প্রশ্ন :
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
আমি মুহা. আব্দুল্লাহ্। আমার জানার বিষয় হলো, নবীজী কি মেরাজে তাশাহহুদ নিয়ে গেছেন? আমরা শুনে থাকি যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মেরাজে যান তখন আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আল্লাহ্ জিজ্ঞেস করেন, নবীজী! আপনি আমার জন্য কী এনেছেন? তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশাহহুদের কথা বললেন।
আরো শুনে থাকি যে, আল্লাহর সঙ্গে নবীজীর কথোপোকথন হয় তাশাহহুদ দিয়ে। অনেক বড় বড় আলেমেরে মুখেও আমরা এটা শুনে থাকি। এ বিষয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে। গল্পটির সার-সংক্ষেপ হল,
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মি’রাজের রাত্রিতে যখন সর্বচ্চ নৈকট্যে পৌঁছান তখন মহান আল্লাহকে সম্ভাষণ করে বলেনঃ ”আত-তাহিয়াতু লিল্লাহি…’ তখন মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘আস-সালামু আলাইকা…’ তখন রাসুল (সাঃ) চান যে, তাঁর উম্মাতের জন্যও সালামের অংশ থাকুক। এজন্য তিনি বলেনঃ ‘আসসালামু আলাইনা ওয়া…’ তখন জিবরীল (আঃ) ও সকল আকাশবাসী বলেনঃ ‘আশহাদু…’; কোন কোন গল্পকার বলেনঃ আস-সালামু আলাইনা…’ বাক্যটি ফেরেশতাগন বলেন”
আসলেই কি এমন কোন ঘটনা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে? আবার অনেকে বলে নবীজী মেরাজ থেকে তাশাহহুদ লাভ করেছেন। দলীলের আলোকে বিস্তারিত জানাবেন বলে আশা রাখি।
নরসিংদী থেকে।
উত্তর :
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
নবীজী কি মেরাজে তাশাহহুদ নিয়ে গেছেন?
প্রথমত: আমাদের জানা থাকা দরকার যে, যে সকল বিষয় হাদীসের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিংবা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সম্পর্কিত তা সরাসরি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর থেকে কিংবা সাহাবায়ে কেরাম এর মাধ্যমে নবীজীর হাদীস থেকে জানতে হবে। এমনিই কোথাও কেউ বলে দিল কিংবা কোন কিতাবে কেউ লিখে দিল তার উপর আস্থা রাখা যায় না।
মেরাজের ঘটনা আমরা কোত্থেকে নিব?
যেমন মেরাজের ঘটনাই ধরুন। মেরাজে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে কী ঘটেছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখান থেকে কী এনেছেন এজাতীয় মেরাজ সংক্রান্ত সকল বিষয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেই আমাদেরকে জানতে হবে। এমনিই কেউ কোথাও মেরাজ সম্পর্কে বলে দিলেই হবে না। এর নির্ভরযোগ্য সূত্র লাগবে।
মেরাজ সম্পর্কে কিছু বিষয় জাল করা হয়েছে
প্রথম বিষয়টি বুঝে থাকলে এবার আপনি অনায়াসেই ধরতে পারবেন যে, মেরাজ সংক্রান্ত যে সকল কিচ্ছা-কাহিনী হাদীসের কিতাবে নেই। বরং কোন ফিক্বহের কিতাবে কিংবা কোন তাফসীরের কিতাবে সূত্রহীনভাবে বর্ণিত হয়েছে তার কোনই ভিত্তি নেই।
সূত্র ছাড়া তো হাদীসের কিতাবেও যদি আসে কিংবা সূত্র আছে কিন্তু বর্ণনাকারী মুনকার (পরিত্যজ্য, আপত্তিকর) তাহলে সেটাও তো অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায়। পরবর্তি কোন লেখায় মেরাজ সম্পর্কে কিছু জাল বর্ণনার আলোচনা তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ্।
কোথাও কিছু পেলে বা শুনলে আমরা কী করব?
