে এবং কিছু লোক উৎসাহী দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এদের মধ্যে কেউ এই হত্যাকাণ্ডে বাঁধা দিয়েছে বলে কোনো নিউজ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ কিংবা ফরিদপুরের ডিসির বক্তব্যেও এমন কোনো তথ্য সামনে আসেনি। এবং ঘটনার দিন কৃষ্ণনগরে উপস্থিত হয়েও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো একশনে যায়নি। ওইদিন শুধু দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
প্রশ্ন হচ্ছে, কয়েকজন মুসলিম নির্মাণ শ্রমিককে নিছক সন্দেহবশত প্রহার ও হত্যার আয়োজনে অংশ নিতে রাজধানী থেকে দূরবর্তী একটি উপজেলার পল্লীগ্রামের বাসিন্দা হাজারো হিন্দুর মন কীভাবে এত উথলা ও আগ্রহী হয়ে উঠল? তাদের মনে এত হিংসা ও উগ্রতার চাষ কীভাবে কতদিনে কোন্ কোন্ পন্থায় সম্পন্ন হল? এটা কি হঠাৎ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা, নাকি প্রতিবেশী বড় দেশের উগ্র হিন্দুত্ববাদী নৃশংসতা এবং এদেশীয় বিভিন্ন হিন্দুবাদী উসকানি এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে?
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, মধুখালী উপজেলায় যে বিষাক্ত ঘটনা ঘটল, এটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন উৎস ও প্রসঙ্গ থেকে হিন্দুয়ানী উগ্রতা এবং হিন্দুদের ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষের যেসব আলামত সামনে আসছিল, তারই একটি ছোট্ট বিস্ফোরণ।
এসবের বড় একটি উৎস প্রতিবেশী দেশের হিন্দু উগ্রবাদী রাজনীতি, উগ্রবাদী প্রচারণা এবং বিভিন্ন মুসলিম-বিদ্বেষী ঘটনা। বড় রাষ্ট্র, বড় প্রচার মাধ্যম ও সংক্রামক বিনোদন-সংস্কৃতির কারণে ওই উগ্রবাদের একটি উপমহাদেশীয় ক্ষেত্র দাঁড় করানো হয়েছে।
ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের হিংস্রতার কারণে উপমহাদেশীয় কয়েকটি দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও সুপিরিয়র মনোভাবের বিস্তার ঘটেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইসকন, হিন্দু মহাসভা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আরএসএস-এর নানামুখী প্রচারণা ও ইন্ধন।
উগ্র হিন্দুত্ব-তোষণের দেশীয় রাজনীতিও এ উগ্রতার শেকড় দৃঢ় করায় ভূমিকা রেখেছে। যে কারণে এদেশে ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষী বিভিন্ন ইস্যু ও ঘটনা সম্প্রতি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সব মহলের সচেতনতা প্রয়োজন, প্রয়োজন কার্যকর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ।
বিস্ময়কর লাগলেও সত্য হল, ঘটনার ১৩ দিন পরও হিন্দু কম্যুনিটির দায়িত্বশীল কেউ নির্মম সে ঘটনার প্রতিবাদ করে, বিচার চেয়ে বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি। এই উগ্রতা নিয়ে কোনো ভাবনা কিংবা বোধের উদয়মূলক কোনো আচরণ একদমই প্রকাশ পায়নি। -আল কাউসার, মে ২০২৪
ঘটনার পর অন্যান্য হিন্দুদের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন জেলার উগ্র হিন্দুরা উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মোহন্ত ফেসবুকে পোস্ট করেছে-
‘ফরিদপুরে ৪টা মোল্লা খতম, সামনে আরও অনেক কিছু হতে চলেছে, সনাতনিরা রেডি হও! প্রস্তুতি ফরিদপুর দিয়ে শুরু, জয় শ্রী রাম ।
মুসলিম নারীদের ইয্যত লুন্ঠন
২০১১ সালে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বাংলার শিক্ষক পরিমল জয়ধর কোচিং করানোর সময় এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। বর্তমানে তার যাবজ্জিবন কারাদন্ড হয়েছে। তবে পরিমল ইসকনের সদস্য কি না তা জানা যায় নি।
ইসকনের আশ্রম বলাৎকারের কেন্দ্রভূমি
ইসকনের মন্দিরে থাকা ছোট ছোট শিশুকে ধর্ষণ ও বলাৎকার করা হয় অনবরত। এর মূলে রয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ন দাস। দেখুন mba times এর প্রতিবেদন।
https://www.youtube.com/watch?v=2f1gJn7wCVw
জাতীয় পতাকার ওপর ইসকনের পতাকা
চট্টগ্রামে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ইসকন চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দন কুমার ধর প্রকাশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে (৩৮) প্রধান আসামি করে কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানার উত্তর মোহরা এলাকার মো. ফিরোজ খান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা নিউমার্কেট মোড়ে একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। গত ২৫ অক্টোবর লালদীঘি ময়দানে সনাতনীদের সমাবেশের দিন ওই পতাকার ওপর ইসকনের গেরুয়া রঙের ধর্মীয় পতাকা স্থাপন করে দেওয়া হয়।
এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অখণ্ডতাকে অস্বীকারের শামিল। আসামিরা তাদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপর তাদের ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশের ভেতর অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে অকার্যকর করার তথা রাষ্ট্রদ্রোহ কাজে লিপ্ত হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে শ্রেণিবিদ্বেষের জন্ম হয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে নাগরিকদের মধ্যে শ্রেণিবিদ্বেষ ছড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছে।
প্রশাসন সহ সরকারী চাকুরিতে হিন্দুদের সয়লাব
আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, ২০২২ ইং সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৭.৯৫ পার্সেন্ট হলো হিন্দু ধর্মালম্বী । অথচ বাংলাদেশ পুলিশ, আর্মি সহ সরকারী চাকুরীতে তাদের সংখ্যা হল শতকরা ৩৫ পার্সেন্ট। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি সেক্টরে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের শীর্ষ তালিকা দখল করে আছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা। অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, এমনও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে ইসলাম শিক্ষার সাবজেক্টগুলো মুসলিম টিচারের অভাবে হিন্দু টিচাররা পাঠদান করে ।
মুসলমানদের টাকায় প্রতিষ্ঠিত ও পারিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ছাত্ররা ইফতার মাহফিল বা কোনো ধর্মীয় আমল করতে চাইলে সাম্প্রদায়িকতার দোহায় দিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ একই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্মালম্বীরা তাদের বিভিন্ন পূজায় তরবারি হাতে নিয়ে সশস্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে কিন্তু তাদেরকে বাঁধা দেওয়া হয় না । সরকার এবং প্রশাসনের কিছু কিছু ব্যবহারে মাঝে মধ্যে মনে হয়, “আমরা কি তাহলে ভারতের কোন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছি?”
