হোম / সফরে হিজায / আমার মদিনা যিয়ারাহ

আমার মদিনা যিয়ারাহ

আমার মদিনা যিয়ারাহ সম্পর্কে আজ পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। কলামটি গুরুত্তের সাথে কেউ পাঠ করলে, জীবনে অনেক কাজ দিবে ইনশাআল্লাহ। হজ্জ বা উমরার সফরে আমাদের সকলের সহায়িকা হবে বলে মনে করি।

আমার মদিনা যিয়ারাহ

وَ قُلۡ رَّبِّ اَدۡخِلۡنِیۡ مُدۡخَلَ صِدۡقٍ وَّ اَخۡرِجۡنِیۡ مُخۡرَجَ صِدۡقٍ وَّ اجۡعَلۡ لِّیۡ مِنۡ لَّدُنۡكَ سُلۡطٰنًا نَّصِیۡرًا ﴿۸۰

বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে কল্যাণ সহ প্রবেশ করাও এবং কল্যাণ সহ বের কর। আর তোমার নিকট হতে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি।’ –সূরা বানী ইসরাঈল ৮০

কেউ কেউ বলেন, এটা হিজরতের সময় অবতীর্ণ হয়েছিল। যখন নবী (সাঃ)-এর মক্কা থেকে বের হওয়ার এবং মদীনাতে প্রবেশ করার সময় উপস্থিত হয়েছিল। কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ হল, সত্যের উপর আমার মৃত্যু দিও এবং সত্যের উপর আমাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করো। আবার কেউ কেউ বলেন, সত্যতার সাথে আমাকে কবরে প্রবিষ্ট করো এবং কিয়ামতের দিন সত্যতার সাথে আমাকে কবর থেকে বের করো ইত্যাদি। ইমাম শাওকানী বলেন, এটা যেহেতু দু’আ, বিধায় এর ব্যাপকতায় উল্লিখিত সব কথাই এসে যায়।

তাই মদিনা প্রবেশের সময় উপরোক্ত দুআটি পড়বে।

মসজিদে নববীতে সালাত আদায়

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضى الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏ “‏صَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلاَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ ‏”‏‏. صحيح البخاري 1190

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাসজিদুল হারাম ব্যতীত আমার এ মসজিদে সালাত আদায় করা অপরাপর মসজিদে এক হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম। -সহীহ্ বুখারী 1190

মসজিদে নববীর সীমানা

রিয়াজুল জান্নাহর ডান পাশে বাবুস সিদ্দীক তথা ২ নম্বর গেইট দিয়ে ঢুকার পর কিছু দূর অগ্রসর হলে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর পিলারগুলোর উপরে আরবীতে লেখা রয়েছে, ‘হদ্দু মাসজিদিন নাবিয়্যি আলাইহিস সালাম’। উত্তর দিকের ১০ম পিলার থেকে লেখাটি শুরু হয়েছে। এ পর্যন্তই মসজিদে নববীর মূল সীমানা।

জানা আবশ্যক যে, মদিনার কেবলা দক্ষিণ দিকে। তাই মসজিদে নববীর দক্ষিন হলো, কেবলা দিক। ঠিক এর অপর দিক হলো উত্তর দিক। আর কেবলার ডান দিক তথা দক্ষিণ দিকের ডান দিক হলো পশ্চিম এবং এর ঠিক অপর দিক হলো পূর্ব দিক।

বাবুস সালাম গেইট

এটি হচ্ছে এক নম্বর গেইট। এদিক দিয়ে প্রবেশ করেই নবীজীর কবর শরীফে সালাম পেশ করা হয়।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللَّهُ عَلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ

আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ আমার উপর সালাম পেশ করলে আল্লাহ আমার ’রূহ’ ফিরিয়ে দেন এবং আমি তার সালামের জবাব দেই। -আবু দাউদ ২০৪১

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : “من صلى علي عند قبري سمعته، ومن صلى علي نائيا أبلغته “. مشكاة المصابيح 934

হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কবর শরীফের পাশে এসে আমাকে সালাম দেয় আমি সরাসরি তা শুনতে পাই। আর যে দূর থেকে আমাকে সালাম পেশ করে, তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়। -মেশকাত ৯৩৪