তৃতীয় লক্ষণীয় বিষয় হলো, যখন আমরা কোথাও কোন দ্বীনী বিষয় শুনব যার সম্পর্ক হাদীসের সঙ্গে, তাহলে আমাদের করণীয় হলো, প্রথমে তা যাচাই করা। যদি আপনি আলেম হন এবং আপনিই কুরআন-হাদীস বুঝার ক্ষমতা রাখেন তাহলে আপনিই খুজে দেখবেন। নতুবা সহীহ্ আক্বীদা ও সহীহ্ সুন্নাহর আমলওয়ালা একজন আলেমের স্বর্ণাপন্ন হবেন। যিনি কুরআন-হাদীস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন।
যদি দলীল পেয়ে যান তবে তো ভালো। আর যদি বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য হয় তাহলেও ভালো। আপনি জেনে নিজে সতর্ক হবেন এবং অন্যকে দলীলের আলোকে ভালোভাবে সতর্ক করার চেষ্টা করবেন।
কিন্তু বিষয়টি না পাওয়ার সাথে সাথে যদি তা ভ্রান্ত হওয়ার কিংবা অনির্ভরযোগ্য হওয়ার দলীল আপনি জানতে না পারেন তাহলে সেক্ষেত্রে আমার আবেদন হলো, আপনি সে সম্পর্কে সহীহ্ বিষয়গুলো প্রচার করবেন, আমল করবেন। আর ঐ বিষয় সম্পর্কে বলবেন, এটি আমরা তত্থ তালাশ করে কোথাও পাইনি কিংবা নির্ভরযোগ্যভাবে কোথাও পাইনি। আমিও আপনাদের মতই শুনে থাকি এবং জেনে থাকি। যেহেতু এটার কোন দলীল নেই তাই আমরা এটা ভ্রান্ত হওয়া সম্পর্কে দলীল পাওয়া পর্যন্ত ভ্রান্ত বলবো না এবং নির্ভরযোগ্যভাবে না পাওয়ার কারণে আমলও করবো না।
কারণ, আপনি অনির্ভরযোগ্য বলে দিলে সমাজের মানুষগুলো বলবে, আপনি অনির্ভরযোগ্য বলার কে? এটার একটা উদাহরণ হলো, সহীহ্ বুখারীতে ইমাম বুখারী রহ. অধ্যায়ের মধ্যে কিছু বর্ণনা সূত্রহীনভাবে এনেছেন। সেক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের সহীহ্ বক্তব্য হলো, যেটার দলীল/সূত্র আমরা অন্য কিতাবে পাবো সেটা নিব। আর যেটার ক্ষেত্রে পাবো না নিবো না। তবে আবার ভ্রান্ত বা অনির্ভরযোগ্যও বলবো না।
কারণ, হতে পারে ইমাম বুখারী রহ. এটা সূত্র সহ নির্ভরযোগ্যভাবেই জানতেন কিন্তু এখানে তিনি সংক্ষেপে উল্লেখ করে দিয়েছেন। সূত্র আনার প্রয়োজন মনে করেননি। এটাকে উলামায়ে কেরামের ভাষায় বলে ‘তাওয়াক্কুফ’ বা নীরব থাকা। যেহেতু এটার সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই তাই নীরব থাকব। হ্যাঁ, যেগুলোর ক্ষেত্রে আমরা জানতে পারবো যে, এটা অনির্ভরযোগ্য সেটা অনির্ভরযোগ্য বলতে সমস্যা নেই।
এবার আপনার উত্তর শুনুন
তাশাহহুদ সংক্রান্ত গল্পটি কোন হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায় না
নবীজী কি মেরাজে তাশাহহুদ নিয়ে গেছেন? এর উত্তর হলো, তাশাহহুদ ‘আত-তাহিয়্যাতু’ সংক্রান্ত যে গল্প/ বিষয়গুলো আপনি উল্লেখ করেছেন তা আমরা কোন হাদীসের কিতাবে পাইনি। বিষয়টি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে। তিনি না বললে এটা জানার কোন পদ্ধতি আমাদের কারো নেই। তাই আমাদের খুজতে হবে হাদীসের মধ্যে আছে কি না। হাদীস ছাড়া এমনি কেউ বলে দিলেই হবে না।
মেরাজে তাশাহহুদের ঘটনাটি তাফসীরের কিতাবে এসেছে
নবীজী কি মেরাজে তাশাহহুদ নিয়ে গেছেন? এই সংক্রান্ত গল্পটি ইমাম কুরতুবী রহঃ স্বীয় তাফসীরে কুরতুবীতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তথা ২৮৫ ও ২৮৬ নং আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে লিখেনঃ
قَوْلُهُ تَعَالَى: (آمَنَ الرَّسُولُ بِما أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ). [رُوِيَ عَنِ الْحَسَنِ وَمُجَاهِدٍ وَالضَّحَّاكِ: أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ كَانَتْ فِي قِصَّةِ الْمِعْرَاجِ، وَهَكَذَا رُوِيَ فِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: جَمِيعُ الْقُرْآنِ نَزَلَ بِهِ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا هَذِهِ الْآيَةَ فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هُوَ الَّذِي سَمِعَ لَيْلَةَ الْمِعْرَاجِ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فِي قِصَّةِ الْمِعْرَاجِ، لِأَنَّ لَيْلَةَ الْمِعْرَاجِ كَانَتْ بِمَكَّةَ وَهَذِهِ السُّورَةُ كُلُّهَا مَدَنِيَّةٌ،