ইসকন বাংলাদেশে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরী করছে
ইসকন সংগঠনটি উগ্র ধরনের সংগঠন। বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ করে, সেটা ভাঙ্গার জন্য বার বার চেষ্টা করে এই সংগঠনটি। যেহেতু পার্শ্ববর্তী ভারতে উগ্র হিন্দুরা সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর নির্যাতন করছে, সেহেতু বাংলাদেশে সেই সাম্প্রদায়িকতার উল্টা রেশ আনার জন্য প্রয়োজন এ অঞ্চলে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন কাজে ইন্ধন দেয়া, যেন মুসলমানরা সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ক্ষেপে যায়। এ কাজটি বিভিন্ন সময় রুটিনওয়ার্ক হিসেবে দিয়ে থাকে ইসকন। যেমন-
১. ২০১৪ সালে স্বামীবাগে তারাবীর নামাজে বাধা দেয় ইসকন । সে সময় হিন্দু-মুসিলম সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। পুরো দেশে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি বিরাজ করে ।
২) ২০১৬ সালে সিলেটে ইসকন মন্দির থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদের মুসল্লীদের উপর গুলি বর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইসকনীদের হামলায় ডজনখানেক মুসল্লী গুরতর আহত হয়।
৩) ইসকনের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেয়ায় ২০১৬ সালে খুন হয় সিলেটের এক মসজিদের ইমাম
সাম্প্রতিককালে ইসকনের বাংলাদেশ বিরোধী অপতৎপরতা
বাংলাদেশে ভারতের পরোক্ষ মদদে বিগত স্বৈরশাসকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইসকন তাদের শিকড় মজবুতভাবে গেড়েছে। যখন দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসকের পতন হল, তখন সেই স্বৈরশাসককে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এই উগ্রবাদী ইসকনের ধর্মীয় নেতারা একের পর এক অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই লক্ষ্যে তারা দেশের নানা প্রান্তে সংখ্যালগু নির্যাতনের সাইনবোর্ড ধারণ করে মূলত বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলে স্বৈরশাসককে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে।
ইসকন নেতা ভন্ড চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী‘র যত অপকর্ম
এরই ধারাবাহিকতায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী নামক ইসকন নেতার বিরোদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দাসংস্থার সদস্যরা প্রমাণিত কয়েকটি অভিযোগ করেন-
১. রাষ্ট্র বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকা।
২. চট্টগ্রামের হাজারি গলিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টার অংশ হিসাবে সহিংসতায় সেনাসদস্য ও পুলিশ বাহিনী সদস্যদের ওপর ভয়ঙ্কর এসিড হামলার নেপথ্যে তার ভূমিকাও জোরালোভাবে রয়েছে।
৩. এর আগে চট্টগ্রামর নিউমার্কেট চত্বরে মুক্তমঞ্চে ছাত্র-জনতার উড়ানো জাতীয় পতাকার ওপর গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননার কথা দেশের স্বাধীনতা, সাবভৌমত্ব ও জাতীয় অখণ্ডতাকে অস্বীকার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাও হয়েছে নগরীর কোতোয়ালী থানায়।
৪. হাটহাজারীতে জমি দখল, মন্দিরের অভ্যন্তরে অনাথ শিশুদের সাথে অবাধ যৌনাচার ও যৌন হয়রানির অভিযোগ ও রয়েছে ইসকনের এ বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমানে ভাইরাল। যাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ইসকনের এই রাষ্ট্রদ্রোহী নেতার যৌন কুকীর্তি।
অবশেষে গ্রেফতার করা হয় বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ইসকনের নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে ।
ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন এক গণঅভ্যুত্থানে বিগত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গঠিত অন্তর্বতীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করা সেইসাথে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর যে কয়টি অপচেষ্টা হয়েছে তার পেছনে এ ইসকন নেতার সরাসরি ইন্ধন রয়েছে বলে তথ্য আছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে।
চট্টগ্রামে হাজারি গলিসহ বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার প্রমাণও মিলেছে। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলার পর বিভিন্ন মহল থেকে তাকে গ্রেফতারের দাবি উঠে। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল তার আটক হওয়য়ার খবরে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতার মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাকে বিচারের মুখোমুখি করার উচ্চকিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
ভন্ড চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী‘র বিরুদ্ধে স্বয়ং সাধারণ হিন্দুদের অভিযোগ
