হোম / প্রবন্ধ নিবন্ধ / আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের কারণ

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের কারণ

আসসলালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের কারণ

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের অনেক কারণ রয়েছে। কী কী কারণে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংষ হচ্ছে আজকে আমরা তা নিয়ে আলোচনা করব। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন,

قال تعالى: ظهر الفساد في البر والبحر بما كسبت أيدي الناس ليذيقهم بعض الذي عملوا لعلهم يرجعون. –الروم 41

স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।

আয়াতের ব্যাখ্যা

আয়াত আমাদেরকে বলছে, দুনিয়াতে যত বিপদাপদ, মহামারি, অশান্তি, ফেতনা-ফাসাদ, মুসলিম নিধন, নির্যাতন, জুলুম-অত্যাচার, পরিবারে অশান্তি, অন্যায় হত্যা, বাবা ছেলেকে, সন্তানাদি বাবা-মাকে হত্যা, দেশে অশান্তি সহ যাবতীয় বিপর্যয় আমাদের হাতের কামাই। আমাদের কৃতকর্মের কারণেই এসব হচ্ছে।

বর্তমানে পরকিয়া একটা মহামারি আকার ধারণ করেছে। ফেইসবুকে সম্পর্ক আরেকটা মহামারি। লাভ জিহাদের নামে হিন্দুরা মুসলিম মেয়েদের সাথে যৌন সম্পর্ক করে তাদেরকে ভারতে পাচার আরেকটা মহামারি। সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের পেছনে অনেক মহামারিই দায়ি। কয়টা বিষয় আলোচনা করব।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আমি যদি কোন মহামারির, ফাসাদের কারণ হই তাহলে আমি সবচাইতে বড় যালেম। অর্থাৎ মনে করুন, পরকিয়া, পর্দাহিনতা, অবাধ মেলা-মেশা, যিনা-ব্যভিচার, সুদ-ঘুষ ইত্যাদী যে কোন হারাম কাজের মধ্যে কেউ লিপ্ত হলো, তাহলে সে কিন্তু সবচাইতে বড় জালেম।

কারণ, তার এই কাজের কারণে আল্লাহর উক্ত ঘোষণা অনুযায়ী দুনিয়াতে বিপর্যয় দেখা দিবে। তাহলে সে তো সারা বিশ্বে বিপদাপদ, বালা-মসিবত এর কারণ হলো। তার কারণেই তো দুনিয়াতে এসব মহামারি শুরু হলো। তাহলে সে শুধু নিজের উপর জুলুম করেছে তা নয়। বরং সারা বিশ্বের সকল মানুষ ও মাখলুকের উপর সে জুলুম করেছে। একারণে সে সবচাইতে বড় জালেম।

হযরত শাকীক্ব বলখী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি হারাম মাল খায়, সে কেবল যার কাছ থেকে মাল নেয়া হয়েছে, তার প্রতিই জুলুম করে না; বরং সমগ্র মানব-জাতীর প্রতিই জুলুম করে থাকে। -মাআরিফুল কুরআন, সূরা রুম ৪১

জমিনে অপরাধের হদ কায়েম করা

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে জমিনে অপরাধের হদ কায়েম করা কর্তব্য। কেউ অপরাধ করলে দুনিয়াতে শরয়ী যে শাস্তি দেয়া আবশ্যক তার কারণ এটাই যে, সে অপরাধ করে সারা বিশ্বের উপর/দেশের উপর সে জুলুম করেছে। এখন তাকে এমন শাস্তিই দেয়া দরকার যাতে আগামীতে দেশের মানুষ আর এমন অপরাধ না করতে পারে। হাদীসে এটাই বলা হয়েছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “‏حَدٌّ يُعْمَلُ بِهِ فِي الأَرْضِ خَيْرٌ لأَهْلِ الأَرْضِ مِنْ أَنْ يُمْطَرُوا أَرْبَعِينَ صَبَاحًا ‏”‏. ابن ماجه: 2538

‏আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন জনপদে একটি হদ্দ কার্যকর করা সেই জনপদে চল্লিশ দিন বৃষ্টিপাত হওয়ার তুলনায় উত্তম। -ইবনে মাজাহ ২৫৩৮

এর কারণ এটাই যে, শাস্তি কার্যকর করলে মানুষ সামনে আর এমন করার সাহস পাবে না।

অপরাধির কারণে দুনিয়াও কষ্ট পায়

একজন মানুষের অপরাধের কারণে যেহেতু দুনিয়াতে বিপরযয় আসে তাই বিশ্বের মানুষই শুধু কষ্ট পায় না; বরং স্বয়ং দুনিয়াও কষ্ট পায়। দুনিয়া এমন অপরাধির মৃত্যুতে শান্তিপায়।