فَأَمَّا مَنْ قَالَ: إِنَّهَا كَانَتْ لَيْلَةَ الْمِعْرَاجِ قَالَ: لَمَّا صَعِدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وبلغ في السموات فِي مَكَانٍ مُرْتَفِعٍ وَمَعَهُ جِبْرِيلُ حَتَّى جَاوَزَ سِدْرَةَ الْمُنْتَهَى فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ: إِنِّي لَمْ أُجَاوِزْ هَذَا الْمَوْضِعَ وَلَمْ يُؤْمَرْ بِالْمُجَاوَزَةِ أَحَدٌ هَذَا الْمَوْضِعَ غَيْرُكَ فَجَاوَزَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَلَغَ الْمَوْضِعَ الَّذِي شَاءَ اللَّهُ، فَأَشَارَ إِلَيْهِ جِبْرِيلُ بِأَنْ سَلِّمْ عَلَى رَبِّكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَأَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَكُونَ لِأُمَّتِهِ حَظٌّ فِي السَّلَامِ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، فَقَالَ جِبْرِيلُ واهل السموات كُلُّهُمْ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أن محمدا عبد هـ وَرَسُولُهُ.
অনুবাদ- হযরত হাসান বসরী রহঃ, হযরত মুজাহিদ রহঃ, হযরত জাহহাক রহঃ থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় এ আয়াত মিরাজের ঘটনার সময়কার। এমনিভাবে হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকেও কিছু বর্ণনায় তা পাওয়া যায়। তবে কেউ কেউ বলেছেনঃ পূর্ণ কুরআন জিবরাঈল আঃ হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর কাছে নিয়ে এসেছেন এ আয়াত ছাড়া। যা রাসূল সাঃ মেরাজের রাতে শুনেছেন। আর কেউ কেউ বলেন, এ আয়াত মিরাজের ঘটনার সময়কার নয়। কেননা, মেরাজের ঘটনা হয়েছে মক্কায়। আর এ পূর্ণ সুরা নাজিল হয়েছে মদীনায়।
তবে যারা বলেন যে, এ আয়াত মেরাজের রাতে নাজিল হয়েছে তারা বলেন, রাসুল সাঃ যখন আসমানে উঠলেন এবং উঁচু স্থানে পৌঁছলেন সাথে ছিলেন জিবরাঈল আঃ। এমনকি তারা সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলেন। তখন তাঁকে জিবরাঈল আঃ বললেন, নিশ্চয় আমি এ স্থান অতিক্রম করতে পারবো না। আর আপনাকে ছাড়া আর কাউকে এ স্থান অতিক্রম করার অধিকার দেয়া হয়নি। তারপর রাসূল সাঃ তার অতিক্রম করলেন এবং এমন স্থানে পৌঁছলেন যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁকে পৌঁছাতে চাইলেন।
তখন জিবরাঈল আঃ তাঁকে [রাসূল সাঃ] ইশারা করলেন, আল্লাহ তাআলাকে সালাম করার জন্য। তখন রাসূল সাঃ বললেন, আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াসসালাওয়াতু ওয়াত ত্বায়্যিবাতু। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। তখন রাসূল সাঃ চাইলেন সালামের একটি অংশ উম্মতীদের জন্যও বরাদ্দ হোক। তাই তিনি বললেন, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন। তারপর জিবরাঈল আঃ এবং আসমানবাসী সবাই বলতে লাগল, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু।
-আলজামে লিআহকামিল কুরআন তথা তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে সূরা বাকারা, আয়াত নং-২৮৫-২৮৬। একই বর্ণনা এসেছে- বাহরুল উলুম তথা তাফসীরে শমরকন্দী, তাফসীরে সূরা বাকারা, আয়াত নং-২৮৫-২৮৬।
নবীজী কি মেরাজে তাশাহহুদ নিয়ে গেছেন? ইমাম কুরতুবী রহ. কী বলেছেন?