চট্টগ্রামে ইসকনের নামে নানা অপকর্মে জড়িত এই চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ। একসময় সে ইসকন প্রবর্তক মন্দিরের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিল। কিন্তু সেই মন্দিরের ভেতরে অনাথ কয়েকজন শিশুকে জোরপূর্বক বলৎকারের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। তার যৌন লালসার শিকার এসব শিশুদের দেয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। মন্দিরের সাধু থেকে শুরু করে অভিভাবকরাও তার এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। একপর্যায়ে তাকে ওই মন্দির থেকে বের করে দেয়া হয়।
গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সনাতন জাগরণ মঞ্চের সমাবেশ থেকে একদল লোক নিউমার্কেট মোড়ে এসে জাতীয় পতাকার উপর গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করে। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা বিজয়ের স্মারক হিসেবে নিউমার্কেট মোড়ে ওই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। জাতীয় পতাকার উপর গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে দেয়ার প্রতিবাদে রাজপথে নামে ছাত্র-জনতা।
অবশেষে এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর রাতে তাকেসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় লংমার্চের ঘোষণাও দেন চিন্ময় কৃষ্ণ। যদিও পরে ওই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। চিন্ময়কে গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সমন্বয়কদের বেশ কয়েকজন। তারা চিন্ময়ের রাষ্ট্রবিরোধী অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত করে তার কঠোর সাজা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন। সেইসাথে তার সহযোগী ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করার দাবি উঠেছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠন ইসকনের সাবেক নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তার অনুসারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
আদালত চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন নামঞ্জুর করার সাথে সাথে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে উগ্র ইসকনের সদস্যরা। ভাংচুর চালানো হয় নির্বিচারে। মসজিদে হামলা করা হয় এবং নিরীহ মুসল্লিদের আহত করা হয়। এমনকি ৯০ শতাংশেরও অধিক মুসলিম দেশে আদালত প্রাঙ্গনে এই সন্ত্রাসী উগ্র হিন্দুরা সাইফুল ইসলাম আলিফ নামের আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করে। যার বিবরণ আমরা ইতিপুর্বে দিয়ে এসেছি।
শাসকের দায়িত্ব কর্তব্য
মুসলিম হিসেবে একজন শাষকের মধ্যে নূনতম নিম্নের বৈশিষ্টগুলো থাকা চাই। তাহলে কোন সময়ই দেশে অরাজকতা ও কোন অপতৎপরতা করবার দুঃসাহস কেউ করবে না।
ইনসাফ কায়েম করা
সুলাইমান আ.-এর পিতা হযরত দাউদ আ.-কেও আল্লাহ তাআলা নবুওতের সঙ্গে রাজত্বও দান করেছিলেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
يٰدَاودُ اِنَّا جَعَلْنٰكَ خَلِيْفَةً فِي الْاَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَ لَا تَتَّبِعِ الْهَوٰي فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيْلِ اللٰهِ، اِنَّ الَّذِيْنَ يَضِلُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللٰهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيْدٌ بِمَا نَسُوْا يَوْمَ الْحِسَابِ.
হে দাউদ! আমি পৃথিবীতে তোমাকে খলীফা বানিয়েছি। সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করো এবং খেয়াল-খুশির অনুগামী হয়ো না। অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয় তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি, যেহেতু তারা হিসাব দিবসকে বিস্মৃত হয়েছিল। -সূরা ছদ (৩৮) : ২৬
عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ امْرَأَةً سَرَقَتْ فِيْ عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ غَزْوَةِ الْفَتْحِ فَفَزِعَ قَوْمُهَا إِلَى أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ يَسْتَشْفِعُوْنَهُ قَالَ عُرْوَةُ فَلَمَّا كَلَّمَهُ أُسَامَةُ فِيْهَا تَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَتُكَلِّمُنِيْ فِيْ حَدٍّ مِنْ حُدُوْدِ اللهِ قَالَ أُسَامَةُ اسْتَغْفِرْ لِيْ يَا رَسُوْلَ اللهِ
