হোম / সালাত অধ্যায় / নামাযের সুন্নত কেরাত

নামাযের সুন্নত কেরাত

প্রশ্ন

নামাযের সুন্নত কেরাত সম্পর্কে জানতে চাই। আমরা যে ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ি, তার সুন্নত কেরাত কি? নামাযে কোরআনের কোন কোন জায়গা থেকে তেলাওয়াত করা সুন্নত।

-রমাদ্বান

উত্তর 

নামাযের সুন্নত কেরাত

নামাযের সুন্নত কেরাত জানার পূর্বে আমাদের কে ‘মুফাসসাল’ ও তার প্রকার সমূহের পরিচয় জানতে হবে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো।

মুফাসসাল ও তার প্রকারসমূহের পরিচয়

কুরআন মাজীদের শেষ অংশ, অর্থাৎ সূরা হুজুরাত থেকে সূরা নাস পর্যন্ত সূরাসমূহকে ‘মুফাসসাল’ বলা হয়। -তাফসীরে সাম‘আনী খ. ৫ পৃ. ২১২; জামালুল কুররা ওয়া কামালুল ইক্বরা, আলামুদ্দীন সাখাভী খ. ১ পৃ. ৩৫; বাসাইরু যাওয়িত তাময়ীয, ফায়রুযাবাদী খ. ৪ পৃ. ১৯৪; হাশিয়া ইবনে আবিদীন খ. ৩ পৃ. ৪৫৮

মুফাসসাল তিন প্রকার

তিওয়ালে মুফাসসাল, আওসাতে মুফাসসাল ও  কিসারে মুফাসসাল। সূরা হুজুরাত থেকে সূরাاِذَا السَّمَآءُ انْشَقَّت  পর্যন্ত সূরাগুলি হচ্ছে ‘তিওয়ালে মুফাসসাল’। সূরা বুরূজ থেকে সূরা ক্বাদর পর্যন্ত সূরাগুলি হচ্ছে ‘আওসাতে মুফাসসাল’ এবং  সূরা বায়্যিনাহ থেকে সূরা নাস পর্যন্ত সূরাগুলি হচ্ছে ‘কিসারে মুফাসসাল’।

-মানাহিলুল ইরফান ফী উলূমিল কুরআন খ. ১ পৃ. ২৮৭;  আলবাহরুর রায়েক খ. ১ পৃ. ৫৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া খ. ১ পৃ. ৭৭; হাশিয়া ইবনে আবিদীন খ. ৩ পৃ. ৪৫৮-৪৬০; সি‘আয়াহ খ. ২ পৃ. ২৮৬

ফজরের কেরাত

১. কুতবা ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফযরের প্রথম রাকআতে ওয়ান-নাখলা বাসিকাতিন’ (সূরা কাফ) পাঠ করতে শুনেছি। -তিরমিযী ৩০৬

হাদীসে উল্লেখিত وَالنّخْلَ بَاسِقَاتٍ এ আয়াতাংশ সূরা ق এর প্রথম রুকুতে রয়েছে। হাদীসের সাধারণ অর্থ এটাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের প্রথম রাকাতে সম্পূর্ণ সূরা ‘ক্বাফ’ তিলাওয়াত করেছেন।

২. হযরত জাবের ইবনে সামুরাহ রা. বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের  নামাযে (সূরা ‘ক্বাফ’) এবং এর কাছাকাছি পরিমাণের সূরা তিলাওয়াত করতেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৫৮

উল্লেখ্য যে, সূরা ‘ক্বাফ’-এর আয়াত সংখ্যা ৪৫

৩. হযরত জাবের ইবনে সামুরাহ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযে সূরা ‘ওয়াক্বিআহ’ এবং এজাতীয় সূরা তিলাওয়াত করতেন। -মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস ২৭২০; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২০৯৯৫

৪. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযে সূরা ‘তূর’ তিলাওয়াত করেছেন। -বুখারী ১৬৩৩; ১৬২৬  

৫. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযে সূরা তাকবীর তিলাওয়াত করেছেন। -সুনানে নাসায়ী ৯৫১; মুসনাদে আহমাদ ১৮৭৩৩

৬. উমর ইবনে আবদুল আযীয রাহ মাগরিবের নামাযে ‘কিসারে মুফাসসাল’ পড়তেন। ইশার নামাযে ‘আওসাতে মুফাসসাল’ পড়তেন। ফজরের নামাযে ‘তিওয়ালে মুফাসসাল’ পড়তেন। -তাবাকাতে ইবনে সা‘দ খ. ৫ পৃ. ১৬১-১৬২; মুসনাদে আহমাদ, ৮৩৬৬