বাবুস ‍সিদ্দীক বা খওখাতু আবী বকর

এটি হচ্ছে দুই নম্বর গেইট। খওখাতু আবী বকর মূলত আরেকটু ভেতরে ছিল। সম্প্রসারণের কারণে সামনের দিকে চলে এসেছে। কিন্তু এই বরাবরই ছিল। ভেতরের দিকে দরজার উপরে আরবীতে লেখা রয়েছে ‘হাযিহী খওখাতু সায়্যিদিনা আবী বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু’।

এ সম্পর্কে হাদীসটি হলো,

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ إِنَّ عَبْدًا خَيَّرَهُ اللهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا مَا شَاءَ وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ فَاخْتَارَ مَا عِنْدَهُ فَبَكَى أَبُوْ بَكْرٍ وَقَالَ فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا فَعَجِبْنَا لَهُ وَقَالَ النَّاسُ انْظُرُوْا إِلَى هَذَا الشَّيْخِ يُخْبِرُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَبْدٍ خَيَّرَهُ اللهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ وَهُوَ يَقُوْلُ فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا

فَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ الْمُخَيَّرَ وَكَانَ أَبُوْ بَكْرٍ هُوَ أَعْلَمَنَا بِهِ وَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ مِنْ أَمَنِّ النَّاسِ عَلَيَّ فِيْ صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبَا بَكْرٍ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيْلًا مِنْ أُمَّتِيْ لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ إِلَّا خُلَّةَ الْإِسْلَامِ لَا يَبْقَيَنَّ فِي الْمَسْجِدِ خَوْخَةٌ إِلَّا خَوْخَةُ أَبِيْ بَكْرٍ. بخاري 3904

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন এবং বললেন, আল্লাহ্ তার এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটি বেছে নেয়ার অধিকার দিয়েছেন। তার একটি হল হল দুনিয়ার ভোগ-বিলাস আর একটি হল আল্লাহর নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তাই পছন্দ করলেন।

একথা শুনে, আবূ বকর (রাঃ) কেঁদে ফেললেন, এবং বললেন, আমাদের পিতা-মাতাকে আপনার জন্য কুরবানী করলাম। তাঁর অবস্থা দেখে আমরা বিস্মিত হলাম। লোকেরা বলতে লাগল, এ বৃদ্ধের অবস্থা দেখ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বান্দা সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ্ ভোগ-সম্পদ দেওয়ার এবং তার কাছে যা রয়েছে, এ দু’য়ের মধ্যে বেছে নিতে বললেন আর এই বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতাপিতা উৎসর্গ করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই হলেন সেই ইখতিয়ার প্রাপ্ত বান্দা। আর আবূ বকর (রাঃ)ই হলেন আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার সঙ্গ ও সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সবচেয়ে ইহসান করেছেন তিনি হলেন আবূ বকর (রাঃ)। যদি আমি আমার উম্মতের কোন ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূ বকরকেই করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবূ বকর (রাঃ) এর দরজা ছাড়া অন্য কারো দরজা খোলা থাকবে না। -সহীহ্ বুখারী ৩৯০৪

বাবুর রহমাহ

এটি ৩য় গেইট। এর অপর নাম বাবু আতিকা। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবদ্দশায় এখানেই মসজিদের পশ্চিম দেয়াল স্থাপন করেছিলেন এবং দেয়ালটি আতিকা বিনতে আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদের সামনে অবস্থিত ছিল। তাই একে ‘বাব আতিকা’ও বলা হয়।

বাবুন নিসা

এটি ৩৯ নম্বর গেইট। এটি উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) এর সময় নির্মাণ করা হয়েছিলো। তখন এই দরজা দিয়ে নারী-পুরুষ উভয়েই প্রবেশ করতো।  উমাইয়া খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজের সময় এটি সংরক্ষিত ছিল এবং শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য ব্যবহার করা হতো। এটি মসজিদে নববীর পূর্ব প্রাচীর বরাবর অবস্থিত এবং এটি নবী মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমাধির সবচেয়ে কাছে।

বাবু জিবরিল

এটি ৪০ নম্বর গেইট। উল্লেখ আছে যে, জিবরীল (আ.) এই দরজা দিয়ে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করতেন। এই দরজাটি ‘বাব উন-নবী’ নামেও পরিচিত। বিখ্যাত হাদীস, হাদীসে জিবরীল এখানেই ঘটেছে। মানে এই দরজা দিয়ে জিবরীল আমীন মসজিদে নববীতে প্রবেশ করেছেন এবং প্রশ্নোত্তর হয়েছে।