عَنْ أَبِي قَتَادَةَ بْنِ رِبْعِيٍّ الأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُرَّ عَلَيْهِ بِجِنَازَةٍ فَقَالَ مُسْتَرِيحٌ وَمُسْتَرَاحٌ مِنْهُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ مَا الْمُسْتَرِيحُ وَالْمُسْتَرَاحُ مِنْهُ قَالَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ يَسْتَرِيحُ مِنْ نَصَبِ الدُّنْيَا وَأَذَاهَا إِلَى رَحْمَةِ اللهِ وَالْعَبْدُ الْفَاجِرُ يَسْتَرِيحُ مِنْهُ الْعِبَادُ وَالْبِلاَدُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ. بخاري: 6512

ক্বাতাদাহ ইবনু রিবঈ আনসারী (রাঃ) বর্ণনা করেন। একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি বললেনঃ সে সুখী অথবা (অন্য লোকেরা) তার থেকে শান্তি লাভকারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! ’মুস্তারিহ’ ও ’মুস্তারাহ মিনহু’-এর অর্থ কী?

তিনি বললেনঃ মু’মিন বান্দা দুনিয়ার কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহর রহমতের দিকে পৌঁছে শান্তি প্রাপ্ত হয়। আর গুনাহগার বান্দার আচার-আচরণ থেকে সকল মানুষ, শহর-বন্দর, বৃক্ষলতা ও জীবজন্তু শান্তিপ্রাপ্ত হয়। -সহীহ্ বুখারী ৬৫১২

সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের ১ম কারণ: অবৈধ সম্পর্ক

এ সম্পর্কে কিছু হাদীস উল্লেখ করা হলো :

عن أَنَس بْنَ مَالِكٍ يَقُوْلُ جَاءَ ثَلاَثَةُ رَهْطٍ إِلٰى بُيُوْتِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُوْنَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أُخْبِرُوْا كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوْهَا فَقَالُوْا وَأَيْنَ نَحْنُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَدْ غُفِرَ لَه مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَحَدُهُمْ أَمَّا أَنَا فَإِنِّي أُصَلِّي اللَّيْلَ أَبَدًا وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَصُوْمُ الدَّهْرَ وَلاَ أُفْطِرُ وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلاَ أَتَزَوَّجُ أَبَدًا فَجَاءَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِمْ فَقَالَ أَنْتُمْ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا أَمَا وَاللهِ إِنِّي لأخْشَاكُمْ للهِ وَأَتْقَاكُمْ لَه لَكِنِّي أَصُوْمُ وَأُفْطِرُ وَأُصَلِّي وَأَرْقُدُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي. بخاري: 5063

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন জনের একটি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ’ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের বাড়িতে আসল। যখন তাঁদেরকে এ সম্পর্কে জানানো হলো, তখন তারা ’ইবাদাতের পরিমাণ কম মনে করল এবং বলল, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমাদের তুলনা হতে পারে না।

কারণ, তাঁর আগের ও পরের সকল গুনাহ্ ক্ষমা ক’রে দেয়া হয়েছে। এমন সময় তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, আমি সারা জীবন রাতভর সালাত আদায় করতে থাকব। অপর একজন বলল, আমি সব সময় সওম পালন করব এবং কক্ষনো বাদ দিব না।

অপরজন বলল, আমি নারী সংসর্গ ত্যাগ করব, কখনও বিয়ে করব না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এলেন এবং বললেন, ’’তোমরা কি ঐ সব লোক যারা এমন এমন কথাবার্তা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশিঅনুগত।

অথচ আমি সওম পালন করি, আবার তা থেকে বিরতও থাকি। সালাত আদায় করি এবং নিদ্রা যাই ও মেয়েদেরকে বিয়েও করি। সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি বিরাগ পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়। -সহীহ্ বুখারী ৫০৬৩

হাদীস থেকে বুঝা গেল, ইসলামিক শিক্ষা হলো, একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে সম্পর্ক হবে বিয়ের মাধ্যেমে। এই হাদীসে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আমি মহিলাদেকে বিয়ে করি। সুতরাং তোমরা যারা আমার এই সুন্নত থেকে সরে যাবে সে আমার দলভূক্ত/উম্মত নয়।

সুতরাং যারা বিয়ের আগে কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক করে তারা ইসলামের পদ্ধতিতে সম্পর্ক করেনি। সম্পর্ক করেছে শয়তানের পদ্ধতিতে। বিয়ে ছাড়া মেয়েদের সাথে সম্পর্ক করার যত পদ্ধতি আছে সব হারাম ও শয়তানের পদ্ধতি।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏ “‏أُرِيتُكِ فِي الْمَنَامِ مَرَّتَيْنِ، إِذَا رَجُلٌ يَحْمِلُكِ فِي سَرَقَةِ حَرِيرٍ فَيَقُولُ هَذِهِ امْرَأَتُكَ، فَأَكْشِفُهَا فَإِذَا هِيَ أَنْتِ، فَأَقُولُ إِنْ يَكُنْ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ يُمْضِهِ”‏‏.‏ بخاري: 5078