আরো দ্রষ্টব্য, মুসনাদে আহমাদ ৮৩৬৬, ৭৯৯১; সুনানে নাসাঈ ৯৮২; সহীহ ইবনে খুযাইমা ৫২০; সহীহ ইবনে হিব্বান ১৮৩৭; শারহু মা‘আনিল আসার ১২৭৯, ১২৮০

৭. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের  নামাযে ষাট আয়াত থেকে একশত আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন। -সহীহ মুসলিম, ৪৬১; সহীহ বুখারী, ৫৯৯

৮. হযরত উমর রা. হযরত আবু মূসা আশআরী রা.-কে লিখে পাঠিয়েছেন যে, মাগরিবের নামাযে ‘কিসারে মুফাসসাল’ পড়বে, ইশার নামাযে ‘আওসাতে মুফাসসাল’ পড়বে এবং ফজরের নামাযে ‘তিওয়ালে মুফাসসাল’ পড়বে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৬৭২;

আরো দ্রষ্টব্য, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৭২২ (ফজরের কেরাত অনুচ্ছেদ) হযরত উমর রা. এর আমল; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৮২ (উমর ইবনু আব্দিল আযিয রহ. এর আমল) মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৭২৬ (হাসান বসীর আমল); মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৭৬ (আবীদাহ্ সালমানীর আমল)

ফজরের নামযে ‘মুফাসসাল’ এর বাইরে থেকে তিলাওয়াত

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযে ‘মুফাসসাল’-এর বাইরে থেকেও দীর্ঘ কেরাত পড়েছেন। -সহীহ মুসলিম ৪৫৫; সুনানে ইবনে মাজাহ ৮২০ (সূরা মূমিনুন); সহীহ ইবনে হিব্বান ১৮১৭; মুসনাদে আহমাদ ৪৯৮৯ (সূরা সাফফাত); মুসনাদে আহমাদ ২৩০৭২, ২৩১২৫; সুনানে নাসাঈ ৯৪৭ (সূরা রুম)

আরো দ্রষ্টব্য, সাহাবীদের আমল : মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৭১১, ২৭১৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৬৫; শারহু মা‘আনিল আসার ১০৮৯; শারহু মা‘আনিল আছার ১০৮৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৭১২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৬৬; শারহু মা‘আনিল আছার ১০৭৯, ১০৮০

মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৭১৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৮৩; {‘মুফাসসালের’ সূরাসমূহ ব্যতীত অন্য যেসব সূরার আয়াত সংখ্যা একশ থেকে কম, ঐ সূরাগুলোকে ‘মাসানী’ বলা হয়। -আল ইতকান ফী উলূমিল কুরআন খ. ১ পৃ. ২০০}; মুয়াত্তা মালিক ২২০; শারহু মা‘আনিল আছার ১০৯০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৭০৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৮১, ৩৫৭০, ৩৫৭৩, ৩৫৭৪

ফজরে ‘আওসাতে মুফাসসাল’-এর শুরু থেকে তিলাওয়াত

ফজরের নামাজে ‘আওসাতে মুফাসসাল’ এর শুরু থেকেও তেলাওয়াত করার বর্ণনা পাওয়া যায়। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৭৮, ৩৫৭১ (আলী রা.); মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৭৯ (ইবনে যুবাইর রা.)

ইমাম সাহেবের কর্তব্য

হযরত আবূ মাসউদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি অমুকের কারণে ফজরের জামাতে শরীক হই না। সে নামায (খুব) দীর্ঘ করে! আবূ মাসউদ বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেদিন যতটা নারাজ হতে দেখেছি, নসীহত করার সময় এমন নারাজ হতে আর কখনও দেখিনি।

অতপর নবীজী বললেন, লোকসকল, তোমাদের কেউ কেউ এমন রয়েছে, যে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। তোমাদের যে কেউই ইমামতি করবে, তার কর্তব্য হচ্ছে, সে নামায সংক্ষিপ্ত করবে। কেননা তার পিছে বৃদ্ধ, দুর্বল ও প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তিও থাকে। -সহীহ মুসলিম ৪৬৬; সহীহ বুখারী ৭০২, ৭০৪

অন্য হাদীসে রয়েছে-

যে ব্যক্তি লোকদের ইমামতি করবে সে যেন নামায সংক্ষিপ্ত করে।… আর যখন একাকী নামায পড়বে তখন যত ইচ্ছা নামায দীর্ঘ করুক। -সহীহ মুসলিম ৪৬৭; সহীহ বুখারী ৭০৩

এসব হাদীস থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যে, ইমামের কর্তব্য সকল হালতে মুসল্লিদের অবস্থা লক্ষ করা। এর মধ্যে বাজার, স্টেশন ও রাস্তা-ঘাটের  মসজিদগুলোর ইমামদের জন্য জরুরী সতর্কীকরণ রয়েছে। অর্থাৎ, সেখানকার মুসল্লিদের যেহেতু তাড়া থাকে তাই নামাজে তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে ইমামের সচেতন হওয়া আবশ্যক।