اِنۡ تَتُوۡبَاۤ اِلَی اللّٰهِ فَقَدۡ صَغَتۡ قُلُوۡبُكُمَا ۚ وَ اِنۡ تَظٰهَرَا عَلَیۡهِ فَاِنَّ اللّٰهَ هُوَ مَوۡلٰىهُ وَ جِبۡرِیۡلُ وَ صَالِحُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ الۡمَلٰٓئِكَۃُ بَعۡدَ ذٰلِكَ ظَهِیۡرٌ ﴿۴

যদি তোমরা উভয়ে (অনুতপ্ত হয়ে) আল্লাহর নিকট তওবা কর, তাহলে (আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন), নিশ্চয় তোমাদের হৃদয় ঝুঁকে পড়েছে। কিন্তু তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরের পৃষ্ঠপোষকতা (সাহায্য) কর, তবে জেনে রেখো যে, আল্লাহই তার বন্ধু এবং জিবরীল ও সৎকর্মপরায়ণ বিশ্বাসীগণও, এ ছাড়া ফিরিশতাগণও তার সাহায্যকারী। -সূরা তাহরীম ৪

হাদীসে ‍জিবরীল হলো,

عمر بن الخطاب قال بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه و سلم ذات يوم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر لا يرى عليه أثر السفر ولا يعرفه منا أحد حتى جلس إلى النبي صلى الله عليه و سلم فاسند ركبتيه إلى ركبتيه ووضع كفيه على فخذيه وقال يا محمد أخبرني عن الإسلام فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله صلى الله عليه و سلم وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا قال صدقت قال فعجبنا له يسأله ويصدقه

قال فأخبرني عن الإيمان قال أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره قال صدقت قال فأخبرني عن الإحسان قال أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك قال فأخبرني عن الساعة قال ما المسؤول عنها بأعلم من السائل قال فأخبرني عن أمارتها قال أن تلد الأمة ربتها وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان قال ثم انطلق فلبثت مليا ثم قال لي يا عمر أتدري من السائل ؟ قلت الله ورسوله أعلم قال فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم. مسلم 8

উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাদীস শুনিয়েছেন যে, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে ছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাযির হলেন। তাঁর পরিধানের কাপড় ছিল সা’দা ধবধবে, মাথার কেশ ছিল কাল কুচকুচে। তাঁর মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন ছিল না। আমরা কেউ তাঁকে চিনি না। তিনি নিজের দুই হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসে পড়লেন আর তার দুই হাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দুই উরুর উপর রাখলেন।

তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইসলাম হল, তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রামাযানের রোযা পালন করবে এবং বায়তুল্লাহ পৌছার সামর্থ্য থাকলে হাজ্জ (হজ্জ) পালন করবে। আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। তার কথা শুনে আমরা বিষ্মিত হলাম যে, তিনই প্রশ্ন করেছেন আর তিনই-তা সত্যায়িত করছেন।

আগন্তুক বললেন, আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঈমান হল আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসুলগণের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে, আর তাকদিরের ভালমন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন।

তারপর বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইহসান হলো, এমনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে ভাববে তিনি তোমাকে দেখছেন।

আগন্তুক বললেন, আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে তিনি অধিক অবহিত নন। আগন্তুক বললেন, আমাকে এর আলামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল বললেনঃ তা হলো এই যে, দাসী তার প্রভুর জননী হবে; আর নগ্নপদ, বিবস্ত্রদেহ দরিদ্র মেষপালকদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে।

উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন যে, পরে আগন্তুক প্রস্হান করলেন। আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে উমর! তুমি জানো, এই প্রশ্নকারী কে? আমি আরয করলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই সম্যক জ্ঞাত আছেন। রাসুল বললেনঃ তিনি জিবরীল। তোমাদের তিনি দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। -সহীহ্ মুসলিম ৮

মসজিদে নববীর ৪২ টি গেইট

এর মধ্যে জরুরীগুলো উপরে বলা হয়েছে। বাকী গেইটগুলোর যে সকল নাম রয়েছে, তার পেছনে শরয়ী কোন দৃষ্টিভঙ্গি নেই।