فَلَمَّا كَانَ الْعَشِيُّ قَامَ رَسُوْلُ اللهِ خَطِيْبًا فَأَثْنَى عَلَى اللهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّمَا أَهْلَكَ النَّاسَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوْا إِذَا سَرَقَ فِيْهِمْ الشَّرِيْفُ تَرَكُوْهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيْهِمْ الضَّعِيْفُ أَقَامُوْا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَالَّذِيْ نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا ثُمَّ أَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِتِلْكَ الْمَرْأَةِ فَقُطِعَتْ يَدُهَا فَحَسُنَتْ تَوْبَتُهَا بَعْدَ ذَلِكَ وَتَزَوَّجَتْ قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَأْتِيْ بَعْدَ ذَلِكَ فَأَرْفَعُ حَاجَتَهَا إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم .بخاري 4304
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় মক্কা বিজয় অভিযানের সময়ে এক স্ত্রীলোক চুরি করেছিল। তাই তার গোত্রের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-এর কাছে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সুপারিশ করার জন্য অনুরোধ জানালো।
‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, উসামাহ (রাঃ)- এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কথা বলা মাত্র তাঁর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি উসামাহ (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তিগুলোর একটি শাস্তির ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করছ? উসামাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
এরপর সন্ধ্যা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। যথাযথভাবে আল্লাহর হাম্দ-সানা করে বললেন, ‘‘আম্মা বা‘দ’’ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা এ জন্য ধ্বংস হয়েছিল যে, তারা তাদের মধ্যকার উচ্চ শ্রেণীর কোন লোক চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত।
পক্ষান্তরে কোন দুর্বল লোক চুরি করলে তার উপর নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করত। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত তা হলে আমি তার হাত কেটে দিতাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মহিলাটির ব্যাপারে আদেশ দিলেন। ফলে তার হাত কেটে দেয়া হল। পরবর্তীকালে সে উত্তম তাওবার অধিকারিণী হয়েছিল এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল।
‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এর পর সে আমার কাছে প্রায়ই আসত। আমি তার প্রয়োজনাদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তুলে ধরতাম। -বুখারী ৪৩০৪
শিষ্টের লালন ও দুষ্টের দমন
একজন আদর্শ শাসকের যেমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা, তেমনি শিষ্টের লালন ও দুষ্টের দমন করাও তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ‘যুলকারনাইন’ উপাধিতে পরিচিত আল্লাহপ্রিয় একজন দ্বীনদার বাদশাহ ছিলেন। কুরআন কারীমে তাঁর কিছু ঘটনা ও গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি তাকে পৃথিবীর বুকে শক্তি-ক্ষমতা দান করেছিলাম এবং তাকে দিয়েছিলাম প্রত্যেক বিষয়ের উপকরণ। (অর্থাৎ তাঁর ছিল উপায়-উপকরণের মাধ্যমে যে কোনো কাজ সম্পন্ন করা এবং যে কোনো জিনিস তৈরি করার যোগ্যতা।)
তিনি একবার সফরে বের হলেন। যেতে যেতে এমন স্থানে পৌঁছলেন, যেখানে সন্ধ্যাবেলায় দর্শকের কাছে মনে হত, যেন সূর্য এক কর্দমাক্ত জলাশয়ে অস্ত যাচ্ছে। সেখানে তিনি একটি সম্প্রদায়ের সাক্ষাৎ পেলেন। সম্ভবত তারা আল্লাহর আনুগত্যকারী ছিল না। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন-
يٰذَا الْقَرْنَيْنِ اِمَّاۤ اَنْ تُعَذِّبَ وَ اِمَّاۤ اَنْ تَتَّخِذَ فِيْهِمْ حُسْنًا
হে যুলকারনাইন! (তোমার সামনে দুটি পথ আছে।) হয় তুমি তাদেরকে শাস্তি দেবে, নতুবা তাদের ব্যাপারে উত্তম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। [দ্র. সূরা কাহ্ফ (১৮) : ৮৪-৮৬]
অর্থাৎ, রাজা-বাদশাহদের যেমন ভালো-মন্দ উভয়ই করার ক্ষমতা থাকে, তেমনি যুলকারনাইনকে উভয় বিষয়ের ক্ষমতা দান করা হল। ইচ্ছা করলে সৃষ্টিজীবকে কষ্ট দিয়ে কুখ্যাত হতে পারে, ইচ্ছা করলে ন্যায় বিচার ও ইনসাফ কায়েম করে সুনাম-সুখ্যাতিও অর্জন করতে পারে। আয়াতের আরেকটি ব্যাখ্যাও রয়েছে। (দ্র. তাফসীরে উসমানী, বাংলা অনুবাদ খ. ২ পৃ. ৪৫৬)
তখন যুলকারনাইন যে উত্তর দিয়েছিলেন তার সারমর্ম হল, আমি তাদেরকে সরল পথে চলার দাওয়াত দেব, যারা দাওয়াত কবুল না করে এভাবে জুলুমের পথ অবলম্বন করবে আমি তাদেরকে শাস্তি দেব। যারা দাওয়াত কবুল করে ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম অবলম্বন করবে, তাদের প্রতি আমি সহজ ও সদয় আচরণ করব। (দ্র. তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/১৪০)
কুরআন কারীমের ভাষায়-
اَمَّا مَنْ ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُه ثُمَّ يُرَدُّ اِلٰي رَبِّه فَيُعَذِّبُه عَذَابًا نُّكْرًا، وَ اَمَّا مَنْ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا فَلَه جَزَاءَِالْحُسْنٰي وَ سَنَقُوْلُ لَه مِنْ اَمْرِنَا يُسْرًا.