’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’বার আমাকে স্বপ্নযোগে তোমাকে দেখানো হয়েছে। এক ব্যক্তি রেশমী কাপড়ে জড়িয়ে তোমাকে নিয়ে যাচ্ছিল, আমাকে দেখে বলল, এ হচ্ছে তোমার স্ত্রী। তখন আমি তার পর্দা খুললাম, আর সেটা হলে তুমি। তখন আমি বললাম, এ স্বপ্ন যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে তিনি বাস্তবে তা-ই করবেন। -সহীহ্ বুখারী ৫০৭৮

এই হাদীসেও বলা হয়েছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে স্বপ্নে নিজের স্ত্রী হিসেবে দেখেছেন এবং বলেছেন, এ স্বপ্ন যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় তাহলে তিনি বাস্তবেই তাকে আমার স্ত্রী বানাবেন।

তাহলে বুঝা গেল, একজন পুরুষ একজন মেয়ের সাথে সম্পর্ক করবে বিবাহের মাধ্যমে। অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে নয়। আরেকটি জিনিস এই হাদীস থেকে বুঝা গেছে, সেটা হলো, হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার বিয়ের বিষয়টি সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে।

সুতরাং এ বিয়ে নিয়ে যদি কেউ বাল্য বিবাহ ইত্যাদী প্রশ্ন তুলে তাহলে বুঝতে হবে সে সরাসরি আল্লাহর উপর প্রশ্ন উঠালো। আর যে আল্লাহর কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সে নিঃসন্দেহে নাস্তিক মুরতাদ, এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই।

عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قَالَ لِي ابْنُ عَبَّاسٍ هَلْ تَزَوَّجْتَ قُلْتُ لاَ قَالَ فَتَزَوَّجْ فَإِنَّ خَيْرَ هٰذِهِ الأُمَّةِ أَكْثَرُهَا نِسَاءً. بخاري: 5069

সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি বিয়ে করেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, বিয়ে কর। কারণ, এই উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির অধিক সংখ্যক স্ত্রী ছিল। -সহীহ্ বুখারী ৫০৬৯

এখানে দেখা যাচ্ছে, উস্তায ছাত্রকে জিজ্ঞেস করছে, তুমি বিবাহ করেছ? উত্তর ‘না’ শুনে উস্তায বললেন, ‍বিয়ে কর। কারণ, স্বয়ং নবীজীরই তো স্ত্রী ছিল, তিনি বিয়ে করেছেন। তাহলে তুমি বিয়ে করছো না কেন?

عن عَبْد اللهِ بن مسعود قال: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَبَابًا لاَ نَجِدُ شَيْئًا فَقَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّه أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّه لَه وِجَاءٌ. بخاري: 5066

’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমরা কতক যুবক ছিলাম; আর আমাদের কোন কিছু ছিল না। এই হালতে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। কেননা, সওম তার যৌনতাকে দমন করবে। -সহীহ্ বুখারী ৫০৬৬

এই হাদীসটি যারা এখনো বিয়ে করেনি তাদের জন্য। হাদীসে বলা হয়েছে, সামর্থ্য থাকলে বিয়ে, না থাকলে রোযা। যদি আপনার গুনাহ হয় তাহলে বিয়ে করেন। টাকা নাই তাহলে রোযা রাখেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আপনার গুনাহ হবে না। তাঁর কথা সত্য। আপনি পালন করেন দেখবেন আপনার গুনাহ হবে না।

তাহলে যৌবনের গুনাহ থেকে বাঁচার উাপায় দুইটি: বিয়ে না হয় রোযা। যুবক ভায়েরা তো এখন দামী দামী মোবাইল কিনেন। ৫০-৬০ হাজার টাকায়। এ টাকায় তো ইচ্ছা করলে বিয়েই করে ফেলা যায়। অনেকে বলে, বাবা-মা করায় না। হাদীস এর উত্তর দিয়ে দিয়েছে। আর তাহলো, টাকা থাকলে বিয়ে করবে, না হলে রোযা রাখবে। আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে বুঝার তাওফীক্ব দান করুন, আমীন।

عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏ “‏أَرْبَعٌ مِنْ سُنَنِ الْمُرْسَلِينَ الْحَيَاءُ وَالتَّعَطُّرُ وَالسِّوَاكُ وَالنِّكَاحُ ‏”‏.  ترمذي: 1080

আবূ আয়্যুব আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চারটি জিনিস নবীদের চিরাচরিত সুন্নাত। লজ্জা-শরম, সুগন্ধি ব্যবহার, মিসওয়াক করা এবং বিয়ে করা। -তিরমিযী ১০৮০