রিয়াযুল জান্নাহ্

হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ الْمَازِنِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ. بخاري 1195

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ-মাযিনী (রাযি.) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ঘর ও মিম্বার-এর মধ্যবর্তী স্থানটুকু জান্নাতের বাগানগুলোর একটি বাগান। -সহীহ্ বুখারী ১১৯৫

এখানে যত সামনের দিকে থাকা যায় তত ভালো। পশ্চিম দিকের ৫ম পিলার পর্যন্ত এর সীমানার কথা উলামায়ে কেরাম বলেছেন।

রিয়াযুল জান্নাহর ভেতরে কয়েকটি স্তম্ভ

উস্তুওয়ানা সারীর, হারছ, উফূদ, আবু লুবাবাহ বা তাওবাহ্, আয়েশা, হান্নানাহ্, জিবরীল।

প্রথম তিনটি রওজার দেয়ালের স্তম্ভের মধ্যে নাম লেখা রয়েছে। আর উস্তুওয়ানা সারীর বরাবর পশ্চিম দিকের দুইটি খুটিতে রয়েছে, উস্তুওয়ানা আবু লুবাবা ও আয়েশা। আর উস্তুওয়ানায়ে হান্নানাহ হলো, মিহরাবুন্নবীর পরে, মিম্বারুন নবীর কাছের স্তম্ভ। আর উস্তুওয়ানা জিবরীল রওযা শরীফের জালির ভেতরে পড়েছে।

এগুলোর পরিচিতি ও অবস্থানস্থল সম্পর্কে জানতে মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন সাহেবের আহকামে হজ্জ পড়তে হবে। পৃ. ২০৪-২০৮

মিম্বারুন্নবী ও মিহরাবুন্নবী

এর পরিচিতির জন্য দেখুন, মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন সাহেবের আহকামে হজ্জ পৃ. ২০৯-২১১

আহলে সুফফার স্থান

এটা নিশ্চিত যে, তখনকার মসজিদে নববীর পেছনের দিকে আহলে সুফফার স্থান ছিল। কিন্তু এর জায়গা বর্তমানে সুনির্দিষ্ট নয়। রিয়াযুল জান্নার পেছনে কিছু ছাতা রয়েছে। যার চতুর্দিকে কিছু সাহাবিদের নাম এবং চার ইমামের নাম লেখা রয়েছে। যেখানে হযরত আলী রা. এর নাম রয়েছে, সেখানে একটি এসি রয়েছে। আশা করা যায়, এর নিচেই ছিল মূলত: আহলে সুফফার স্থান।

বর্তমানে মানুষ যেটাকে মাকামে আহলুস সুফফাহ মনে করে সেটা আহলুস সুফফার স্থান নয়। বরং দুক্কাতুল আগওয়াত। মূলত দুক্কাতুল আগওয়াতের পশ্চিমে ছিল, আহলুস সুফফার স্থান। দুক্কাতুল আগওয়াত হলো, সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গি ও পরবর্তীতে তার অনুসরণে অনেক বাদশাহ এখানে বেতনভূক্ত পাহারাদারদের থাকার ব্যবস্থা করেন।

বাইরুহা বাগানের কূপ

কূপটি হযরত আবু তালহা রা. এর খেজুরের বাগানে অবস্থিত ছিল। বর্তমানে এটি মসজিদে নববীর ভেতরে পড়েছে। ২১, ২২ নম্বর গেইটে রয়েছে। সেখানে কূপের চিন্হ হিসেবে ভিন্ন কালার দিয়ে গোলাকার চিন্হ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি ২১, ২২ নম্বর গেইটের সর্বশেষ নামাজের কাতারে পড়েছে। মানুষ এসে ভির জমায়, বিভিন্ন কুসংস্কারে লিপ্ত হয় বলে কার্পেট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। ফলে মুসল্লিরা এখানে নামাজ পড়ে। যে কারণে এটা এখন বের করে দেখার সুযোগ বা সাহস কারো হয় না।

عن أَنَس بْن مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قال كَانَ أَبُوْ طَلْحَةَ أَكْثَرَ أَنْصَارِيٍّ بِالْمَدِيْنَةِ نَخْلًا وَكَانَ أَحَبَّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرُحَاءَ وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ الْمَسْجِدِ وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيْهَا طَيِّبٍ فَلَمَّا أُنْزِلَتْ (لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ)

