হোম / যাকাত অধ্যায় / ২০২৪ সালের যাকাতের নিসাব কত?

২০২৪ সালের যাকাতের নিসাব কত?

প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

২০২৪ সালের যাকাতের নিসাব কত? আমি মুহা. আমজাদ হুসাইন। ঢাকা থেকে। আমার জানার বিষয় হলো, বর্তমানে যাকাতের নিসাব কত? কত টাকা হলে আমার যাকাত দিতে হবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর:

ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

২০২৪ সালের যাকাতের নিসাব কত?

আপনি জানতে চেয়েছেন ২০২৪ সালের যাকাতের নিসাব কত? অর্থাৎ, ২০২৪ সনে আমরা কত টাকার মালিক  হলে যাকাত দিব। নেসাবটা কি? এসম্পর্কে আরো কিছু প্রশ্ন করা হয় যেগুলোর উত্তর একই। যথা:

  1. সম্পদের কত অংশ যাকাত দিতে হয়?
  2. যাকাত কাদের উপর ফরজ?
  3. নিসাব পরিমাণ সম্পদ কত টাকা
  4. বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়?
  5. বর্তমানে যাকাতের নিসাব কত ২০২৪?

এবার আপনার প্রশ্ন ২০২৪ সালের যাকাতের নিসাব কত? শুনুন

নেসাব হল যাকাতযোগ্য সম্পদের শরীয়ত নির্ধারিত পরিমাণ। সম্পদের ধরনভেদে নেসাবের পরিমাণও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন, স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নেসাব হল ২০ মিসকাল। বর্তমান সময়ের হিসাবে সাড়ে সাত ভরি বা ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ। -সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক  হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২

আর রুপার নেসাব হল ২০০ দিরহাম। বর্তমান সময়ের হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন ভরি বা ৬১২.৩৬ গ্রাম রুপা। এ পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলে যাকাত ফরয হবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৪৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৭৯

যেহেতু স্বর্ণ রুপার দাম উঠা-নামা করে তাই একুরেট হিসাব আপনি যখন আদায় করবেন তখন কোনভাবে জেনে নিবেন। বর্তমানে সাধারণত ৬৬-৭২ হাজার টাকার মাঝামাঝি থাকবে। এ হিসেবে ২০২৪ সালে যাকাতের নিসাব কত? তা আপনি নিজে বের করতে পারবেন। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।

عَنْ عَلِيٍّ، – رضى الله عنه – قَالَ زُهَيْرٌ أَحْسَبُهُ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏”‏ هَاتُوا رُبْعَ الْعُشُورِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ شَىْءٌ حَتَّى تَتِمَّ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَإِذَا كَانَتْ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ فَمَا زَادَ فَعَلَى حِسَابِ ذَلِكَ وَفِي الْغَنَمِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ إِلَا تِسْعًا وَثَلَاثِينَ فَلَيْسَ عَلَيْكَ فِيهَا شَىْءٌ ‏”‏ ‏.‏

وَسَاقَ صَدَقَةَ الْغَنَمِ مِثْلَ الزُّهْرِيِّ قَالَ ‏”‏ وَفِي الْبَقَرِ فِي كُلِّ ثَلَاثِينَ تَبِيعٌ وَفِي الأَرْبَعِينَ مُسِنَّةٌ وَلَيْسَ عَلَى الْعَوَامِلِ شَىْءٌ وَفِي الإِبِلِ ‏”‏ ‏.‏ فَذَكَرَ صَدَقَتَهَا كَمَا ذَكَرَ الزُّهْرِيُّ قَالَ ‏”‏ وَفِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ خَمْسَةٌ مِنَ الْغَنَمِ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَةُ مَخَاضٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ إِلَى خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْجَمَلِ إِلَى سِتِّينَ ‏”‏ ‏.‏

ثُمَّ سَاقَ مِثْلَ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ قَالَ ‏”‏ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً – يَعْنِي وَاحِدَةً وَتِسْعِينَ – فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْجَمَلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الإِبِلُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَلَا يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ وَلَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَلَا تُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلَا ذَاتُ عَوَارٍ وَلَا تَيْسٌ إِلَا أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَفِي النَّبَاتِ مَا سَقَتْهُ الأَنْهَارُ أَوْ سَقَتِ السَّمَاءُ الْعُشْرُ وَمَا سَقَى الْغَرْبُ فَفِيهِ نِصْفُ الْعُشْرِ ‏”‏ ‏.‏

وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ وَالْحَارِثِ ‏”‏ الصَّدَقَةُ فِي كُلِّ عَامٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ زُهَيْرٌ أَحْسَبُهُ قَالَ ‏”‏ مَرَّةً ‏”‏ ‏.‏ وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ ‏”‏ إِذَا لَمْ يَكُنْ فِي الإِبِلِ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَلَا ابْنُ لَبُونٍ فَعَشَرَةُ دَرَاهِمَ أَوْ شَاتَانِ ‏”‏ ‏.

’আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। যুহাইর (রহঃ) বলেন, আমার ধারনা, এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা প্রতি চল্লিম দিরহামে এক দিরহাম (যাকাত) দিবে এবং দুইশো দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন যাকাত নেই। আর দুইশো দিরহাম পূর্ণ হলে তাতে পাঁচ দিরহাম দিতে হবে এবং এর অতিরিক্ত হলে, উপরোক্ত হিসাব অনুযায়ী দিতে হবে।

ছাগলের যাকাত হলো, প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি বকরী। বকরীর সংখ্যা ঊনচল্লিশ হলে যাকাত হিসেবে তোমার উপর কিছুই ওয়াজিব নয়। অতঃপর বকরীর হিসাব ও যাকাত যুহরীর বর্ণনানুযায়ী বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, গরুর যাকাত হচ্ছে, প্রতি ত্রিশটি গরুর জন্য পূর্ণ এক বছর বয়সী একটি বাছুর এবং চল্লিশটির জন্য পূর্ণ দুই বছরের একটি বাছুর। তবে কৃষিকাজে নিয়োজিত পশুর যাকাত নেই।

উটের যাকাতও যুহরীর বর্ণনানুরূপ দিতে হবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ পঁচিশটি উটের জন্য পাঁচটি বকরী এবং একটিও বর্ধিত হলে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত একটি বিনতু মাখাদ দিতে হবে। বিনতু মাখাদ না থাকলে একটি ইবনু লাবূন দিবে। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে ষাট পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী একটি হিককাহ দিতে হবে। অতঃপর যুহরীর হাদীসের বর্ণনানুরূপ।

তিনি বলেনঃ যদি একটিও বর্ধিত হয় অর্থাৎ একানব্বই হয়, তা থেকে একশো বিশ পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী দু’টি হিককাহ দিবে। আর যাকাত দেয়ার ভয়ে একত্রকে বিচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্নকে একত্র করা যাবে না। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ এবং দোষযুক্ত পশু গ্রহণ করা যাবে না এবং কোনো পাঠাও নেয়া যাবে না। তবে আদায়কারী নিতে চাইলে নিতে পারবে।

শস্যের যাকাত হচ্ছে, ভুমি নদ-নদী অথবা বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চিত হলে ’উশর’ দিতে হবে (এক-দশমাংশ)। আর যেসব ভূমিতে পানিসেচ করতে হয় তাতে দিতে হবে বিশ ভাগের এক ভাগ। ’আসিম ও হারিসের হাদীসে এটাও রয়েছে, যাকাত প্রতি বছরই দিতে হবে। যুহাইর বলেন, আমার ধারণা, প্রতি বছর একবার বলেছেন। ’আসিমের হাদীসে রয়েছে, বিনতু মাখাদ ও ইবনু লাবূন না থাকলে দশ দিরহাম অথবা দু’টি বকরী প্রদান করতে হবে। -আবু দাঊদ, ১৫৭২

عَنْ عَلِيٍّ، – رضى الله عنه – عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم بِبَعْضِ أَوَّلِ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ ‏”‏ فَإِذَا كَانَتْ لَكَ مِائَتَا دِرْهَمٍ وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ وَلَيْسَ عَلَيْكَ شَىْءٌ – يَعْنِي فِي الذَّهَبِ – حَتَّى يَكُونَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا فَإِذَا كَانَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا نِصْفُ دِينَارٍ فَمَا زَادَ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَلَا أَدْرِي أَعَلِيٌّ يَقُولُ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ ‏.‏ أَوْ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم ‏”‏ وَلَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ ‏”‏ ‏.‏ إِلَا أَنَّ جَرِيرًا قَالَ ابْنُ وَهْبٍ يَزِيدُ فِي الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم ‏”‏ لَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ ‏”‏ ‏

’আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসের প্রথম দিকের কিছু অংশ বর্ণনার পর বলেন, তিনি বলেছেন, তোমার কাছে দুইশো দিরহাম থাকলে এবং তা পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে পাঁচ দিরহাম (যাকাত) দিবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে বিশ দীনারের কমে যাকাত নেই।

বিশ দীনারে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে অর্ধ দীনার যাকাত দিতে হবে। এরপর যা বাড়বে তাতে উপরোক্ত হিসেবে যাকাত দিতে হবে। বর্ণনাকারী বলেন, ’’উপরোক্ত হিসেবে যাকাত দিতে হবে’’ এটা ’আলীর (রাঃ) কথা নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তা আমার জানা নেই। আর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্পদেই যাকাত দিতে হয় না।

ইবনু ওয়াহব বলেন, জারীর তার বর্ণনায় বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক বছর অতিবাহিত না হলে কোনো সম্পদেই যাকাত নেই। -আবু দাঊদ, ১৫৭৩

عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ مِنْ الإِبِلِ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو سَمِعَ أَبَاهُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচের কম সংখ্যক উটের উপর যাকাত নেই, পাঁচ উকিয়া-এর কম পরিমাণ রূপার উপর যাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসক-এর কম পরিমাণ উৎপন্ন দ্রব্যের উপর সাদাকা (উশর) নেই।আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি শুনেছি। -সহীহ্ বুখারী, ১৪৪৭

আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিসের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Check Also

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন?

আপনি কিভাবে তালাক দিবেন? প্রবন্ধটি তালাকের ক্ষেত্রে একটি সহজ সরল উপস্থাপন। এতে একজন স্বামী তার …

আল্লাহু আকবার বাক্যে আলিফ অথবা ‘বা’ টেনে পড়লে নামাজ ভেঙ্গে যাবে কি?

প্রশ্ন :  আল্লাহু আকবার বাক্যে আলিফ অথবা ‘বা’ টেনে পড়লে নামাজ ভেঙ্গে যাবে কি? জনৈক …

২ comments

  1. মাশাআল্লাহ্। সুন্দর আলোচনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!