এই হাদীসে বলা হলো, বিয়ে করা এটা সমস্ত নবীদের সুন্নত। সুতরাং বিয়ে ছাড়া অবৈধভাবে সম্পর্ক করা হলো শয়তানের পদ্ধতি। আমাদের দায়িত্ব হলো, আমরা আমাদের সন্তানদেরকে অবৈধ সম্পর্ক থেকে রক্ষা করব। যদি তা করতে না পারি তাহলে আমি আপনি হবো আল্লাহর আদালতে সবচাইতে বড় জালেম। আমার আপনার কারণে দুনিয়াতে আযাব-গযব নাযিল হবে।

সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের ২য় কারণ: অবাধমেলামেশা

নিম্নে এ সম্পর্কীয় হাদীস উল্লেখ করা হলো:

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلٰى النِّسَاءِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ الْحَمْوُ الْمَوْتُ. بخاري: 5232

’উকবাহ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাক। এক আনসার জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! দেবরের ব্যাপারে কী হুকুম? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর হচ্ছে মৃত্যুতুল্য। -সহীহ্ বুখারী ৫২৩২

লক্ষ করুন, এই হাদীসে মহিলাদের কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। যেহেতু দেবর-ভাবী একই ফ্যামীলীতে থাকে, তাই সামনা সামনি হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। একারণে সাহাবী দেবর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। আর নবীজী উত্তর দিয়েছেন, দেবর তো মৃত্যুতুল্য। দেবর হলো, মরণ। তাহলে সবাই বলেন, দেবর, মরণ।

মানুষ মৃত্যু থেকে যেমন পালায়ন করে, নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়, দেবর ভাবী থেকে এবং ভাবী দেবর থেকে এভাবে পালায়ন করবে, নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।

বড় আফসোস লাগে! এখন কিছু পরিবার আছে, বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী একসাথে বসে ঘরের মধ্যে টিভি-সিনেমা দেখে। আরে গুনাহের বিষয় তো পরে। এভাবে এক সঙ্গে বসে মা-মেয়ে, বাবা-ছেলে এমন নির্লজ্জ কাজ কিভাবে করে? এরচাইতে নির্লজ্জ, বেহায়া তো আর জমিনে হতে পারে না।

আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগেও তো কেউ এসব কল্পনা করতে পারতো না। বাবার সাথে টিভি দেখবে তো দূরের কথা, বাবা-মা কেউ যেন জানতে না পারে সেজন্য অন্য গ্রামে গিয়ে টিভি দেখত। আর ভয়ে থাকত না জানি আব্বা জেনে ফেলল কি না। আর এখন সেই বাবাই ছেলে-মেয়ে কে একসাথে নিয়ে ঘরে বসে টিভি দেখে। মুসলামন হিসেবে বিন্দু পরিমাণ হায়া লজ্জা থাকলে কোন মুসলমান অন্তত এমন নির্লজ্জ কাজ করতে পারে না।

অনেকে বলবে, এটা তো একসাথে মিলে থাকা হলো। এটা নির্লজ্জতার কি হলো? আসলে মানুষ যখন তার লজ্জা হারিয়ে ফেলে তখন তার যবান দিয়ে যা ইচ্ছা তাই বের হয়। হাদীসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

وَحْشِيُّ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ أَصْحَابَ النَّبِيِّ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَأْكُلُ وَلَا نَشْبَعُ، قَالَ: فَلَعَلَّكُمْ تَفْتَرِقُونَ؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَاجْتَمِعُوا عَلَى طَعَامِكُمْ، وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ يُبَارَكْ لَكُمْ فِيهِ. أبو داود: 3764

ওয়াহশী ইবনু হারব থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খাবার খাই, কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারি না। তিনি বললেনঃ হয় তো তোমরা বিচ্ছিন্নভাবে খাও। তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা একত্রে আহার করো এবং খাদ্য গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের খাদ্যে বরকত দেয়া হবে। -আবু দাউদ ৩৭৬৪

তাহলে বরকত হবে, একতাবদ্ধ তৈরী হবে একসাথে খাবার খাওয়ার দ্বারা। অথচ আমরা সবাই একসাথে খাবার খাই না। ডাইনিং টেবিলে খাবার বাড়া থাকে। যে যখন আসে তখন খাবার খাচ্ছে। খাবারের সময় কারো সঙ্গে কারো সাক্ষাত নেই, অথচ টিভি-সিনেমা দেখার সময় সবাই একসাথে বসে ঘরের মধ্যে একটা সিনেমা হল বানিয়ে ফেলছি।

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ امْرَأَتِي خَرَجَتْ حَاجَّةً وَاكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا قَالَ ارْجِعْ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ. بخاري: 5232

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাহরামের বিনা উপস্থিতিতে কোন পুরুষ কোন নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে না। এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী হাজ্জ করার জন্য বেরিয়ে গেছে এবং অমুক অমুক জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য আমার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হাজ্জ সম্পন্ন কর। -সহীহ্ বুখারী ৫২৩৩

তাহলে একজন মহিলা ডাক্তারের চেম্বারে একাকী যায় কি করে, যার সাথে কোন মাহরাম নেই?

সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের ৩য় কারণ: পর্দাহিনতা

নিম্নে এ সম্পর্কীয় হাদীসগুলো উল্লেখ করা হলো :

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ يَخْرُجُ فِيْكُمْ قَوْمٌ تَحْقِرُوْنَ صَلَاتَكُمْ مَعَ صَلَاتِهِمْ وَصِيَامَكُمْ مَعَ صِيَامِهِمْ وَعَمَلَكُمْ مَعَ عَمَلِهِمْ وَيَقْرَءُوْنَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُوْنَ مِنْ الدِّيْنِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنْ الرَّمِيَّةِ يَنْظُرُ فِي النَّصْلِ فَلَا يَرَى شَيْئًا وَيَنْظُرُ فِي الْقِدْحِ فَلَا يَرَى شَيْئًا وَيَنْظُرُ فِي الرِّيْشِ فَلَا يَرَى شَيْئًا وَيَتَمَارَى فِي الْفُوْقِ. بخاري: 5058

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ভবিষ্যতে এমন সব লোকের আগমন ঘটবে, যাদের সালাতের তুলনায় তোমাদের সালাতকে, তাদের সওমের তুলনায় তোমাদের সওমকে এবং তাদের ’আমলের তুলনায় তোমাদের ’আমলকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে (অর্থাৎ অন্তরে) প্রবেশ করবে না।

এরা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে নিক্ষিপ্ত তীর ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়। আর শিকারী সেই তীরের আগা পরীক্ষা করে দেখতে পায়, তাতে কোন চিহ্ন নেই। সে তীরের ফলার পার্শ্বদেশে নযর করে; অথচ সেখানে কিছু দেখতে পায় না। শেষে ঐ ব্যক্তি কোন কিছু পাওয়ার জন্য তীরের নিম্নভাগে সন্দেহ পোষণ করে। -সহীহ্ বুখারী ৫০৫৮

দেখবেন সমাজে কিছু লোক আছে, মুতাওয়াল্লি, হাজী সাব। তারা অনেক সময় বলে সব ঠিক আছে হুজুর। বিয়ে বাড়ীর অনুষ্ঠানে একটু বিবি কে নিয়ে পর্দা ছাড়া যাওয়া যায় না? শরীয়ত এখানে একটু ছাড় দিতে পারে না? ……… ইত্যাদী, ইত্যাদী। আসলে তারা নামায রোযা হজ্ব সব করে, কুরআনও পড়ে, শুনে। কিন্তু এই কুরআন তাদের কন্ঠনালীর ভিতরে যায় না।

عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ خَطَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطًّا بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ مُسْتَقِيمًا قَالَ ثُمَّ خَطَّ عَنْ يَمِينِهِ وَشِمَالِهِ ثُمَّ قَالَ هَذِهِ السُّبُلُ وَلَيْسَ مِنْهَا سَبِيلٌ إِلَّا عَلَيْهِ شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ ثُمَّ قَرَأَ {وَإِنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ} أحمد: 4437

আর হাদীসের মধ্যে এসেছে, ‘আন নিসাউ হাবাইলুশ শাইতন’। হাদীসটি যয়ীফ। -সিলসিলাতুয যয়ীফা- ২৪৬৪। সুতরাং পর্দাহীন নারী একেকটা শয়তান। তারা পুরুষকে নিজের দিকে ডাকছে।

عن أبي إدريس الخولاني يقول سمعت حذيفة بن اليمان يقول كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنْ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا كُنَّا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ فَجَاءَنَا اللهُ بِهَذَا الْخَيْرِ فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ وَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ قَالَ نَعَمْ وَفِيهِ دَخَنٌ قُلْتُ وَمَا دَخَنُهُ قَالَ قَوْمٌ يَهْدُونَ بِغَيْرِ هَدْيِي تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ قُلْتُ فَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَ

رٍّ قَالَ نَعَمْ دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صِفْهُمْ لَنَا قَالَ هُمْ مِنْ جِلْدَتِنَا وَيَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ قَالَ تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ قُلْتُ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلاَ إِمَامٌ قَالَ فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ. بخاري: 7084

হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণের বিষয়াবলী জিজ্ঞেস করত। কিন্তু আমি তাঁকে অকল্যাণের বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম এ ভয়ে যে, অকল্যাণ আমাকে পেয়ে না বসে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো জাহিলীয়্যাত ও অকল্যাণের মাঝে ছিলাম। এরপর আল্লাহ্ তা’আলা আমাদেরকে এ কল্যাণের মধ্যে নিয়ে আসলেন।

এ কল্যাণের পর আবারও কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে এর মধ্যে কিছুটা ধূম্রজাল থাকবে। আমি প্রশ্ন করলাম, এর ধূম্রজাল কিরূপ? তিনি বললেনঃ এক জামা’আত আমার তরীকা ছেড়ে অন্য পথ ধরবে। তাদের থেকে ভাল কাজও দেখবে এবং মন্দ কাজও দেখবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সে কল্যাণের পর কি আবার অকল্যাণ আসবে?

