হোম / সালাত অধ্যায় / নামাজে বাংলায় দুআ করা

নামাজে বাংলায় দুআ করা

আসসালামু আলাইকুম

প্রশ্ন

নামাজে বাংলায় দুআ করা। যেকোনো ফরজ/সুন্নত/নফল নামাযের সিজদায়, দুই সিজদার মাঝে, রুকুতে, শেষ বৈঠকে তাসবীহগুলোর পাশাপাশি রব্বানা, আল্লহুম্মা অথবা কুরআন-হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দুয়াসমুহ করা যাবে? আর নিজ নিজ মাতৃভাষায় দুয়া করতে চাইলে সেটা কি কোনো নামাজের ভিতরে করা যাবে? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব ইন শা আল্লাহ।

নাম: সাহানা

ঠিকানা: বাসা-১৭, ব্লক-বি, রোড়-৫, বনশ্রী, ঢাকা

ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

উত্তর

নামাজে বাংলায় দুআ করা

প্রথমে এ সম্পর্কিত কিছু হাদীস উল্লেখ করছি। এরপর আপনার উত্তরটি সংক্ষেপে উল্লেখ করছি। এতে উত্তর বুঝতে আমাদের জন্য সহজ হবে ইনশাআল্লাহ্।

রুকু, সেজদা, দুই সেজদার মাঝখানের বৈঠক এবং শেষ বৈঠকে দুআ পড়া মর্মে কিছু হাদীস

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَشَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم السِّتَارَةَ وَالنَّاسُ صُفُوفٌ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ “‏أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَمْ يَبْقَ مِنْ مُبَشِّرَاتِ النُّبُوَّةِ إِلاَّ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ يَرَاهَا الْمُسْلِمُ أَوْ تُرَى لَهُ أَلاَ وَإِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ الْقُرْآنَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا فِيهِ الرَّبَّ عَزَّ وَجَلَّ وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মৃত্যু রোগে আক্রান্ত অবস্থায় হুজ্বরা শরীফের) পর্দা খুলে দিলেন। তখন লোকেরা আবূ বকরের পিছনে কাতারবন্দী অবস্থায় ছিলেন।

তিনি বললেন, হে লোকগণ! এখন আর সত্য স্বপ্ন ব্যতীত নবূওয়াতের সুসংবাদ দেওয়ার কিছু অবশিষ্ট থাকবে না (কেননা, আমার উপর নবুওয়াতের সমাপ্তি ঘটেছে) মুসলিমগণ তা দেখবে। তোমরা সাবধান হও। আমাকে রুকূ এবং সিজদায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তোমরা রুকুতে তোমাদের রবের মহত্ত বর্ণনা করবে এবং সিজদায় অধিক পরিমাণ দুআ পড়বে। তোমাদের দু’আ কবুল হওয়ার উপযুক্ত। -সহীহ্ মুসলিম ৪৭৯

عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিজদার অবস্থায়ই বান্দা তার রবের অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে। অতএব, তোমরা (সিজদায়) অধিক পরিমাণ দু’আ পড়বে। -সহীহ্ মুসলিম ৪৮২

عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ قُلْنَا السَّلاَمُ عَلَى اللهِ مِنْ عِبَادِهِ السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ وَفُلاَنٍ فَقَالَ النَّبِيُّ لاَ تَقُولُوا السَّلاَمُ عَلَى اللهِ فَإِنَّ اللهَ هُوَ السَّلاَمُ وَلَكِنْ قُولُوا التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمْ أَصَابَ كُلَّ عَبْدٍ فِي السَّمَاءِ أَوْ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يتَخَيرُ مِنْ الدُّعَاءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ فَيَدْعُو.