তাদের মধ্যে যে কেউ সীমালঙ্ঘন করবে তাকে আমি শাস্তি দেব। তারপর সে তার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে, তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দেবেন। তবে যে ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে, তার জন্য প্রতিদান স্বরূপ রয়েছে কল্যাণ এবং আমিও আদেশ করার সময় তাকে সহজ কথা বলব। -সূরা কাহ্ফ (১৮) : ৮৭-৮৮
বস্তুত ন্যায়পরায়ণ শাসকের রীতিই হল, দুরাচারীদের শাস্তি প্রদান আর ভালো লোকদের সঙ্গে নম্র ও কোমল আচরণ। অর্থাৎ শিষ্টের লালন, দুষ্টের দমন।
আমাদের করণীয়
১. সামর্থ অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
প্রত্যেকে তার সামর্থ অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তা নাহলে হাদীসের ভাষায় দুনিয়া ও আখেরাতে আমরা আযাবে পতিত হবো। আজীবন বেইমানের গোলামী করে যেতে হবে। তাই ইসকনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
عن سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ أُذِلَّ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَلَمْ يَنْصُرْهُ وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يَنْصُرَهُ أَذَلَّهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. أحمد: 15985
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যার সামনে কোন মুমিন কে লন্চিত ও অপদস্থ করা হয় অথচ সে তার সাহায্য করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তার সাহায্য করল না, কেয়ামতের দিন আল্লাহ্ তায়ালা তাকে সমস্ত মাখলুকের সামনে লন্চিত ও অপদস্থ করবেন। -মুসনাদে আহমদ ১৫৯৮৫
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَدَّ عَنْ عِرْضِ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَرُدَّ عَنْهُ نَارَ جَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. أحمد: 27536
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের ইয্যত ও সম্মান করল, কেয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন থেকে তাকে রক্ষা করা আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। -মুসনাদে আহমদ ২৭৫৩৬
عن النعمان بن بشير قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم المسلمون كرجل واحد إن اشتكى عينه اشتكى كله وإن اشتكى رأسه اشتكى كله. مسلم: 2586
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মুসলিম জাতি এক দেহ এক প্রাণ। চক্ষু বা মাথা আঘাতপ্রাপ্ত হলে যেমন পুরা শরীর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ঠিক তেমনি মুসলমান। -মুসলিম ২৫৮৬
২. সাদৃশ্যতা পরিহার করা।
পোষাক-পরিচ্ছদ ও কথা-বার্তায় ইসলামের রীতিনীতিকে কঠোরভাবে পালন করা, হিন্দু, মুশরিক ও কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা। কেননা পোষাক-পরিচ্ছদ, কথা-বার্তা ও অন্যান্য বিষয়ে কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা তাদেরকে ভালোবাসার প্রমাণ বহন করে । সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪০৩১
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم “مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
অর্থ: হযরত ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। -আবু দাউদ ৪০৩১
সুতরাং কাফেরদের খাস স্বভাব-বৈশিষ্ট্য, তাদের অভ্যাস, ইবাদত, পথ-পদ্ধতি ও আখলাক-চরিত্রের সাদৃশ্য গ্রহণ হারাম। যেমন দাঁড়ি কামিয়ে ফেলা, মোচ লম্বা করা, বিনা প্রয়োজনে বিদেশী ভাষা শিক্ষা করা, বিনা প্রয়োজনে বিদেশী ভাষায় কথা বলা, পোশাক-পরিচ্ছদ, পানাহার এবং অন্যান্য বিষয়ে কাফেররে সদৃশ্য গ্রহণ করা হারাম।
৩. একান্ত বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অমুসলিম রাষ্ট্রে সফর না করা।
বিনা প্রয়োজনে কাফেরদের দেশে ভ্রমণ করা হারাম। তবে চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে কাফেরদের দেশে ভ্রমণ করা বৈধ। এমনি অমুসলিম দেশে ভ্রমণ করা ব্যতীত মানুষের কল্যাণার্থে যেসব বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব নয়, ঐসব বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনার্থেও অমুসলিম দেশে ভ্রমণ করা বৈধ।
এসব প্রয়োজনে অমুসলিম দেশে ভ্রমণ করা জায়েয। প্রয়োজন শেষ হলেই মুসলিম দেশে ফিরে আসা আবশ্যক। এসব উদ্দেশ্যে অমুসলিম দেশে ভ্রমণ করা জায়েয হওয়ার শর্ত হলো মুসলিম সেসব দেশে গিয়ে স্বীয় দীনের নিদর্শনাবলী প্রকাশ করবে এবং ইসলামকে নিয়ে গর্বিত থাকবে।
সেই সঙ্গে শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থেকে বাঁচার জন্য ক্ষতিকর স্থানগুলো থেকে দূরে থাকবে। এমনি আল্লাহর দীনের দাওয়াত প্রচারের জন্য কাফেরদের দেশে সফর করা বৈধ অথবা ওয়াজিব ।
৪. বয়কট করা।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফেরদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা না করা। তাদের থেকে কেনা-কাটা না করা। তাদের থেকে মিষ্টি না কেনা। স্বর্ণ না কেনা। সব রকমের বেচা-কেনা পরিহার করা। তাদের সাহায্য নেয়া থেকেও বিরত থাকা।
সূরা মায়িদাহ’র ২নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন।
তাদেরকে বিশ্বস্ত মনে করা। মুসলিমদের গোপন বিষয়গুলোতে ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তাদেরকে নিয়োগ করা, তাদেরকে ঘনিষ্ট ও উপদেষ্টা হিসাবে গ্রহণ করাও তাদেরকে অভিভাবক বানানোর লক্ষণ। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِنْ دُونِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالًا وَدُّوا مَا عَنِتُمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ
هَا أَنْتُمْ أُولَا تُحِبُّونَهُمْ وَلَا يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُونَ بِالْكِتَابِ كُلّهِ وَإِذَا لَقُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا عَضُوا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ قُلْ مُوتُوا بِغَيْظِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
إِن تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةُ يَفْرَحُوا بِهَا وَإنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحيط
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের আপনজন ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদের অনিষ্ট সাধনে কোনো ত্রুটি করবে না। যা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর তাই তারা কামনা করে। তাদের মনের হিংসা ও বিদ্বেষ তাদের মুখ থেকে প্রকাশ পেয়ে গেছে এবং যা কিছু তারা নিজেদের বুকের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে তা এর চেয়েও মারাত্মক।
আমি তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করেছি। যদি তোমরা অনুধাবন করো। তোমরা তাদেরকে ভালোবাসো; কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালোবাসেনা অথচ তোমরা সমস্ত আসমানী কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। তারা তোমাদের সাথে মিলিত হলে বলে, আমরাও বিশ্বাস করি। কিন্তু তোমাদের থেকে আলাদা হয়ে যাবার পর তোমাদের বিরুদ্ধে তাদের ক্রোধ ও আক্রোশ এতো বেশী বেড়ে যায় যে, তারা নিজেদের আঙুল কামড়াতে থাকে।
তাদেরকে বলো, নিজেদের ক্রোধ ও আক্রোশে তোমরা নিজেরাই জ্বলে পুড়ে মরো। আল্লাহ মনের গোপন কথাও জানেন। তোমাদের ভালো হলে তাদের খারাপ লাগে এবং তোমাদের উপর কোনো বিপদ এলে তারা খুশি হয়। তোমরা যদি সবর করো এবং আল্লাহকে ভয় করে কাজ করতে থাকো, তাহলে তোমাদের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। তারা যা কিছু করছে আল্লাহ তা বেষ্টন করে আছেন”। -সূরা আলে-ইমরান: ১১৮-১২০
উপরিউক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা কাফেরদের অন্তরের গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন, মুসলিমদের প্রতি তারা যে হিংসা-বিদ্বেষ গোপন রাখে, তাদের বিরুদ্ধে তারা যে ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করে, মুসলিমদের যে ক্ষতি তারা পছন্দ করে এবং যে কোনো উপায়ে তারা মুসলিমদেরকে কষ্ট দেয়ার যে পরিকল্পনা তারা করে, উপরোক্ত আয়াতগুলো তাও প্রকাশ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে এ সংবাদও দিয়েছেন যে, মুসলিমগণ অমুসলিমদের প্রতি যে আস্থা এবং বিশ্বাস রাখে তারা তাকে কাজে লাগিয়ে মুসলিমদের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে এবং তাদেরকে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করে।
হাদীস শরীফে এসেছে,
عن أَبَي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَيْلًا قِبَلَ نَجْدٍ فَجَاءَتْ بِرَجُلٍ مِنْ بَنِيْ حَنِيْفَةَ يُقَالُ لَهُ ثُمَامَةُ بْنُ أُثَالٍ فَرَبَطُوْهُ بِسَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ فَخَرَجَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ فَقَالَ عِنْدِيْ خَيْرٌ يَا مُحَمَّدُ إِنْ تَقْتُلْنِيْ تَقْتُلْ ذَا دَمٍ وَإِنْ تُنْعِمْ تُنْعِمْ عَلَى شَاكِرٍ وَإِنْ كُنْتَ تُرِيْدُ الْمَالَ فَسَلْ مِنْهُ مَا شِئْتَ فَتُرِكَ حَتَّى كَانَ الْغَدُ ثُمَّ قَالَ لَهُ مَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ قَالَ مَا قُلْتُ لَكَ إِنْ تُنْعِمْ تُنْعِمْ عَلَى شَاكِرٍ فَتَرَكَهُ حَتَّى كَانَ بَعْدَ الْغَدِ
فَقَالَ مَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ فَقَالَ عِنْدِيْ مَا قُلْتُ لَكَ فَقَالَ أَطْلِقُوْا ثُمَامَةَ فَانْطَلَقَ إِلَى نَجْلٍ قَرِيْبٍ مِنَ الْمَسْجِدِ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ يَا مُحَمَّدُ وَاللهِ مَا كَانَ عَلَى الْأَرْضِ وَجْهٌ أَبْغَضَ إِلَيَّ مِنْ وَجْهِكَ فَقَدْ أَصْبَحَ وَجْهُكَ أَحَبَّ الْوُجُوْهِ إِلَيَّ وَاللهِ مَا كَانَ مِنْ دِيْنٍ أَبْغَضَ إِلَيَّ مِنْ دِيْنِكَ فَأَصْبَحَ دِيْنُكَ أَحَبَّ الدِّيْنِ إِلَيَّ وَاللهِ مَا كَانَ مِنْ بَلَدٍ أَبْغَضُ إِلَيَّ مِنْ بَلَدِكَ فَأَصْبَحَ بَلَدُكَ أَحَبَّ الْبِلَادِ إِلَيَّ
وَإِنَّ خَيْلَكَ أَخَذَتْنِيْ وَأَنَا أُرِيْدُ الْعُمْرَةَ فَمَاذَا تَرَى فَبَشَّرَهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَهُ أَنْ يَعْتَمِرَ فَلَمَّا قَدِمَ مَكَّةَ قَالَ لَهُ قَائِلٌ صَبَوْتَ قَالَ لَا وَلَكِنْ أَسْلَمْتُ مَعَ مُحَمَّدٍ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا وَاللهِ لَا يَأْتِيْكُمْ مِنَ الْيَمَامَةِ حَبَّةُ حِنْطَةٍ حَتَّى يَأْذَنَ فِيْهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .بخاري: 4372
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল অশ্বারোহী সৈন্য নজদের দিকে পাঠিয়েছিলেন। তারা সুমামাহ ইবনু উসাল নামক বনু হানীফার এক লোককে ধরে আনলেন এবং মসজিদে নাববীর একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে গিয়ে বললেন, ওহে সুমামাহ! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?