তিনি বললেন, হ্যাঁ। জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারী এক সম্প্রদায় হবে। যে ব্যক্তি তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে, তাকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের কিছু স্বভাবের কথা আমাদের বর্ণনা করুন। তিনি বললেনঃ তারা আমাদের লোকই এবং আমাদের ভাষায়ই কথা বলবে। আমি বললাম, যদি এমন অবস্থা আমাকে পেয়ে বসে, তাহলে কী করতে হুকুম দেন?

তিনি বললেনঃ মুসলিমদের জামা’আত ও ইমামকে আঁকড়ে থাকবে। আমি বললাম, যদি তখন মুসলিমদের কোন (সংঘবদ্ধ) জামা’আত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেনঃ তখন সকল দলমত ত্যাগ করে সম্ভব হলে কোন গাছের শিকড় কামড়িয়ে পড়ে থাকবে, যতক্ষণ না সে অবস্থায় তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়। -সহীহ্ বুখারী ৭০৮৪

প্রিয় ভায়েরা! বিভিন্ন শপের মধ্যে/ডাক্তারদের চেম্বারে দেখবেন নারীদেরকে চাকরী দেওয়া হয়েছে। চাকরী দাতারা সবাই একেকটা শয়তান। কারণ, সবগুলো মহিলার সৌন্দর্য প্রদর্শন করে কাস্টমার বাড়ানো উদ্দেশ্য। তানাহলে বলত, তোমরা হিজাব, বোরকা পরে আসো তাহলে চাকরী দিব। তাই বুঝা গেল এই সকল শপের মালিকরা প্রত্যেকেই মানুষকে জাহান্নামের দিকে ডাকছে।

হাদীস বলে

عن عبدالله بن عمرو أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال الدنيا متاع وخير متاع الدنيا المرأة الصالحة. مسلم: 1467

আর তারা এটাকে বানিয়েছে ব্যবসার পণ্য। আরে দামী জিনিস গোপনে থাকে। তাই তো আপনি যখন মার্কেট থেকে কাপর কেনেন, দেখেন স্যাপ্মল আর কিনে নেন যেটা ঢাকা আছে ইন্টেক সেটা। কারণ, স্যাম্পলের মধ্যে ময়লা লেগে আছে। যেই মহিলার পর্দা নেই তার পুরাটাই ময়লা আর গান্দা। তাই বিয়ে করলে এই মহিলাকে বিয়ে করা যায় না। দামী আর পিওর নিতে চাইলে ইন্টেক মেয়েকে যে পর্দাশীল তাকে নিতে হবে। -সহীহ্ মুসলিম ১৪৬৭

হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ “‏الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ ترمذي : 1173

আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিলারা হচ্ছে আওরাত (আবরণীয় বস্তু)। সে বাইরে বের হলে শাইতান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়।

কারণ, মিষ্টি খোলা থাকলে মাছি পড়বেই। দেখুন, আল্লাহ্ সবচাইতে দামী। তাই তাকে দেখা যায় না। হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ فَقَالَ‏ “‏إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لاَ يَنَامُ وَلاَ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَنَامَ يَخْفِضُ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُهُ يُرْفَعُ إِلَيْهِ عَمَلُ اللَّيْلِ قَبْلَ عَمَلِ النَّهَارِ وَعَمَلُ النَّهَارِ قَبْلَ عَمَلِ اللَّيْلِ حِجَابُهُ النُّورُ – وَفِي رِوَايَةِ أَبِي بَكْرٍ النَّارُ -لَوْ كَشَفَهُ لأَحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجْهِهِ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ بَصَرُهُ مِنْ خَلْقِهِ”‏ ‏. مسلم: 179

আবূ মূসা (রাযিঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে দাড়িয়ে পাঁচটি কথা বললেনঃ (১) আল্লাহ কখনোনিদ্রা যান না। (২) নিদ্রিত হওয়া তার সাজেও না। (৩) তিনি তাঁর ইচ্ছানুসারে মীযান (দাড়িপাল্লা) নামান এবং উত্তোলন করেন।

(৪) দিনের পূর্বেই রাতের সকল আমল তার কাছে পেশ করা হয়। রাতের পূর্বেই দিনের সকল আমল তার কাছে পেশ করাহয়। (৫) তিনি নূরের পর্দায় আচ্ছাদিত। আবূ বকর (রাযিঃ)-এর আরেক বর্ণনায়النُّورُ (আলো) এর পরিবর্তে النَّارُ (আগুন) শব্দের উল্লেখ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি সে আবরণ খুলে দেয়া হয়, তবে তার নূরের আলোকচ্ছটা সৃষ্টি জগতের দৃশ্যমান সব কিছু ভস্ম করে দিবে।‏ -সহীহ্ মুসলিম ১৭৯

عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ وَافَقْتُ رَبِّي فِي ثَلاَثٍ، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اتَّخَذْنَا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى فَنَزَلَتْ ‏(‏وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى‏)‏ وَآيَةُ الْحِجَابِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ أَمَرْتَ نِسَاءَكَ أَنْ يَحْتَجِبْنَ، فَإِنَّهُ يُكَلِّمُهُنَّ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ‏.‏ فَنَزَلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ، وَاجْتَمَعَ نِسَاءُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فِي الْغَيْرَةِ عَلَيْهِ فَقُلْتُ لَهُنَّ عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبَدِّلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ‏.‏ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ‏.‏ بخاري: 402

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.) বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আল্লাহর ওয়াহীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাতে পারতাম! তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাও’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১২৫)।

(দ্বিতীয়) পর্দার আয়াত, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আপনার সহধর্মিণীগণকে পর্দার আদেশ করতেন! কেননা, সৎ ও অসৎ সবাই তাঁদের সাথে কথা বলে। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হয়। আর একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণ অভিমান সহকারে একত্রে তাঁর নিকট উপস্থিত হন। তখন আমি তাঁদেরকে বললামঃ ‘‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদের ত্বলাক (তালাক) দেন, তাহলে তাঁর রব তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম অনুগত স্ত্রী দান করবেন’’- (সূরাহ্ তাহরীম ৬৬/৫)। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।

হাদীসের মধ্যে ‘জিলবাব’ এর ব্যাখ্যা এসেছে,

…..وَكَانَ صَفْوَانُ بْنُ الْمُعَطَّلِ السُّلَمِيُّ ثُمَّ الذَّكْوَانِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْجَيْشِ فَأَدْلَجَ فَأَصْبَحَ عِنْدَ مَنْزِلِيْ فَرَأَى سَوَادَ إِنْسَانٍ نَائِمٍ فَأَتَانِيْ فَعَرَفَنِيْ حِيْنَ رَآنِيْ وَكَانَ رَآنِيْ قَبْلَ الْحِجَابِ فَاسْتَيْقَظْتُ بِاسْتِرْجَاعِهِ حِيْنَ عَرَفَنِيْ فَخَمَّرْتُ وَجْهِيْ بِجِلْبَابِيْ…..! بخاري: 4750

হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, নারীর চেহারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত। আশ্চরযের বিষয় হলো, এখন নারীরা এমন বোরকা বানায় যে, ৬০ বছরের বুড়িকে মনে হয় ১২ বছরের মেয়ে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَدًا إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمًا (53)

তাহলে কোন কিছু চাইলে চেহারা দেখে চাওয়ার কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে, কোন কিছু চাইলেও যেন তা পর্দার আড়াল থেকে চাওয়া হয়।

يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا (33)

এখানে তো কথা বলাকেও সতর বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, নারীদেরকে ঘরে থাকতে। তাছাড়া চেহারা যে সতরের অন্তর্ভুক্ত তা আরেকটি হাদীস থেকেও স্পষ্ট বুঝা যায়-

عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ نَبْهَانَ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ حَدَّثَتْهُ أَنَّهَا، كَانَتْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَيْمُونَةُ قَالَتْ فَبَيْنَا نَحْنُ عِنْدَهُ أَقْبَلَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ فَدَخَلَ عَلَيْهِ وَذَلِكَ بَعْدَ مَا أُمِرْنَا بِالْحِجَابِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏احْتَجِبَا مِنْهُ ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ هُوَ أَعْمَى لاَ يُبْصِرُنَا وَلاَ يَعْرِفُنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏أَفَعَمْيَاوَانِ أَنْتُمَا أَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ ترمذي: 2778

উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন যে, তিনি ও মাইমূনা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে হাযির ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা দু’জন তার নিকটে অবস্থানরত থাকতেই ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) তার নিকট এলেন। এটা পর্দার নির্দেশ অবতীর্ণ হওয়ার পরের ঘটনা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা উভয়ে তার থেকে পর্দা কর। আমি (উম্মু সালামা) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি কি অন্ধ নন? তিনি তো আমাদেরকে দেখতেও পারছেন না চিনতেও পারছেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরাও কি অন্ধ, তোমরাও কি তাকে দেখতে পাচ্ছ না। -তিরমিযী ২৭৭৮