’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের অবস্থা এ ছিল যে, যখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাতে থাকতাম, তখন আমরা বলতাম, বান্দার পক্ষ হতে আল্লাহর প্রতি সালাম। সালাম অমুকের প্রতি, সালাম অমুকের প্রতি। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর প্রতি সালাম, তোমরা এরূপ বল না। কারণ আল্লাহ্ নিজেই সালাম। বরং তোমরা বল-

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ

’’সমস্ত মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের প্রতি।’’ তোমরা যখন তা বলবে তখন আসমান বা আসমান ও যমীনের মধ্যে আল্লাহর প্রত্যেক বান্দার নিকট তা পৌঁছে যাবে। (এরপর বলবে) ’’আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন মাবূদ নাই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’’ অতঃপর যে দু’আ তার পছন্দ হয় তা সে বেছে নিবে এবং পড়বে। -সহীহ্ বুখারী ৮৩৫

عن أَبَي هُرَيْرَةَ قال قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “‏إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ الأَخِيرِ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়ে অবসর হয়ে যেন চারটি বিষয়ে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেঃ জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে। -সহীহ্ মুসলিম ৫৮৮; ইবনে মাজাহ ৯০৯

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ ‏”‏ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي ‏”‏ ‏.‏

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ সাজদার মাঝে এ দু’আ পড়তেনঃ ’’আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়া ’আফিনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুক্বনী’’। -আবু দাউদ ৮৫০

عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَكَانَ يَقُولُ ‏”‏ اللهُ أَكْبَرُ – ثَلَاثًا – ذُو الْمَلَكُوتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ اسْتَفْتَحَ فَقَرَأَ الْبَقَرَةَ ثُمَّ رَكَعَ فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ وَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ ‏”‏ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَكَانَ قِيَامُهُ نَحْوًا مِنْ رُكُوعِهِ يَقُولُ ‏”‏ لِرَبِّيَ الْحَمْدُ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ سَجَدَ فَكَانَ سُجُودُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ فَكَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ ‏”‏ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ وَكَانَ يَقْعُدُ فِيمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ نَحْوًا مِنْ سُجُودِهِ وَكَانَ يَقُولُ ‏”‏ رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي ‏”‏ ‏.‏ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَقَرَأَ فِيهِنَّ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ وَالنِّسَاءَ وَالْمَائِدَةَ أَوِ الأَنْعَامَ شَكَّ شُعْبَةُ ‏.‏

হুযাইফাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, একদা রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাত আদায় করতে দেখলেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার ’আল্লাহু আকবার’ বলার পর ’যুল-মালাকূতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল ’আযমাতি’ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সূরাহ্ বাক্বারাহ তিলাওয়াত শুরু করেন এবং তাঁর রুকূ’ ছিলো ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময়। তিনি রুকূ’তে ’সুবহানা রব্বিয়াল ’আযীম, সুবহানা রব্বিয়াল ’আযীম’ পাঠ করেন। অতঃপর রুকূ’ হতে মাথা উঠিয়ে প্রায় রুকূ’র সমপরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন এবং এ সময় ’’লি-রব্বিয়াল হামদ’’ পাঠ করেন।

অতঃপর তিনি সিজদায় গিয়ে তাতে ক্বিয়ামের অনুরূপ সময় অবস্থান করেন এবং এ সময় ’সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা’ পাঠ করেন। অতঃপর সিজদা্ হতে মাথা উঠিয়ে দু’ সাজদার মাঝে সিজদায় অবস্থানের সমপরিমাণ সময় বসে থাকেন এবং এখানে তিনি ’রব্বিগফিরলী’ পাঠ করেন। এরূপে তিনি চার রাক’আত সালাত আদায় করেন এবং এ সালাতে সূরাহ আল-বাক্বারাহ, সূরাহ আলে-’ইমরান, সূরাহ নিসা এবং সূরাহ মায়িদাহ্ অথবা সূরাহ আন’আম তিলাওয়াত করেন। -আবু দাউদ ৮৭৪

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ بيْنَ السَّجْدَتَيْنِ‏ “‏ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সিজদার মাঝখানে বলতেন, ’আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াজবুরনী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী। -সুনানে তিরমিযী ২৮৪

عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ ـ رضى الله عنه ـ‏.‏ أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلاَتِي‏.‏ قَالَ ‏ “‏ قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ‏”‏‏.‏

আবূ বকর সিদ্দীক (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আরয করলেন, আমাকে সালাতে পাঠ করার জন্য একটি দু‘আ শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, এ দু‘আটি বলবে-

اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّك أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

‘‘হে আল্লাহ্! আমি নিজের উপর অধিক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ হতে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’’ –সহীহ্ বুখারী ৮৩৪

প্রশ্নের উত্তর

উপরোল্লিখ হাদীসগুলো মনযোগ দিয়ে পড়ে থাকলে আপনি সহজেই বুঝতে পারছেন যে, রুকু, রুকু থেকে উঠে দাড়িয়ে, সেজদায়, দুই সেজদার মাঝখানে এবং শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পরে কী দুআ পড়বেন। আরো জানতে পেরেছেন, নামাজের মধ্যে দুআর একটি উত্তম ক্ষেত্র হলো, রুকু, সেজদা এবং শেষ বৈঠক।

হাদীসগুলো থেকে আরো জেনেছেন, এসকল ক্ষেত্রে আমরা যে কয়টি দুআ জানি, শুধু তাই পড়তে হবে বলে কোন বাধ্য বাধকতা নেই। বরং নিজের মন মত যে কোন ভালো দুআ পড়া যেতে পারে। নবীজীও তাই করেছেন। সব সময় একই দুআ পড়েননি। শব্দের ভিন্নতায় একাধিক দুআ তাঁর থেকে বর্ণিত আছে।

তাই এসকল ক্ষেত্রে কুরআন-হাদীসে বর্ণিত নিজের পছন্দমত যে কোন দুআই পড়া যাবে। অবশ্য এক্ষেত্রে নবীজী এবং সাহাবীগণ  যে সকল দুআ পড়েছেন, সেগুলোই পড়া ভালো। অতএব, আপনি রব্বানা….., আল্লাহুম্মা……. জাতীয় দুআগুলো পড়তে পারেন। ভালো হয়, নফল নামাজে এজাতীয় দুআগুলো পড়া। আর ফরজ নামাজগুলোতে কেবল হাদীসে বর্ণিত নির্দিষ্ট দুআ পড়া।

দুআগুলো বাংলা ভাষায় করা যাবে?

বাকী থাকল, বাংলায় দুআ করা যাবে কি না। এর উত্তর হচ্ছে, নামাজ এটি একটি ইবাদত এবং এর মধ্যে যা কিছু পড়া হয় তাও ইবাদত। আর ইবাদত এর শব্দগুলো তাই হতে হয়, যা কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত হয়েছে। তাই ফক্বীহগণ নামজে বাংলায় দুআ না করারই পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অবশ্য অপর কিছু ফক্বীহ্ তার অনুমতিও প্রদান করেছেন।

এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো, নামাজে আপনি বাংলায় দুআ করা থেকে এড়িয়ে চলবেন। মনে রাখবেন, নবীজী এবং সাহাবা-তাবেঈন যেহেতু নামজে আরবীতেই দুআ করতেন, তাই মাতৃভাষায় নামাজে দুআ এড়িয়ে চলাই ভালো।

উল্লেখ্য, রুকু-সেজদায় কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে না। যা আমরা  প্রথম হাদীসে উল্লেখ করেছি। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।

আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিসের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য জাযাকাল্লাহ্।

Check Also

রোযা ও তারাবীর মাসায়েল

রোযা ও তারাবীর মাসায়েল জানা আমাদের সবার জন্যই জরুরী।  যাতে করে আমাদের সকলের রোযাগুলো সহীহ্ …

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন?

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন? প্রবন্ধটি তালাকের ক্ষেত্রে একটি সহজ সরল উপস্থাপন। এতে একজন স্বামী তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!