قَامَ أَبُوْ طَلْحَةَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ اللهَ يَقُوْلُ : (لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ) وَإِنَّ أَحَبَّ أَمْوَالِيْ إِلَيَّ بَيْرُحَاءَ وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلهِ أَرْجُوْ بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللهِ فَضَعْهَا يَا رَسُوْلَ اللهِ حَيْثُ أَرَاكَ اللهُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَخْ ذَلِكَ مَالٌ رَايِحٌ ذَلِكَ مَالٌ رَايِحٌ وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ وَإِنِّيْ أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الْأَقْرَبِيْنَ قَالَ أَبُوْ طَلْحَةَ أَفْعَلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَقَسَمَهَا أَبُوْ طَلْحَةَ فِيْ أَقَارِبِهِ وَفِيْ بَنِيْ عَمِّهِ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, মদিনা্য় আবূ ত্বলহা (রাঃ)-ই অধিক সংখ্যক খেজুর গাছের মালিক ছিলেন। তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় সম্পদ ছিল ’’বাইরুহা’’ নামক বাগানটি। এটা ছিল মসজিদের সম্মুখে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আসতেন এবং সেখানকার (কূপের) সুমিষ্ট পানি পান করতেন।

যখন لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ আয়াতটি অবতীর্ণ হল, তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ বলছেন, ’’তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করবে না যে পর্যন্ত না নিজেদের প্রিয়বস্তু থেকে ব্যয় করবে’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/৯২)। আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ বাইরুহা। এটা আল্লাহর রাস্তায় আমি দান করে দিলাম। আমি আল্লাহর নিকট পুণ্য ও তার ভান্ডার চাই। আল্লাহ আপনাকে যেভাবে নির্দেশ দেন সেভাবে তা ব্যয় করুন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাহ! ওটি তো অস্থায়ী সম্পদ, ওটা তো অস্থায়ী সম্পদ, তুমি যা বলেছ আমি শুনেছি। তুমি তা তোমার নিকটাত্মীয়কে দিয়ে দাও, আমি এ সিদ্ধান্ত দিচ্ছি। আবূ ত্বলহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা করব। তারপর আবূ ত্বলহা (রাঃ) সেটা তাঁর চাচাত ভাই-বোন ও আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। -সহীহ্ বুখারী ৪৫৫৪

মাকতাবতুল মাসজিদিন নববী

এটি মসজিদে নববীর ছাদে রয়েছে। ৬ নম্বর গেইট দিয়ে প্রবেশ করে সিড়ির মাধ্যমে সরাসরি ছাদে যাওয়া যায়। সেখানেই রয়েছে উক্ত লাইব্রেরী। যাতে খন্ড বাদ দিয়ে শুধু কিতাবের সংখ্যা রয়েছে, ৮৫ হাজার।

ছক্বিফায়ে বনি সায়েদা

ছক্বিফা অর্থ, আশ্রয়কেন্দ্র, ছাউনি। বর্তমানে মসজিদে নববীর উত্তর পশ্চিম কোণে অল্প কিছু দূরে এর অবস্থান। এর ভেতরে বর্তমানে নির্মাণ কাজ চলছে। সব সময় এর গেইট বন্ধ থাকে। তবে চতুর্দিকে বেষ্টনি দেয়া রয়েছে। যাতে আরবীতে লেখা রয়েছে, ছাক্বীফাতু বানী সায়িদা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে বসেছেন, নামায পড়েছেন। এখানেই হযরত আবু বকর রা. এর খেলাফতের সিদ্ধান্ত হয়।

জান্নতুল বাকী

আরেক নাম বাকীউল গারকাদ। বাকী অর্থ, যেখানে বহু রকম গাছের মূল রয়েছে। গারকাদ হলো, একটি বিশেষ ধরনের কাটাদার বৃক্ষ। মসজিদে নববীর পূর্ব পাশের চত্বরের (খালি আঙ্গিনা) পরই মদিনার কবরস্থান জান্নাতুল বাকী। এখানে হযরত খাদিজা, মায়মুনা রাযিয়াল্লাহু আনহুম ছাড়া নবীজীর সকল স্ত্রী, সন্তান এবং খলীফা হযরত উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু সহ বহু সাহাবী তাবেঈ ও মহামনীষীগণ শায়িত আছেন। নবীজী যিয়ারতের উদ্দেশ্যে এখানে আসতেন।