সে উত্তর দিল, হে মুহাম্মাদ! আমার কাছে তো ভালই মনে হচ্ছে। যদি আমাকে হত্যা করেন তাহলে আপনি একজন খুনীকে হত্যা করবেন। আর যদি আপনি অনুগ্রহ করেন তাহলে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তিকে অনুগ্রহ করবেন। আর যদি আপনি অর্থ সম্পদ পেতে চান তাহলে যতটা ইচ্ছা দাবী করুন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেই অবস্থার উপর রেখে দিলেন।
এভাবে পরের দিন আসল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার তাকে বললেন, ওহে সুমামাহ! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? সে বলল, আমার কাছে সেটিই মনে হচ্ছে যা আমি আপনাকে বলেছিলাম যে, যদি আপনি অনুগ্রহ করেন তাহলে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর অনুগ্রহ করবেন। তিনি তাকে সেই অবস্থায় রেখে দিলেন। এভাবে এর পরের দিনও আসল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে সুমামাহ! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?
সে বলল, আমার কাছে তা-ই মনে হচ্ছে যা আমি পূর্বেই বলেছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সুমামাহর বন্ধন ছেড়ে দাও। এবার সুমামাহ মসজিদে নাববীতে প্রবেশ করে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। (তিনি বললেন)
হে মুহাম্মাদ! আল্লাহর কসম! ইতোপূর্বে আমার কাছে যমীনের উপর আপনার চেহারার চেয়ে অধিক অপছন্দনীয় আর কোন চেহারা ছিল না। কিন্তু এখন আপনার চেহারাই আমার কাছে সকল চেহারা অপেক্ষা অধিক প্রিয়। আল্লাহর কসম! আমার কাছে আপনার দ্বীন অপেক্ষা অধিক ঘৃণিত অন্য কোন দ্বীন ছিল না। এখন আপনার দ্বীনই আমার কাছে সকল দ্বীনের চেয়ে প্রিয়তম।
আল্লাহর কসম! আমার মনে আপনার শহরের চেয়ে অধিক খারাপ শহর অন্য কোনটি ছিল না। কিন্তু এখন আপনার শহরটিই আমার কাছে সকল শহর চেয়ে অধিক প্রিয়। আপনার অশ্বারোহী সৈনিকগণ আমাকে ধরে এনেছে, সে সময় আমি ‘উমরাহর উদ্দেশে বেরিয়ে ছিলাম।
এখন আপনি আমাকে কী হুকুম করেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সু-সংবাদ প্রদান করলেন এবং ‘উমরাহ্ আদায়ের নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি যখন মক্কা্য় আসলেন তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, বেদ্বীন হয়ে গেছ?
তিনি উত্তর করলেন, না, বরং আমি মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেছি। আর আল্লাহর কসম! নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি ব্যতীত তোমাদের কাছে ইয়ামামাহ থেকে গমের একটি দানাও আসবে না। -বুখারী ৪৩৭২
৫. বিধর্মীদের কোন অনুষ্ঠানে শরীক না হওয়া।
বিধর্মীদের উৎসব পূজায় শরীক না হওয়া অথবা তা উদযাপনে তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা না করা, তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অভিনন্দন জানানো এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকা।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرو، قَالَ: “مَنْ بَنَى بِبِلَادِ الْأَعَاجِمِ وَصَنَعَ نَيْرُوزَهُمْ وَمِهْرَجَانَهُمْ وَتَشَبَّهَ بِهِمْ حَتَّى يَمُوتَ وَهُوَ كَذَلِكَ حُشِرَ مَعَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি অনারব দেশে বসবাস করে, তাদের মতো নওরোজ এবং উৎসব উদযাপন করে, মৃত্যু পর্যন্ত সে তাদেরই অনুসরণ করে। কেয়ামতের দিবসে তাকে তাদের সাথে একত্রিত করা হবে। অর্থাৎ যারা বিধর্মীদের মত উৎসব করবে, কিয়ামত দিবসে তাদের হাশর ঐ লোকদের সাথেই হবে। -আস্-সুনানুল কুবরা, বাইহাক্বী, হাদীস ১৯৩৩৫ (শামেলা)
عَنْ عُمَرَ بْنِ الخطاب رضي الله عنه قَالَ: “اجْتَنِبُوا أَعْدَاءَ اللهِ فِي عِيدِهِمْ
হযরত উমর রা. বলেছেন, তোমরা আল্লাহর দুশমনদের উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাক। -আস্-সুনানুল কুবরা, বাইহাক্কি , হাদীস ১৯৩৩৪ (শামেলা)
عَنْ عَطَاءِ بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: “لَا تَعَلَّمُوا رَطَانَةَ الْأَعَاجِمِ وَلَا تَدْخُلُوا عَلَى الْمُشْرِكِينَ فِي كَنَائِسِهِمْ يَوْمَ عِيدِهِمْ، فَإِنَّ السَّخْطَةَ تَنْزِلُ عَلَيْهِمْ .