আরবীর অনুবাদটি আবার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। ইমাম কুরতুবী রহ. নিজেই বলে দিয়েছে এটা কেউ কেউ বলেছেন। এরপর আরো লক্ষণীয় হলো, বর্ণনার কোন উদ্ধৃতি নেই, সূত্র নেই। কোন হাদীসের কিতাবের হাওয়ালাও নেই। আরো গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি একটি তাফসীরের কিতাব, হাদীসের কিতাব নয়। বিষয়টি হাদীস সংক্রান্ত কিন্তু কোন হাদীসের নির্ভরযোগ্য কিতাবে তা বর্ণিত হয়নি।
অতএব, আমরা বলব যে, ইমাম কুরতুবী রহ. অনেক বড় আলেম ও গবেষক। যেহেতু বিষয়টি হাদীস সংক্রান্ত। আর হাদীসের কোন কিতাবে তা বর্ণিত হয়নি এবং ইমাম কুরতুবী রহ.ও কোন হাওয়ালা দেননি তাই তার উল্লেখিত এই বর্ণনাটি আমরা নিতে পারছি না। তাই তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকব।
নামাজে আত্তাহিয়াতু পড়ার কারণ ও এর ইতিহাস
নিচে আমরা নামাজে আত্তাহিয়াতু পড়ার কারণ ও এর ইতিহাস তুলে ধরছি। যাতে পাঠক বুঝতে পারেন, তাশাহহুদের বিষয়টি মেরাজের সাথে সম্পর্কিত নয়।
তাশাহহুদ এর হাদীস
হাদীস নং ১
عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قُلْنَا السَّلاَمُ عَلَى جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ وَفُلاَنٍ فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ اللهَ هُوَ السَّلاَمُ فَإِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ . فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمُوهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ لِلَّهِ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. بخاري: 831
শাকীক ইবনু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাযি.) বলেন, আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে সালাত আদায় করতাম, তখন আমরা বলতাম, ‘‘আস্সালামু আলা জিব্রীল ওয়া মিকাইল এবং আস্সালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান।’’ তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ আল্লাহ্ নিজেই তো সালাম, তাই যখন তোমরা কেউ সালাত আদায় করবে, তখন সে যেন বলে-
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ
‘‘সকল মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ‘ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক।’’ কেননা, যখন তোমরা এ বলবে তখন আসমান ও যমীনের আল্লাহর সকল নেক বান্দার নিকট পৌঁছে যাবে। এর সঙ্গে اَشْهَدُ أَنْ لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল)-ও পড়বে। -সহীহ্ বুখারী ৮৩১
হাদীস নং ২
شَقِيقٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ قُلْنَا السَّلاَمُ عَلَى اللهِ مِنْ عِبَادِهِ السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ وَفُلاَنٍ فَقَالَ النَّبِيُّ لاَ تَقُولُوا السَّلاَمُ عَلَى اللهِ فَإِنَّ اللهَ هُوَ السَّلاَمُ وَلَكِنْ قُولُوا التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمْ أَصَابَ كُلَّ عَبْدٍ فِي السَّمَاءِ أَوْ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يَتَخَيَّرُ مِنْ الدُّعَاءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ فَيَدْعُو. بخاري: 835
’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থা এ ছিল যে, যখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাতে থাকতাম, তখন আমরা বলতাম, বান্দার পক্ষ হতে আল্লাহর প্রতি সালাম। সালাম অমুকের প্রতি, সালাম অমুকের প্রতি। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর প্রতি সালাম, তোমরা এরূপ বল না। কারণ আল্লাহ্ নিজেই সালাম। বরং তোমরা বল-
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ
’’সমস্ত মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের প্রতি।’’ তোমরা যখন তা বলবে তখন আসমান বা আসমান ও যমীনের মধ্যে আল্লাহর প্রত্যেক বান্দার নিকট তা পৌঁছে যাবে। (এরপর বলবে) ’’আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন মাবূদ নাই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’’ অতঃপর যে দু’আ তার পছন্দ হয় তা সে বেছে নিবে এবং পড়বে। -সহীহ্ বুখারী ৮৩৫
হাদীস নং ৩
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا نَقُولُ التَّحِيَّةُ فِي الصَّلاَةِ وَنُسَمِّي، وَيُسَلِّمُ بَعْضُنَا عَلَى بَعْضٍ، فَسَمِعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ “قُولُوا التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، فَإِنَّكُمْ إِذَا فَعَلْتُمْ ذَلِكَ فَقَدْ سَلَّمْتُمْ عَلَى كُلِّ عَبْدٍ لِلَّهِ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ ”. بخاري: 1202
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাতের (বৈঠকে) আত্তাহিয়্যাতু…..বলতাম, তখন আমাদের একে অপরকে সালামও করতাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে ইরশাদ করলেনঃ তোমরা বলবে-
‘‘যাবতীয় মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহরই জন্য। হে (মহান) নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত (বর্ষিত)- হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর সালিহ্ বান্দাদের প্রতি; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন প্রকৃত ইলাহ্ নেই। এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।’’
কেননা, তোমরা এরূপ করলে আসমান ও যমীনে আল্লাহর সকল নেক বান্দাকে তোমরা যেন সালাম করলে। -সহীহ্ বুখারী ১২০২
হাদীস নং ৪
شَقِيقٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قُلْنَا السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ قَبْلَ عِبَادِهِ، السَّلاَمُ عَلَى جِبْرِيلَ، السَّلاَمُ عَلَى مِيكَائِيلَ، السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ، فَلَمَّا انْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ “ إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلاَمُ، فَإِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَقُلِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ. فَإِنَّهُ إِذَا قَالَ ذَلِكَ أَصَابَ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. ثُمَّ يَتَخَيَّرْ بَعْدُ مِنَ الْكَلاَمِ مَا شَاءَ ”. بخاري: 6230
’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম, তখন আমরা আল্লাহর প্রতি তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে সালাম, জিবরীল (আ.)-এর প্রতি সালাম, মীকাঈল (আ.)-এর প্রতি সালাম এবং অমুকের প্রতি সালাম দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে, আমাদের দিকে তাঁর চেহারা ফিরিয়ে বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা নিজেই ’সালাম’। অতএব যখন তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে বসবে, তখন বলবেঃ
التَّحِيَّاتُ لله وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ
মুসল্লী যখন এ কথাটা বলবে, তখনই আসমান যমীনে সব নেক বান্দাদের নিকট এ সালাম পৌঁছে যাবে। তারপর বলবে
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه” وَرَسُوْلُه”
তারপর সে তার পছন্দমত দু’আ বেছে নেবে। -সহীহ্ বুখারী ৬২৩০
হাদীস নং ৫
عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَخْبَرَةَ أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَفِّي بَيْنَ كَفَّيْهِ التَّشَهُّدَ، كَمَا يُعَلِّمُنِي السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. وَهْوَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْنَا، فَلَمَّا قُبِضَ قُلْنَا السَّلاَمُ. يَعْنِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. بخاري: 6265
ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত তাঁর উভয় হস্তের মধ্যে রেখে আমাকে এমনভাবে তাশাহহুদ শিখিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরা শিখাতেনঃ
التَّحِيَّاتُ للهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُوْلُه
এ সময় তিনি আমাদের মাঝেই অবস্থান করছিলেন। তারপর যখন তাঁর ওফাত হয়ে গেল, তখন থেকে আমরা السَّلاَمُ عَلَيْكَ এ স্থলে السَّلاَمُ عَلَى النَّبِيِّ পড়তে লাগলাম। -সহীহ্ বুখারী ৬২৬৫
সহীহ্ বুখারীর আরো কিছু জায়গায় তাশাহহুদের হাদীসটি রয়েছে। যথা: ৬৩২৮, ৭৩৮১।
তাশাহহুদ মেরাজের আগের কিংবা মেরাজের রজনীর নয় বরং পরের
উল্লেখিত হাদীসসমূহ থেকে স্পষ্ট যে, তাশাহহুদ মেরাজের সময়ের নয়। বরং মেরাজ থেকে সালাত নিয়ে আসার পর সালাতের বৈঠকে সাহাবায়ে কেরাম ‘আস-সালামু আলাল্লাহ্……’ জাতীয় শব্দগুলো পড়তেন। তখন নবীজী তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন।
তাশাহহুদ এর অর্থ
এথন প্রশ্ন হলো, তাহলে তাশাহহুদ এর মধ্যে সালাম কেন? নবীজীকে কে সালাম দিল? তাশাহহুদ এর অর্থ থেকে তো মনে হয় অবশ্যই কারো সঙ্গে কথোপোকথন হয়েছে।
উচ্চারণ: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত-ত্বায়্যিবাতু; আস-সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ; আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিছ ছালিহীন; আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।
অর্থ : ‘সব মৌখিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবি! আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও বরকত বর্ষিত হোক। শান্তি আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো মাবুদ বা উপাস্য নাই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
তাশাহহুদ আরবী ও বাংলা অর্থ
معنى ألفاظ التشهد
هنا آن للمرتحل أن يستقر، وللمضطرب أن يطمئن، فاجلس كما علمك النبي صلى الله عليه وسلم جلسة الأنبياء، على مائدة الكريم سبحانه، رافعًا سبابتك، موحدًا ربك، تاليًا ذكرك كما علمك ابن مسعود رضي الله عنه: كنا نصلي خلف النبي صلى الله عليه وسلم، فنقول: السلام على الله، فقال صلى الله عليه وسلم: إن الله هو السلام، ولكن قولوا: التحيات لله والصلوات والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله [1].
التحيات : جمع تحية، والتحية هي التعظيم والسلامة من كل نقص، فكل أنواع التحيات والكمال لله سبحانه فهو المتصف بكلِّ كمال، والمنزه عن كلِّ نقص سبحانه وتعالى.
والصلوات : أي: كل الصلوات فرضها ونفلها، وكل الأدعية والأذكار لله وحده.
والطيبات : قال النبي صلى الله عليه وسلم: إن الله طيب لا يقبل إلا طيبًا[2]، فالله سبحانه طيبٌ في ذاته وصفاته وأفعاله ولا يقبل من أقوال وأفعال عباده إلا الطيب منها.
السلام عليك : قيل: السلام: اسم الله عز وجل، وقيل: السلام هنا بمعنى التسليم. وقيل: السلام هنا: بمعنى السلامة من النقائص والآفات، وقيل السلام هنا: بمعنى الدعاء أن يعافيك الله من كل كرب وسوء، والدعاء ليس مقصورًا في حال حياته صلى الله عليه وسلم فهناك أهوال يوم القيامة، لذا كان دعاء الرسل آنئذ: اللهم سَلِّم، سَلِّم [3].
وقد يكون السلام بمعنى أعم؛ وهو سلامة شرعه صلى الله عليه وسلم من العبث والهلاك، فكما سلمه الله سبحانه حيًّا، فنسأله كذلك أن يسلم شرعه بعد موته صلى الله عليه وسلم.