মসজিদে কূবা

নবীজী হিজরত করে প্রথমে কূবা এলাকায় বনূ আমর বিন আউফ গোত্রের কুলছূম ইবনুল হাদমের গৃহে অবস্থান করেন। নবীজী তার উট বাঁধার স্থানটাতে নিজ হাতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এটি নবীজীর হাতে মুসলমানদের প্রথম মসজিদ। মসজিদে নববী থেকে এর দূরত্ব ৩.২ কি. মি.।

عن سهل بن حنيف قال قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَرَجَ حَتَّى يَأْتِيَ هَذَا الْمَسْجِدَ يَعْنِي مَسْجِدَ قُبَاءٍ فَيُصَلِّيَ فِيهِ كَانَ كَعَدْلِ عُمْرَةٍ. أحمد 15981، ترمذي 324، ابن ماجه 1411، 1412، نسائي 699 (حديث صحيح)

হযরত সাহাল বিন হুনাইফ রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এই মসজিদে কূবা তে এসে নামাজ পড়বে তার আমলনামায় একটি উমরার সাওয়াব লেখা হবে। -মুসনাদে আহমদ ১৫৯৮১

মসজিদে জুমুআ

নবীজী কূবা এলাকায় ৪ দিন থাকার পর মদিনার কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হন। ৮০০ মিটার উত্তরে অগ্রসর হয়ে বনু সালেম গোত্রের এলাকায় পৌঁছেন। এখানেই তিনি সর্বপ্রথম জুমুআর নামাজ আদায় করেন এবং একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদে নববী থেকে এর দূরত্ব ২.৫ কি. মি.।

মসজিদে কেবলাতাইন

মুসলমানরা পবিত্র কাবার দিকে ফিরে নামাজ আদায় করে থাকেন। ইসলামের সূচনাকালেও মুসলিমরা কাবার দিকে ফিরেই নামাজ আদায় করতেন। তবে মধ্যবর্তী কয়েক মাস (১৬-১৭ মাস) আল্লাহ তাআলা মসজিদুল আকসার দিকে ফিরে নামাজ আদায় করার নির্দেশ দেন। 

মদিনায় হিজরতের পর নবীজি বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করেই নামাজ আদায় করতেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ)-কে বলেছিলেন, আমার আশা, আল্লাহ তায়ালা যেন আমার চেহারা ইহুদীদের কিবলা হতে ফিরিয়ে দেন। জিবরীল বললেন- আমি তো আল্লাহর একজন বান্দা মাত্র। আপনি আপনার রবের কাছে প্রার্থনা করুন এবং তাঁর কাছেই বিষয়টি বলুন। তিনি কিবলা পরিবর্তনের আশায় আকাশের দিকে বারবার তাকাচ্ছিলেন। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা এই আয়াত নাযিল করলেন-

قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِى السَّمَاءِ، فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا، فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ المَسْجِدِ الحَرَامِ

‘‘নিশ্চয়ই আমি তোমাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি তোমাকে সেই কিবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব, যাকে তুমি পছন্দ কর। এখন তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ কর এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকেই মুখ কর’’। (সূরা বাকারা-২:১৪৪)

এটি ছিল হিজরতের ১৬ মাস পরের এবং বদরের যুদ্ধের মাত্র দুই মাস পূর্বের ঘটনা। এরপর কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ যখন আসে, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে বনু সালামায় যোহরের নামাজ আদায় করছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে বিশর ইবনে বারা ইবনে মা‘রুর রা. এর গৃহে এসেছিলেন। এর মধ্যেই যোহরের নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যায়।

তখন নবীজী উক্ত মসজিদের স্থলে নামাজ আদায় শুরু করেন। দুই রাকাত আদায় করার পর কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ আসে। সূরার বাকার ১৪৪ নং আয়াত নাযিল হয়। নামাজের ভেতরই রাসুল (সা.) বায়তুল্লাহর দিকে ফিরে যান। অবশিষ্ট দুই রাকাত নামাজ সেদিকে ফিরেই আদায় করেন।

মসজিদে নববী থেকে এর দূরত্ব ৩.৫ কি. মি.।

মসজিদে হামযা

শুহাদায়ে উহুদের কবরস্থানের সামান্য পূর্বে অবস্থিত। সায়্যেদুশ শুহাদা হযরত হামযা রা. এর শহিদ হওয়ার স্থলে এটি নির্মিত হয়েছে। এর দক্ষিণেই রয়েছে জাবালুর রুমাত।

