হোম / কিতাব / উমরা গাইডলাইন বই

উমরা গাইডলাইন বই

উমরা গাইডলাইন বই একটি সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্ত কিতাব। কিতাবটি আমাদের সকলের উপযুক্ত ও সাবলীলতার দিক থেকে উচ্চমানের। বইটি সাধারণ থেকে সাধারণ মানুষও পড়তে পারবেন এবং সহজেই উপকৃত হতে পারবেন। কলেবরেও একদম ছোট হওয়ায় সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য খুবই সহজ।   

উমরা গাইডলাইন বই 

এক কথায় বইটি উমরার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। যে কেউ বইটি হাতে নিয়ে উমরার আমলগুলো একের পর এক করে যেতে পারবেন। বইটির ডাউনলোড লিংক আমরা নীচে দিয়ে দিব। সেখান থেকে ডাউনলোড করে নিন। 

উমরা গাইডলাইন বই এর কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করা হলো : 

উমরার ফযীলত

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, এক উমরা অন্য উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সকল কিছুর কাফফারা। আর মাবরূর হজ্বের একমাত্র প্রতিদান হল জান্নাত। -সহীহ্ বুখারী, ১৭৭৩; মুসলিম, ১৩৪৯

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “‏تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা হাজ্জ ও উমরা পরপর একত্রে আদায় কর। কেননা, এ হাজ্জ ও উমরা দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে দেয়, লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা যেমনভাবে হাপরের আগুনে দূর হয়। একটি কুবুল হাজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়। -তিরমিযী ৮১০

عَنْ هَرِمِ بْنِ خَنْبَشٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏ “‏عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حِجَّةً ‏”‏ ‏.‏

হারিম ইবনে খানবাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য। -ইবনে মাজাহ ২৯৯২; বুখারী ১৮৬৩

عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ اسْتَأْذَنَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الْعُمْرَةِ فَقَالَ‏ “‏أَىْ أُخَىَّ أَشْرِكْنَا فِي دُعَائِكَ وَلاَ تَنْسَنَا‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.

উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি উমরা করার লক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সম্মতি চান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে স্নেহের ভাই! তোমার দু’আয় আমাদেরকেও অংশীদার করবে এবং আমাদেরকে ভুলে যেও না। -তিরমিযী ৩৫৬২

عن أبي هريرة رضــــ. قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : وفد الله ثلاثة الغازي والحاج والمعتمر.

হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তি আল্লাহর প্রতিনিধি। জিহাদে অংশগ্রহণ করে ফিরে আসা গাজী, হাজী ও উমরা আদায়কারী। -নাসায়ী ২৬২৫

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ‏ “‏الْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْحَاجُّ وَالْمُعْتَمِرُ وَفْدُ اللَّهِ دَعَاهُمْ فَأَجَابُوهُ وَسَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ ‏”‏ ‏.‏

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর পথের সৈনিক, হজ্জযাত্রী ও উমরা যাত্রীগণ আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা আল্লাহর নিকট দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন এবং কিছু চাইলে তা তাদের দান করেন। -ইবনে মাজাহ ২৮৯৩

উমরা আদায় করা সুন্নত

عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الْعُمْرَةِ أَوَاجِبَةٌ هِيَ قَالَ  “‏لاَ وَأَنْ تَعْتَمِرُوا هُوَ أَفْضَلُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো উমরা করা কি ওয়াজিব? তিনি বললেনঃ না, তবে তোমরা উমরা করলে তা অতিশয় ভাল। -তিরমিযী ৯৩১

উক্ত হাদীস ও অন্যান্য দলীলের আলোকে হানাফী ও মালেকী মাযহাবের ফকীহগণের নিকট অগ্রগণ্য মত হলো, উমরা করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

-ফাতাওয়া শামী ২/৪৭২; ফাতহুল মুলহিম ৬/১১৯

ইমাম তিরমিযী রহ. উপরোক্ত হাদীস উল্লেখ করার পর বলেন,

قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا الْعُمْرَةُ لَيْسَتْ بِوَاجِبَةٍ ‏.‏ وَكَانَ يُقَالُ هُمَا حَجَّانِ الْحَجُّ الأَكْبَرُ يَوْمَ النَّحْرِ وَالْحَجُّ الأَصْغَرُ الْعُمْرَةُ ‏.‏ وَقَالَ الشَّافِعِيُّ الْعُمْرَةُ سُنَّةٌ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَخَّصَ فِي تَرْكِهَا وَلَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ ثَابِتٌ بِأَنَّهَا تَطَوُّعٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِإِسْنَادٍ وَهُوَ ضَعِيفٌ لاَ تَقُومُ بِمِثْلِهِ الْحُجَّةُ وَقَدْ بَلَغَنَا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يُوجِبُهَا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى كُلُّهُ كَلاَمُ الشَّافِعِيِّ ‏.‏

নারীদের উমরা করার জন্য সঙ্গে মাহরাম পুরুষ থাকতে হবে

মাহরাম পুরুষ ব্যতিত নারীদের জন্য উমরা ও হজ্বের সফরে বের হওয়া জায়েয নয়। -মুসলিম ১৩৪০

উমরা করলে হজ্ব ফরজ হয়ে যায় না

মানুষকে বলতে শোনা যায়, উমরা করতে গেলে বা কা‘বা শরীফ দেখলে হজ্ব ফরজ হয়ে যায়। এ কথাটি সঠিক নয়।

ইহরামের নিয়ম

এতক্ষণ ইহরামের প্রস্তুতি পর্ব শেষ হলো। এখন ইহরাম বাঁধার পালা। প্রথমে পুরুষ হলে টুপি বা মাথার কাপড় খুলে ফেলতে হবে। মুখমণ্ডল ও তার উপরের অংশ মাথার অন্তর্ভুক্ত। তাই ইহরাম গ্রহণকারী থুতনী থেকে উপরের কোনো অংশ আবৃত করবে না। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস : ১৪৪৫২