এমনকি মহিলারা টাখনুর নিচ পর্যন্ত ঢেকে রাখবে। অথচ পুরুষের জন্য তা হারাম

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاَءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ فَكَيْفَ يَصْنَعْنَ النِّسَاءُ بِذُيُولِهِنَّ قَالَ ‏”‏ يُرْخِينَ شِبْرًا ‏”‏.‏ فَقَالَتْ إِذًا تَنْكَشِفَ أَقْدَامُهُنَّ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَيُرْخِينَهُ ذِرَاعًا لاَ يَزِدْنَ عَلَيْهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ ترمذي: 1731

ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গৰ্ব-অহংকারের বশীভূত হয়ে যে লোক তার পরনের কাপড় গোড়ালির নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত দিবসে তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না।

উম্মু সালামা (রাঃ) বললেন, মহিলারা তাদের কাপড়ের প্রান্ত বা আঁচল কিভাবে সামলাবে? তিনি বললেন, তারা (গোড়ালি হতে) এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে। তিনি (উম্মু সালামা) বললেন, এতে তো তাদের পা উদম হয়ে যাবে। তিনি বললেনঃ তবে তারা এক হাত পরিমাণ নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখবে, কিন্তু এর বেশি করবে না। -তিরমিযী ১৭৩১

وَ قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنٰتِ یَغۡضُضۡنَ مِنۡ اَبۡصَارِهِنَّ وَ یَحۡفَظۡنَ فُرُوۡجَهُنَّ وَ لَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَهُنَّ اِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَ لۡیَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰی جُیُوۡبِهِنَّ ۪ وَ لَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَهُنَّ اِلَّا لِبُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اٰبَآئِهِنَّ اَوۡ اٰبَآءِ بُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اَبۡنَآئِهِنَّ اَوۡ اَبۡنَآءِ بُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اِخۡوَانِهِنَّ اَوۡ بَنِیۡۤ اِخۡوَانِهِنَّ اَوۡ بَنِیۡۤ اَخَوٰتِهِنَّ اَوۡ نِسَآئِهِنَّ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُهُنَّ اَوِ التّٰبِعِیۡنَ غَیۡرِ اُولِی الۡاِرۡبَۃِ مِنَ الرِّجَالِ اَوِ الطِّفۡلِ الَّذِیۡنَ لَمۡ یَظۡهَرُوۡا عَلٰی عَوۡرٰتِ النِّسَآءِ ۪ وَ لَا یَضۡرِبۡنَ بِاَرۡجُلِهِنَّ لِیُعۡلَمَ مَا یُخۡفِیۡنَ مِنۡ زِیۡنَتِهِنَّ ؕ وَ تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰهِ جَمِیۡعًا اَیُّهَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ﴿۳۱﴾

আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে আর তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তবে যা সাধারণত প্ৰকাশ হয়ে থাকে। আর তারা তাদের গলা ও বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে।

আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীরা তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে ফিরে আস যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। -সুরা নূর ৩১

সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের ৪র্থ কারণ: দৃষ্টির অপব্যবহার

عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا اسْتَعْطَرَتِ الْمَرْأَةُ، فَمَرَّتْ عَلَى الْقَوْمِ لِيَجِدُوا رِيحَهَا، فَهِيَ كَذَا وَكَذَا (يعني زانية) قَالَ قوْلًا شَدِيدًا. أبوداود: 4173

আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নারীরা যখন সুগন্ধি লাগিয়ে জনসমাজকে এর গন্ধ বিলানোর জন্য তাদের পাশ দিয়ে যাতায়াত করে, সে তখন এরূপ এরূপ। একথা বলে তিনি একটি কঠোর মন্তব্য করেন। -আবু দাউদ ৪১৭৩

সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের ৫ম কারণ: পরকিয়া

عن أَبي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قال: “‏إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا، أَدْرَكَ ذَلِكَ لاَ مَحَالَةَ، فَزِنَا الْعَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا اللِّسَانِ الْمَنْطِقُ، وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي، وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ كُلَّهُ وَيُكَذِّبُهُ ‏”‏‏.‏ بخاري: 6243

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা বনী আদমের জন্য যিনার একটা অংশ নির্ধারিত রেখেছেন। সে তাতে অবশ্যই জড়িত হবে। চোখের যিনা হলো দেখা, জিহবার যিনা হলো কথা বলা, কুপ্রবৃত্তি কামনা ও খাহেশ সৃষ্টি করা এবং যৌনাঙ্গ তা সত্য অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে। -সহীহ্ বুখারী ৬২৪৩

Check Also

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন?

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন? প্রবন্ধটি তালাকের ক্ষেত্রে একটি সহজ সরল উপস্থাপন। এতে একজন স্বামী তার …

সালাফী আকীদা বনাম দেওবন্দী আকীদা, পর্ব- ৪

সালাফী আকীদা; মহান আল্লাহর আরেকটি বিশেষণ আরশের উপর ইসতিওয়া সালাফী আকীদা প্রসঙ্গে আরেকটি বিষয় সামনে আসে, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!