বিশেষ কারণে কেরাত সংক্ষিপ্ত করা

স্বাভাবিক অবস্থায় তো ফজরের নামায ও অন্যান্য নামাযে মাসনূন কেরাত রয়েছে। তবে বিশেষ কোনো কারণে নাস, ফালাক, ইখলাছ ও কাফিরূনের মত ছোট ছোট সূরা যে কোনো নামাযে তিলাওয়াত করতে অসুবিধা নেই। এমনকি বিশেষ অবস্থায় এমন করা হলে তা সুন্নাহর মধ্যে শামিল হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর অবস্থায় সূরা নাস ও সূরা ফালাক দিয়ে ফজরের  নামায আদায় করেছেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪৬২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৭৩৫০; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৫৪৩৬

সাহাবায়ে কেরামও সফর বা অন্য কোনো ওজরের কারণে নামাযে সংক্ষিপ্ত কেরাত পড়তেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৭০৩, ৩৭০২, ৩৭০৬, ৩৭০৪; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৭৩৩, ২৭৩৫, ২৭৩৪; সুনানে বাইহাকী খ. ২ পৃ. ৩৯০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৭৪০

যোহর আসরের কেরাত

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের নামাযে ‘তিওয়ালে মুফাসসাল’ থেকে পড়েছেন। -সহীহ ইবনে খুযাইমা ৫১১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৯৪ (উমর রা.); মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৬৯৭, ২৬৮০, ২৬৮১, ২৬৮২ (ইবনে উমর রা.)

মুফাসসাল’-এর বাইরে থেকে তিলাওয়াত

যোহরের নামাযে ‘মুফাসসাল’-এর বাইরে থেকেও কেরাত পড়েছেন। -সহীহ মুসলিম, ৪৫২; সুনানে নাসাঈ ৯৭১; সুনানে ইবনে মাজাহ ৮৩০।

সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্রষ্টব্য, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৯৬, ৩৫৯৭, ৩৫৯৮

যোহর আসরের নামাযেআওসাতে মুফাসসাল

নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামাযে এবং কখনো যোহরের নামাযেও ‘আওসাতে মুফসসাল’ থেকে পড়েছেন। -সহীহ মুসলিম ৪৬০; জামে তিরমিযী ৩০৭; সুনানে আবু দাউদ ৮০৫; সহীহ ইবনে খুযাইমা ৫১০

সাহাবা-তাবেঈগনের আমল দ্রষ্টব্য, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫৯৫, ৩৬৬৩, ২৬৮৭, ৩৬০৫; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৬৯০ (সুফিয়ান ছাওরী রহ. এর বক্তব্য)

সুতরাং উক্ত হাদীস সমূহ থেকে বোঝা গেলো, যোহরের নামাযে আওসাতে মুফাসসাল থেকে পড়লেও সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। যদি যোহরের নামাযে আওসাতে মুফাসসাল থেকে বা তার সমপরিমাণ পড়া হয় তাহলে এটাকে সুন্নত পরিপন্থী বা সুন্নতের লঙ্ঘন বলা যাবে না। কারণ এটাও  মাসনূন কেরাতের শামিল। দেখুন, ইলাউস সুনান ৪/২১,৩১

আসরের নামাযে ‘কিসারে মুফাসসাল’ থেকে পড়ার বর্ণনা

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৬৬০ (খাব্বাব রা.); মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৬৯০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৬০৩, ৩৬০৫ (ইবরাহীম নাখয়ী রহ. এর বক্তব্য);

উপরোক্ত সাহাবা-তাবেঈগণের বর্ণনা ও আমল থেকে বুঝা যাচ্ছে, খাইরুল কুরূনে আছরের নামাযে কখনো কখনো কিসারে মুফাসসালের বড় কোনো সূরাও পড়া হয়েছে। তবে সাধারণ নিয়ম ছিল আওসাতে মুফাসসাল থেকে পড়ার।

মাগরিবের কেরাত

ফজরের কেরাতের আলোচনায় আমরা দেখেছি, মাগরিরেব সুন্নত কেরাত হচ্ছে, ‘কিসারে মুফাসসাল’। কিন্তু মাগরিবের নামাযেও দীর্ঘ কেরাত পড়ার বর্ণনা রয়েছে। -জামে তিরমিযী ৩০৮; সহীহ বুখারী ৭৬৫; সহীহ মুসলিম ৪৬৩

সাহাবীগণের আমল দ্রষ্টব্য, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৬১৯, ৩৬২০, ৩৬১৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৬৯৫, ২৬৯৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৬১৬