عليك : كاف الخطاب” لاستحضاره صلى الله عليه وسلم، وإظهاره قربه منك، كأنك تراه وتُسلم عليه صلى الله عليه وسلم، والأمر كما قال الشاعر:
خيالُك في عَيْني وذِكْرُك في فَمي *** ومَثْواكَ في قلبي، فأين تَغيبُ؟
ورحمة الله : فأنت بعد أن دعوتَ لرسول الله صلى الله عليه وسلم بالسلام، دعوت له بالرحمة ليزول عنه المرهوب، ويحصل له المطلوب، فالمولى سبحانه وسلامة النبي ورحمة الله له خير ونفع لنا نحن – المسلمين – لأننا سنفوز بشفاعته في الآخرة، كما فزنا بشرعه في الدنيا.
ولعلك تسأل: لم بدأ بالسلام قبل الرحمة؟
لأن التخلية قبل التحلية، فالتخلية هي السلام من النقائص، والتحلية ذكر الأوصاف الكاملة.
وبركاته : أي بارك الله في النبي صلى الله عليه وسلم ودعوته، ودليل ذلك كثرة أتباعه، وانتشار شرعه بالرغم من كيد الأعداء، وتخاذل الأنصار.
السلام علينا : السلام هنا بنفس ما مضى في ((السلام عليك))، ونا في ((علينا)) يُراد بها الشخص نفسه، وجميع الأمة المحمدية، واستدل به على استحباب البدء بالنفس في الدعاء، قبل أن تدعو لغيرك.
وعلى عباد الله الصالحين : وهم: كُل عبد صالح حر أو ميت في السماء والأرض، من الآدميين والملائكة والجن.
أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله :شهادة، تعني معاهدتك ربك على توحيده، واتباع نبيه.
[3] أخرجه البخاري: 806، ومسلم: 182
قال العلامة الكشميري رحمه الله تعالى: فَلَمَّا قُبِضَ قُلْنَا السَّلاَمُ. يَعْنِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. بخاري: 6265 : ولم تعمل به الأمة كما ذكره السبكي في شرح المنهاج مع أن فيه اضطرابا وراجع له فتح الباري، وقد تشبث به البعض الذين يدعون العمل بالحديث…….، فإن الأمة قد أتت بها تواتر طبقة بعد طبقة. –فيض الباري: 4/412
তাশাহহুদ কোন কথোপোকথন নয়
বাংলা অর্থগুলো ভালেভাবে খেয়াল করে থাকলে বুঝে থাকবেন যে, এটা কোন কথোপোকথন নয়। উপরের আরবী এবারতে বিস্তারিত আছে। আমি এখান থেকে পাঠকের সহজের জন্য কিছু উল্লেখ করছি।
‘আস-সালামু আলাইকা আয়্যুহান নাবিয়্যু’ এটার দ্বারা সকল মুসল্লিগণ নামাজে নবীজীর জন্য নিরাপত্তার দুআ‘ করছেন। অর্থাৎ, জীবদ্দশায় মুসল্লিগণ দুআ করেছেন আল্লাহ্ আপনাকে সকল বিপদাপদ থেকে নিরাপদ রাখুন। আর নবীজীর ইন্তকালের পরে কেয়ামত পর্যন্ত মুসল্লিগণ দুআ‘ করছেন এবং করবেন, কেয়ামত পর্যন্ত যেন তাঁর রেখে যাওয়া দ্বীন-ইসলাম নিরাপদ থাকে।
মুসল্লিগণ নিজেদের জন্য এবং সকল নেককার বান্দাদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার দুআ‘ করছেন। সুতরাং এটা কোন কথোপোকথন নয়। যেমনটা আমরা মনে করে থাকি।
আশা করি উত্তর পেয়েছেন।
আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিসের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য শুকরিয়া ও জাযাকাল্লাহ্
আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিস Ahle Salaf Media Service
জাযাকাল্লাহ খায়ের আল্লাহ তাআলা আপনার এ মেহনতকে নাজাতের ওছিলা হিসেবে কবুল করেন আমিন