মসজিদে গামামাহ

মসজিদে নববীর এরিয়ার ৩১০ নম্বর গেইট দিয়ে বেরুলেই মসজিদটি দেখা যায়। নবীজী এখানে দুই ঈদের নামাজ, ইস্তেস্কার নামাজ, নাজ্জাশীর গায়েবানা জানাযা আদায় করেছেন। এটিকে “মসজিদুল মুসল্লা”ও বলা হয়। মসজিদটি খলিফা উমর বিন আব্দুল আযিয নির্মাণ করেন।

মসজিদে আবু বকর

হযরত আবু বকর রা. এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এটি মসজিদে গামামার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

মসজিদে উমর

এখানে হযরত উমর রা. কখনো কখনো নামাজ পড়েছেন এবং নবীজীও ঈদের নামাজ পড়েছেন। এটি মসজিদে গামামাহ থেকে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত।

মসজিদে আলী

হযরত উছমান রা. যখন গৃহে অন্তরীণ ছিলেন, তখন হযরত আলী রা. এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। নবীজীও এখানে ঈদের নামাজ পড়িয়েছেন। এটি মসজিদে আবু বকর থেকে উত্তর দিকে অবস্থিত।

মসজিদে উছমান

এটি মূলত: মসজিদে আলী থেকে উত্তর দিকে ছাক্বিফায়ে বনি সায়েদার কাছে অবিস্থত ছিল। বর্তমানে এখানে বিশাল খোলা চত্বর রয়েছে কিন্তু মসজিদ নেই। শুনেছি, এই খোলা চত্বরেই মসজিদটি ছিল। কিন্তু তা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

জানা আবশ্যক যে, বর্তমানে মসজিদে উছমান, মসজিদে বেলাল নামে যে দুইটি মসজিদ রয়েছে, তা কোন ঐতিহাসিক মসজিদ নয়। উক্ত নামে মসজিদ দুইটি মসজিদে নববীর দক্ষিণ দিকে ‘সুকুত তামার’ এ অবস্থিত আছে।

মসজিদুস সাজদাহ বা মসজিদে আবু যর গিফারী

এখানে নবীজী সাজদায়ে শোকর আদায় করেছিলেন। দীর্ঘ সেজদা থেকে মাথা তুলে উপস্থিত আব্দুর রহমান বিন আউফ রা. কে বলেছিলেন, জিবরীল এসে আমাকে সুসংবাদ দিলেন, যে ব্যক্তি তোমার প্রতি দুরুদ পাঠ করে আমি তার প্রতি রহমত করি। যে তোমাকে সালাম করে আমি তাকে সালাম করি। তাই আমি শোকর আদায়ার্থে সাজদা করলাম। -মুস্তাদরাকে হাকেম ২০৫৭

এটি মসজিদে নববীর পূর্ব পাশ দিয়ে উত্তর দিকে যে রাস্তাটি গিয়েছে তার কিছুটা সামনে গিয়ে চৌরাস্তা পার হয়ে সামনে ডান দিকে রাস্তা মোড় নেয়ার সময় ডান দিকে অবস্থিত।

মসজিদুল ইজাবাহ

এটিকে মসজিদে বনু মুআবিয়াও বলা হয়। কারণ এখানে আউসের শাখা বনু মুআবিয়ার বসবাস ছিল।

عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْبَلَ ذَاتَ يَوْمٍ مِنَ الْعَالِيَةِ حَتَّى إِذَا مَرَّ بِمَسْجِدِ بَنِي مُعَاوِيَةَ دَخَلَ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّيْنَا مَعَهُ وَدَعَا رَبَّهُ طَوِيلاً ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَيْنَا فَقَالَ صلى الله عليه وسلم “‏سَأَلْتُ رَبِّي ثَلاَثًا فَأَعْطَانِي ثِنْتَيْنِ وَمَنَعَنِي وَاحِدَةً سَأَلْتُ رَبِّي أَنْ لاَ يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالسَّنَةِ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالْغَرَقِ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يَجْعَلَ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ فَمَنَعَنِيهَا ‏”‏ ‏.‏

সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) আলিয়া (মদীনার উঁচু অঞ্চল) হতে এসে বনূ মুআবিয়ায় অবস্থিত মসজিদের নিকট গেলেন। অতঃপর তিনি উক্ত মসজিদে প্রবেশ করে দুরাকআত সালাত আদায় করলেন। আমরাও তার সাথে সালাত আদায় করলাম। এ সময় তিনি তার প্রতিপালকের নিকট দীর্ঘ দুআ করলেন। এবং দু’আ শেষে আমাদের নিকট ফিরে বললেনঃ আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তিনটি জিনিস কামনা করেছি। তন্মধ্যে তিনি আমাকে দুটি প্রদান করেছেন এবং একটি প্রদান করেননি।

আমি আমার প্রতিপালকের নিকট কামনা করেছিলাম, যেন তিনি আমার উম্মাতকে দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দু’আ কবুল করেছেন। তাঁর নিকট এও প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি যেন আমার উম্মাতকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দু’আও কবুল করেছেন। আমি তাঁর নিকট এ মর্মেও দু’আ করেছিলাম যে, যেন মুসলিম পরস্পর একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত না হয়। তিনি আমার এ দুআ কবুল করেননি। -মুসলিম ২৮৯০

মসজিদে সাজদার আগেই মসজিদুল ইজাবাহ

বীরে আরিস

মসজিদে কূবায় অবস্থিত। গোলাকার বৃত্ত করে এখনো তার চিন্হ রয়েছে। এখানেই হযরত উসমান রা. এর আংটি পড়ে যায়। পরে আর ‍খুজে পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই ফতনা শুরু হয়। এটিকে বীরে খাতাম ও বলা হয়।

عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَائِطٍ مِنْ حَائِطِ الْمَدِينَةِ وَهُوَ مُتَّكِئٌ يَرْكُزُ بِعُودٍ مَعَهُ بَيْنَ الْمَاءِ وَالطِّينِ إِذَا اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ فَقَالَ ‏”‏ افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَإِذَا أَبُو بَكْرٍ فَفَتَحْتُ لَهُ وَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ – قَالَ – ثُمَّ اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ ‏”‏ افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَذَهَبْتُ فَإِذَا هُوَ عُمَرُ فَفَتَحْتُ لَهُ وَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ ثُمَّ اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ آخَرُ – قَالَ – فَجَلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏”‏ افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى تَكُونُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَذَهَبْتُ فَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ – قَالَ – فَفَتَحْتُ وَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ – قَالَ – وَقُلْتُ الَّذِي قَالَ فَقَالَ اللَّهُمَّ صَبْرًا أَوِ اللَّهُ الْمُسْتَعَانُ ‏.

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আনাযী (রহঃ) … আবূ মূসা আশআর (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার একটি বাগিচায় হেলান দিয়ে বসাবস্থায় একটি লাকড়ি কাদা মাটিতে গাঢ়তে চেষ্টা করছিলেন। এমনি মুহূর্তে কেউ দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখি তিনি আবূ বকর (রাযিঃ)। আমি দরজা খুললাম এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম।

তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখলাম তিনি উমার (রাযিঃ)। দরজা খুলে দিলাম এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোজা হয়ে বসে পড়লেন এবং বললেন।

দরজা খুলে দাও এবং তাকে আসন্ন বিপদসহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি গিয়ে দেখি তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)। আমি দরজা উন্মুক্ত করে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার বর্ণনা দিলাম। উসমান (রাযিঃ) বললেনঃ “হে আল্লাহ আমাকে ধৈর্য দান করো। আল্লাহর নিকট আমি সাহায্য কামনা করছি।” –মুসলিম ২৪০৩

আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিসের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য জাযাকাল্লাহ্

Check Also

সালাফী আকীদা বনাম দেওবন্দী আকীদা, পর্ব- ৪

সালাফী আকীদা; মহান আল্লাহর আরেকটি বিশেষণ আরশের উপর ইসতিওয়া সালাফী আকীদা প্রসঙ্গে আরেকটি বিষয় সামনে আসে, …

ইসকন; এখনই সতর্ক হোন!

ইসকন; এখনই সতর্ক হোন! প্রবন্ধটি বর্তমানের জন্য খুবই যুগোপযোগী একটি কলাম। যে বিষয়ে আমাদের অস্পষ্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!