মাগরিবের নামাযেকিসারে মুফাসসালথেকে পড়া উত্তম

সাহাবায়ে কেরামের আমল : মুয়াত্তা মালিক ২৫৯; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৬৯৮, ২৬৭২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১২৮১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৬৯৭, মুসান্নাফে ইবনে শাইবা ৩৬১৩; সুনানে আবু দাউদ ৮১৫; সুনানে বাইহাকী খ. ২ পৃ. ৩৯১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৬১৭, ২৬২১

তাবেয়ীনের আমল : মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৬২৭; সুনানে আবু দাউদ ৮১৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৫২৪, ৩৬২৬, ৩৬২৩

মাগরিবে কিসারে মুফাসসাল’ থেকে পড়ার বিষয়ে মারফূ হাদীস : মুসনাদে আহমাদ ৮৩৬৬, ৭৯৯১; সুনানে নাসাঈ ৯৮২; সহীহ ইবনে খুযাইমা ৫২০; সহীহ ইবনে হিব্বান ১৮৩৭; শারহু মা‘আনিল আসার ১২৭৯, ১২৮০; তাবাকাতে ইবনে সা‘দ খ. ৫ পৃ. ১৬১-১৬২; মুসনাদে আহমাদ ৮৩৬৬; শারহু মা‘আনিল আসার খ. ১ পৃ. ৩৫১; সহীহ বুখারী ৫৫৯; সহীহ মুসলিম ৬৩৭; সুনানে আবু দাউদ ৪১৬; মুসনাদে আহমাদ ১৪২৪৬; শারহু মা‘আনিল আসার ১২৬৫-১২৭১

ইশার কেরাত

পূর্বে আমরা জেনেছি যে, ইশার নামাযে ‘আওসাতে মুফাসসাল’ পড়া মাসনূন। অবশ্য অবস্থা ভেদে বেশ-কম করাতেও কোনো ক্ষতি নেই। এক্ষেত্রে হাদীস শরীফে কখনো কখনো ‘তিওয়ালে মুফাসসাল’ এবং ‘কিসারে মুফাসসাল’ পড়ার বর্ণনাও রয়েছে।

-জামে তিরমিযী, হাদীস ৩০৯; সুনানে নাসাঈ ৯৯৯; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৩৭২৫; সহীহ বুখারী ৭০৫, ৬১০৬; সহীহ মুসলিম ৪৬৫; মুসনাদে হুমাইদী ১২৪৬; সহীহ ইবনে খুযাইমা ৫২১; সুনানে নাসাঈ ৯৯৭; সহীহ বুখারী ৭৬৯; সহীহ মুসলিম ৪৬৪; জামে তিরমিযী ৩১০; সুনানে নাসাঈ ১০০০; তাবাকাতে ইবনে সা‘দ খ. ৫ পৃ. ১৬১-১৬২; মুসনাদে আহমাদ ৭৯৯১, ৮৩৬৬; সুনানে নাসাঈ ৯৮২

সাহাবায়ে কেরামের আমল : মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৬৩১ ৩৬৩৬, ৪২৬৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৬৭২; সহীহ বুখারী ৭৬৬, ৭৬৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪২৬৬, ৩৬৩৩, ৩৬৩৭

ইশার নামাযে তিওয়ালে মুফাসসালবা তার বাইরে থেকে পাঠ

মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৭০৩ (উমর রা.); মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৬৩২, ৪২৮২, ৪৪২৬ (উসমান র.); মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৭০১, ২৭০২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৬২৯, ৩৬৩০ (ইবনে মাসউদ রা.); মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩৬৩৪ (ইবনে উমর রা.)

সারকথা কথা

সম্পূর্ণ আলোচনা মনযোগ দিয়ে পড়ে থাকলে বুঝতে পারবেন, নামাযে মাসনূন কেরাত এর পরও একটি ধাপ রয়েছে, আর তাহলো, মুসল্লিদের অবস্থার বিবেচনা। তাছাড়া এটা মনে রাখা জরুরী যে, মাসনূন কেরাত মানেই হচ্ছে, সুন্নত। এটা কোন ফরয বা ওয়াজিব নয়। তাই এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিৎ নয়। সাথে সাথে ইমামের কর্তব্য সর্বাবস্থায় মুসল্লিদের হালতের প্রতি লক্ষ রাখা। আর এও প্রনিধাণযোগ্য যে, সদা-সর্বদা মাসনূন কেরাত পরিহার করাও কোন সুন্নাহ্ সম্মত আমল নয়।

আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিসের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য জাযাকাল্লাহ্ 

Check Also

রোযা ও তারাবীর মাসায়েল

রোযা ও তারাবীর মাসায়েল জানা আমাদের সবার জন্যই জরুরী।  যাতে করে আমাদের সকলের রোযাগুলো সহীহ্ …

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন?

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন? প্রবন্ধটি তালাকের ক্ষেত্রে একটি সহজ সরল উপস্থাপন। এতে একজন স্বামী তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!