অতপর: তামাত্তু হজ্বকারী উমরার নিয়ত করবে। -সহীহ বুখারী, ১৫৬২

ইহরামের মূল বিষয় হচ্ছে উমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠ করা। এর দ্বারাই ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যায়। -সহীহ মুসলিম, ১১৮৪

তাই উমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠের মাধ্যমেই আপনার ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যাবে। তালবিয়া হলো, লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা। লব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইকা। ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলকা। লা শারীকা লাকা। -সহীহ মুসলিম, ১১৮৪; সহীহ্ বুখারী ১৫৪৯

পুরুষগণ উচ্চ স্বরে তালবিয়া পাঠ করবে এবং মহিলাগণ নিম্নস্বরে। -জামে তিরমিযী ৮২৯; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১৪৮৮২

পূর্ণ তালবিয়া পাঠ করতে হবে। এর কিছু অংশ ছেড়ে দেওয়াও মাকরূহ। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস : ১৩৬৩৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৩

তালবিয়ার উক্ত দুআর স্থলে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, কালিমা তাইয়্যিবা বা কোনো জিকির পাঠ করলেও ইহরাম সম্পন্ন হবে। কিন্তু তালবিয়া ছাড়া অন্য কিছু পাঠ করা মাকরূহ। তাই তালবিয়া পাঠ একান্ত অসম্ভব হলে আল্লাহ তাআলার কোনো জিকিরের মাধ্যমে ইহরাম গ্রহণ করবে। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১৪৯৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৮৩

নোট : তালবিয়া পড়ে ইহরাম বাঁধা হয়ে গেলে দরুদ শরীফ পড়ে প্রাণ খুলে দুআ‘ করুন। কারণ, এসময় দুআ‘ কবুল হয়।

মাসআলা : কিরান হজ্বকারী ইহরাম করার সময় হজ্ব ও উমরার নিয়ত এক সাথে করবে। আর ইফরাদ হজ্বকারী শুধু হজ্বের নিয়ত করবে।   

হজ্ব বা উমরার গুরুত্বপূর্ণ যিকির

ইহরাম সম্পন্ন করার পর থেকে বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করতে থাকুন। হজ্ব-উমরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ফযিলতপূর্ণ ‍যিকির এটিই। বিশেষত যে কোন স্থান ও অবস্থার পরিবর্তনে তালিবিয়া পড়ুন। যেমন- নামাযের পরে, বসলে, দাঁড়ালে, কোথাও যাত্রাকালে কারো সাথে সাক্ষাতের সময় তালবিয়া পড়ুন। -ইবনে আবী শাইবা ১২৮৯৫

ঋতুমতী মহিলার ইহরাম ও তালবিয়া

মহিলাগণ ওযর অবস্থায় অর্থাৎ মাসিক ঋতুস্রাব, সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব ইত্যাদি থাকলেও তালবিয়া পাঠ ও ইহরাম গ্রহণ করতে পারবে। হজ্বের অন্যান্য কাজও করা যাবে। তবে এ অবস্থায় তাওয়াফ করা ও নামায পড়া জায়েয নয়। -সুনানে আবু দাউদ, ১৭৪৪, আরো দেখুন, সহীহ্ মুসলিম ১২০৯, ১২১০

তবে পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় মসজিদে হারামে প্রবেশ ও তাওয়াফ করা নিষেধ। তাই পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।

ইহরামের হালতেও মহিলাদের চেহারা ঢাকা থাকবে

ইহরামের হালতেও মহিলাদের জন্য পরপুরুষের সামনে চেহারা খোলা নিষেধ। তাই এ অবস্থায় এমনভাবে চেহারা আবৃত রাখা জরুরি যাতে মুখমণ্ডলের সঙ্গে কাপড় লেগে না থাকে। এখন এক ধরনের ক্যাপ পাওয়া যায়, যা পরিধান করে সহজেই চেহারার পর্দা করা যায়।

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হজ্বের ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। হাজ্বীদের কাফেলা যখন আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করত তখন আমরা মাথা থেকে চেহারার উপর চাদর ঝুলিয়ে দিতাম। যখন তারা আমাদেরকে অতিক্রম করে যেত তখন চাদর সরিয়ে ফেলতাম। -আবু দাউদ ১৮৩৩, ইবনে মাজাহ্ ২৯৩৫

হযরত আলী রা. মহিলাদেরকে নিষেধ করতেন তারা যেন ইহরাম অবস্থায় নেকাব ব্যবহার না করে। তবে চেহারার উপর দিয়ে কাপড় ঝুলিয়ে দিবে। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১৪৫৩৯; আরো দেখুন, আদিল্লাতুল হিজাব ৩২৯-৩৩৪

তাবেয়ী তাউস রাহ. থেকেও উপরোক্ত সিদ্ধান্ত বর্ণিত হয়েছে। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১৪৫৪০

নীচের লিংক থেকে বইটি ডাউনলোড করে নিন- 

ডাউনলোড   

আহলে সালাফ মিডিয়া সার্ভিসের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য জাযকাল্লাহ্।

Check Also

আমার মদিনা যিয়ারাহ

আমার মদিনা যিয়ারাহ সম্পর্কে আজ পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। কলামটি গুরুত্তের সাথে কেউ …

নামাজে বাংলায় দুআ করা

আসসালামু আলাইকুম প্রশ্ন নামাজে বাংলায় দুআ করা। যেকোনো ফরজ/সুন্নত/নফল নামাযের সিজদায়, দুই সিজদার মাঝে, রুকুতে, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!