ইবনে ওমর বলেনঃ তোমরা অনারবদের ভাষা শিখবে না এবং মুশরিকদের তাদের উৎসবের দিনে তাদের গির্জায় প্রবেশ করবে না, কারণ তাদের উপর গজব নেমে আসে৷ -আস্-সুনানুল কুবরা, বাইহাক্কি , হাদীস ১৯৩৩৩ (শামেলা)
এমনিভাবে বিধর্মীদের কোন উৎসব বা বিজয়ে আনন্দিত না হওয়া।
সহীহ বুখারী’র ৫৭৩৮ নং হাদিসের বর্ণনায় এসেছে,
قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ تَقُولُ فِي رَجُلٍ أَحَبَّ قَوْمًا وَلَمْ يَلْحَقُ بِهِمْ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: المَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কি বলেন, যে ব্যক্তি কোন দলকে ভালবাসে, কিন্তু (আমলের দিক দিয়ে) তাদের সমান হতে পারেনি। তিনি বললেনঃ মানুষ যাকে ভালবাসে, সে তারই সঙ্গী হবে। -সহীহ বুখারী ৫৭৩৮
কখনো নিরুপায় হয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসাবে বিধর্মীদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে যেতে হলে কিভাবে যেতে হবে এর বিবরণ সহীহ বুখারী’র ৪৩৩ নং হাদিসের বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ تَدْخُلُوا عَلَى هَؤُلَاءِ الْمُعَذِّبِينَ إِلَّا أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ، فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَلا تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ، لَا يُصِيبُكُمْ مَا أَصَابَهُمْ
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ তোমরা এসব (কওমে সামূদ) আযাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের লোকালয়ে ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতীত প্রবেশ করবে না। কান্না না আসলে সেখানে প্রবেশ করো না, যেন তোমাদের প্রতিও এমন আযাব না আসে যা তাদের উপর আপতিত হয়েছিল। -সহীহ বুখারী: ৪৩৩
অর্থাৎ অপারগতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য সেখানে উপস্থিত হবে কিন্তু মনে মনে তাদের কর্মকান্ডকে ঘৃণা করবে।
৬. গাযওয়াতুল হিন্দের জন্য প্রস্তুত হওয়া।
ভারত, হিন্দু এবং ইসকনের এ সকল কর্মকান্ড গাযওয়াতুল হিন্দের পটভূমি তৈরী করছে। একদিন বাংলাদেশ-ভারত মুসলিম ও মুশরিকের লড়াই হবে। সুতরাং এখনই সেই লড়াইয়ের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। (হিন্দ: ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান ইত্যাদী)
عن أبي هريرة قال وعدنا رسول الله صلى الله عليه و سلم غزوة الهند فإن أدركتها أنفق فيها نفسي ومالي فإن أقتل كنت من أفضل الشهداء وإن أرجع فأنا أبو هريرة المحرر ضعيف الإسناد . سنن النسائي 3173 (تحقيق عبد الفتاح)
হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমদের কে গাযওয়াতুল হিন্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি যদি এই যুদ্ধ পেয়ে যাই, তাহলে আমি আমার জান-মাল সর্বস্ব বিলিয় দিব। যদি আমি শহীদ হয়ে যাই, তাহলে আমি হবো শ্রেষ্ঠ শহীদ। আর গাযী হয়ে ফিরে আসলে আমি জাহান্নাম থেকে মুক্তপ্রাপ্ত হবো। -সুনানে নাসায়ী ৩১৭৩ (শামেলা)
عن ثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه و سلم قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم عصابتان من أمتي أحرزهما الله من النار عصابة تغزو الهند وعصابة تكون مع عيسى بن مريم عليهما السلام. صحيح . سنن النسائي 3175 (تحقيق عبد الفتاح)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমাম উম্মতের দুইটি দল জাহান্নাম থেকে মুক্ত। এক দল যারা গাযওয়াতুল হিন্দে শরীক হবে। অপর দল যারা ঈসা আলাইহিস সালামের সাথে থাকবে। -সুনানে নাসায়ী ৩১৭৫ (শামেলা)
৭. ইসকন নিষিদ্ধকরণ এবং হিন্দুদের চাকরিচ্যুত করা।
সরকারের দায়িত্ব ইসকন কে নিষিদ্ধ করা। এরাই প্রকৃত সন্ত্রাসী গোষ্ঠি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসকন নিষিদ্ধ রয়েছে। আমাদের দেশেও নিষিদ্ধ করতে হবে। এই দাবি আমার এবং বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের। এখনই যদি এদের কবর রচনা না করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এই দেশ ও জাতীর কপালে দূর্ভাগ্য রয়েছে।
সাথে সাথে আমাদের সকল চকরিরত হিন্দুদেরকে চাকরিচ্যুত করা। কারণ, বর্তমানে ইন্ডিয়া প্রতি বছর ৫ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে রেমিটেন্স পেয়ে থাকে। এই রেমিটেন্স বন্ধ করা গেলে তাদের অর্থনৈতিক উত্থান দ্রুতই গুড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
৮. জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণ
আল্লাহ তাআলা সুযোগ দান করলে হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। সুরা আনফালের ৬০ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رَبَاطِ الخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ
অর্থ: তোমরা তাদের (মোকাবিলার) জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও সুসজ্জিত অশ্ব প্রস্তুত রাখ, এ দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু তথা তোমাদের শত্রুকে সন্ত্রস্ত করবে এবং এ ছাড়া অন্যদেরকে যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ জানেন। আর আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় করবে, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি অত্যাচার করা হবে না।
আল্লাহ তাআলা বাংলার মুসলিমদেরকে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন রুখে দেওয়ার, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন কায়েম করার তাওফীক দান করুন, হিন্দু কুলাঙ্গারদের ভয়াল থাবা হতে মুসলিম মা-বোনদের ঈমান, ইজ্জত ও আব্রু রক্ষা করুন, আমীন।
আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিসের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য জাযাকাল্লাহ্!
আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিস Ahle Salaf Media Service